অক্টোবরের শুরুতেই কলকাতায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভারত। সেই ম্যাচের আগে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। যাবতীয় পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুশীলনের মাঠ খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার কলকাতায় এল পাঁচ সদস্যের ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল।
বিকেল ৫টা ১০ মিনিট নাগাদ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের আধিকারিকরা। তার আগে তাঁরা নিউটাউনে ফেডারেশনের সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ঘুরে দেখেন। পরে যুবভারতী লাগোয়া পাঁচতারা হোটেলে গিয়ে ব্রাজিল ফুটবলারদের থাকার ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এর পর প্রতিনিধি দলের গন্তব্য ছিল যুবভারতী। অনুশীলনের মাঠ থেকে ড্রেসিংরুম, বাথরুম, গোলপোস্ট-সহ মাঠের সমস্ত খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়।
ছবি অমিত মৌলিক।
পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ব্রাজিল ফুটবল দলের জেনারেল সুপারভাইজার সের্জিও দিমাস দে অলিভেইরা, মার্কেটিং ও অপারেশন ম্যানেজার হোসে ভিটর সেনেটোর দে পাওলা লিমা, প্রশাসক ভিনিসিয়াস বারোজো কস্তা, ফিওলজিস্ট গুইলহার্মে পাসোস রামোস এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্রুনো ম্যাজেই রেইস। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত, প্রাক্তন ভারতীয় গোলরক্ষক সুব্রত পাল এবং রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
৩০ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত বিমানে কলকাতায় আসতে পারে ব্রাজিল দল। তার আগেই কলকাতার পরিকাঠামো ও আয়োজনের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে দেশে ফিরবেন ব্রাজিলের আধিকারিকরা। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত হবে সফরনামা। পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, "ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিকে আমরা সকলেই তাকিয়ে আছি। তার জন্য যা যা পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিষেবা দরকার, সব ব্যবস্থা করা হবে। যাতে বিশ্বকাপ স্তরের একটি ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা হয়। নিশ্চিন্ত থাকুন, দারুণ একটা ম্যাচ আমরা দেখতে চলেছি। মাঠ দেখেও ওনাদের খুব ভালো লেগেছে। তাছাড়াও টানেল থেকে শুরু করে বাইরের পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন টয়লেট নিয়েও তাঁদের কনসার্ন ছিল।"
ছবি অমিত মৌলিক।
মেসি-সফরের সময় যুবভারতীতে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচে না হয়, সে ব্যাপারে আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, "বর্তমান সরকার ডুরান্ড কাপের মতো ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্টেই একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের রিফর্মসও আনা হয়েছে। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠে তো সুন্দর ফুটবল আমরা দেখবই, পাশাপাশি গ্যালারি থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের পুরো অভিজ্ঞতাটাও যাতে ভালো হয়, সেটাও আমরা দেখব।"
ম্যাচের প্রস্তুতিতে একাধিক সরকারি দপ্তরকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁর কথায়, "সরকারের একাধিক দপ্তর একসঙ্গে কো-অর্ডিনেট করে ম্যাচের একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখবে।" এদিন ব্রাজিলিয়ান ফেডারেশনের আধিকারিকদের দুর্গামূর্তি উপহার দেন ইন্দ্রনীল। ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। সেই ম্যাচ ঘিরে এখন থেকে উন্মাদনার পারদ চড়ছে।
