আয়ারল্যান্ড সফরে সুযোগ মেলেনি। ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচে খেললেও সাফল্য আসেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, বড় মঞ্চে জন্য এখনও নাকি প্রস্তুত হয়ে ওঠেনি বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাট হাতে শাসন চালাল সে। এই প্রথমবার ভারতের সিনিয়র দলের জার্সিতে গোটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলল ‘বাঁহাতি বিস্ময়’। আর প্রথম সুযোগেই সিরিজসেরা হয়ে ইতিহাস ১৫ বছরের এই ব্যাটারের। পাশাপাশি জিম্বাবোয়েকে চুনকাম করে প্রত্যাবর্তনের মন্ত্র শোনালেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার।
বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সি ক্রিকেটার হিসাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছে বৈভব। তিন ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান তারই। দু'টি হাফসেঞ্চুরি-সহ তার মোট রানের যোগফল ৫০+২০+৮১ = ১৫১। যার ফলে ম্যাচের সেরার পাশাপাশি বাঁহাতি তুর্কির ঝুলিতে সিরিজসেরার পুরস্কারও। পুরস্কার হাতে নিয়ে বৈভবের মন্তব্য, "সত্যিই স্বপ্ন পূরণ হল। প্রথমবার ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার পেলাম। আমি খুবই খুশি।" তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দেশের জয়ই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। "টি-টোয়েন্টিতে আমি এভাবেই খেলি। সব সময় দলের জন্য ভালো শুরু করার চেষ্টা করি। সুযোগ পেলে বড় ইনিংস খেলি। আমার একটাই লক্ষ্য, দেশকে জেতানো। এর বাইরে আর কিছু ভাবি না।” বলছে বৈভব।
ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের রহস্য ফাঁস করে বৈভবের কথায়, "অনুশীলনেও আমি একইভাবে খেলি। সেখানে যা করি, ম্যাচে সেটাই প্রয়োগের চেষ্টা করি।" জিম্বাবোয়েতে নিজের সুখস্মৃতির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে বৈভব। ১৫ বছরের তারকার মন্তব্য, "এই মাঠে খেলতে আমার সব সময় ভালো লাগে। এখানেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছি। অধিনায়ক, কোচ ও দলের সবাই আমার উপর ভরসা রেখেছেন। সেই ভরসার মর্যাদা দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।"
অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও তরুণ ক্রিকেটারদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তিনি বলেন, "সবাই দেখেছে ওরা কতটা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলেছে। তরুণরা দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছে। অধিনায়ক হিসাবে এর থেকে বেশি কিছু চাওয়ার থাকে না।" দলের সাফল্যের রহস্য নিয়ে শ্রেয়স বলেন, "আমরা ফল নিয়ে ভাবিনি। সবাইকে বলেছিলাম নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, ভয় না পেয়ে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে হবে। ছেলেরা সেটাই করেছে। তাই আমরা জিতেছি।"
