২০১৯ সালে বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে তাঁর সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়। 'থ্রি ডি' ক্রিকেটার নামে পরিচিত হলেও, ভারতের জার্সিতে কখনই নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বিজয় শঙ্কর। আইপিএলে একাধিক দলে খেলেছেন। তবে সেখানেও খুব একটা সফল নন। ক্রমাগত দেশের ক্রিকেট ভক্তদের 'ঘৃণা ও নেতিবাচক' মানসিকতায় অবশেষে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন বিজয়। সোশাল মিডিয়ায় ক্রিকেটকে বিদায়বার্তায় একরাশ হতাশা উগরে দিয়েছেন তামিলনাড়ুর অলরাউন্ডার।
সোশাল মিডিয়ায় বিজয় লিখেছেন, 'ক্রিকেট আমার জীবন। দেশের হয়ে খেলা আমার কাছে সবচেয়ে গর্বের ও খুশির মুহূর্ত। ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএল থেকে আমি অবসর নিলাম। ভারতের ৫০০তম ওয়ানডেতে শেষ বল করেছি ও ২০১৯-র বিশ্বকাপের প্রথম বলে উইকেট পাওয়া আমার কাছে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আইপিএলের দলগুলোতে খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছি বলেই এই জায়গায় এসেছি।' তবে বিদেশের লিগে খেলেছেন। সব শেষে তিনি লেখেন, 'অবিশ্বাস্য ঘৃণা ও নেতিবাচকতার মুখোমুখি হয়েছি। এখন বলি, সেই সব কিছুকে আমি অবজ্ঞা করে এগিয়ে গিয়েছি। যদি আমি সেটা পারি, সবাই পারবে। ইতিবাচক ভেবে এগিয়ে চলুন। ক্রিকেট আমাকে জীবনের শিক্ষা দিয়েছে।' শেষে নিজেকে 'থ্রি ডি' ক্রিকেটার বলে উল্লেখ করেছেন বিজয়।
২০১৮ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে অভিষেক। পরে ওয়ানডে দলেও ডাক পান। ৯টি টি-টোয়েন্টিতে ১০১ রান ও ৫টি উইকেট তুলেছেন। অন্যদিকে ১২টি ওয়ানডেতে রান ২২৩ ও উইকেট ৪। কোনও সেঞ্চুরি বা হাফসেঞ্চুরি নেই। ২০১৯-র বিশ্বকাপ দলে অম্বাতি রায়ডুর বদলে বিজয় সুযোগ পাওয়ায় বিতর্ক হয়। তখন নির্বাচকরা যুক্তি দিয়েছিলেন, দলে 'থ্রি ডি' ক্রিকেটার অর্থাৎ ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং জানা ত্রিমাত্রিক ক্রিকেটার দরকার। যদিও বিশ্বকাপের মাঝেই চোট পেয়ে যান। তার আগে নিদাহাস ট্রফিতে তাঁর ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য ফাইনাল প্রায় ফসকে যাচ্ছিল।
আইপিএলে ৭৮ ম্যাচে করেছেন ১২৩৩ রান। স্ট্রাইক রেট ১২৯। উইকেট সংখ্যা ৯। খেলেছেন চেন্নাই সুপার কিংস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাট টাইটান্সের হয়ে। একবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন। অবশেষে ৩৫ বছর বয়সে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বিজয়।
