আইপিএলে ঝোড়ো ব্যাটিং করে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে বৈভব সূর্যবংশী। প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলতে পারার ক্ষমতার জন্য সে পরিচিত। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসাবেই ভারতের সিনিয়র টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেয়েছে তরুণ এই ব্যাটার। তবে বৈভবের দাবি, শুধু ছোট ফরম্যাটের ক্রিকেটার নয়, টেস্ট ক্রিকেটের জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করছে।
রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার রোমি ভিন্দরের সঙ্গে আলাপচারিতায় বৈভবের মন্তব্য, “অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাই কি না। আমি তাদের বলি, এখন থেকেই লাল বলে নিয়মিত অনুশীলন করছি। রাজ্যের হয়ে অনেক লাল বলের ম্যাচ খেলেছি এবং এখনও খেলছি। টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য আমি প্রস্তুত।”
নিজের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে বৈভবের বক্তব্য, আগ্রাসী ব্যাটিং দেখেই অনেকেই মনে করেন তিনি শুধু টি-টোয়েন্টি খেলতেই স্বচ্ছন্দ। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি ফরম্যাটের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন তিনি। বৈভব বলেন, “আমি লাল বলের ক্রিকেটও খেলতে চাই। টি-টোয়েন্টিতে চার-ছক্কার প্রয়োজন বেশি বলেই ওইভাবে ব্যাট করি। যে ফরম্যাটে যেমন খেলা দরকার, আমি সেভাবেই খেলব। ভারতের হয়ে তিনটি ফরম্যাটেই খেলাই আমার স্বপ্ন। বাকিটা ঈশ্বরের হাতে।”
মাত্র ১২ বছর বয়সে বিহারের হয়ে রনজি ট্রফিতে অভিষেক হয়েছিল বৈভবের। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ৫৮ বলে শতরান করে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছে বাঁহাতি তারকা। পরের বছর ব্রিসবেনে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি। অনূর্ধ্ব-১৯ টেস্টে দু'টি সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটারও বৈভব। বৈভবের টেস্ট ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশংসা করেছেন চেতেশ্বর পূজারা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের মতে, বৈভব ভবিষ্যতে ভারতের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সফল হতে পারে। অশ্বিন তো এমনও মত দিয়েছেন, ভারতের টেস্ট দলে যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে ওপেনার হিসাবে বৈভবকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তরুণ ব্যাটারের বর্তমান ফর্মকে কাজে লাগানোর পরামর্শও দিয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। আর বৈভব নিজেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ নিতে সে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
