তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। চলছে পকসো মামলা। বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার জেরে উত্তরপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থা তাঁর জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এর কয়েক মাস পর ক্রিকেট-জীবন ফের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করলেন যশ দয়াল। ২০২৬-২৭ মরশুমে বাঁহাতি পেসারকে দেখা যাবে ছত্তিশগড়ের জার্সিতে।
ইতিমধ্যেই নতুন দলের প্রাক্-মরশুম প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। এখন শুধু বিসিসিআইয়ের 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' হাতে পাওয়ার অপেক্ষা। গত বছরের আইপিএল ফাইনালের পর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দেখা যায়নি দয়ালকে। আইনি জটিলতার মধ্যেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু তাঁকে ধরে রাখলেও, ২০২৬ আইপিএলে খেলায়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আরসিবির ক্রিকেট ডিরেক্টর মো বোবাত জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দয়ালকে খেলানো ক্রিকেটার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি, কারও পক্ষেই সঠিক সিদ্ধান্ত হত না।
ইতিমধ্যেই নতুন দলের প্রাক্-মরশুম প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। এখন শুধু বিসিসিআইয়ের 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' হাতে পাওয়ার অপেক্ষা।
উত্তরপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে তলানিতে পৌঁছেছিল, তার ইঙ্গিত মিলেছিল ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগেই। প্রথমে গোরখপুর লায়ন্স তাঁকে দলে রাখলেও নিলামের পর চূড়ান্ত স্কোয়াডে তাঁর নাম ছিল না। সংস্থা মুখ না খুললেও দয়াল বুঝে গিয়েছিলেন, পুরনো দলে তাঁর ভবিষ্যৎ আর নেই। সেই কারণেই অন্য রাজ্যে পাড়ি দিলেন যশ। বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এনওসি পেলে অন্য রাজ্যের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা যায়। পাশাপাশি নিজের রাজ্যের ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগেও অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।
বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এনওসি পেলে অন্য রাজ্যের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা যায়।
নতুন দলে যোগ দিয়েই অনুশীলনে নেমে পড়েছেন দয়াল। কর্নাটকের আলুরে অময় খুরাসিয়ার তত্ত্বাবধানে চলছে ছত্তিশগড়ের প্রস্তুতি শিবির। সেখানে তাঁর সতীর্থদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের অফস্পিনার জয়ন্ত যাদব, অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ধর্মেন্দ্রসিংহ জাদেজা। তবে মাঠে ফেরার পাশাপাশি আইনি লড়াইও সমানতালে চলছে। গাজিয়াবাদের ২৭ বছর বয়সি এক মহিলা আইপিএল জয়ী পেসারের বিরুদ্ধে যৌনহেনস্তার অভিযোগ আনেন। তাঁর বক্তব্য, যশের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছর সম্পর্কে ছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন ক্রিকেটার। এমনকী আর্থিক দিক থেকেও তাঁকে শোষণ করা হয়েছে। সবটাই করা হয়েছে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে আরসিবি পেসারের। যদিও এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁকে গ্রেপ্তার থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে আরসিবি পেসারের। যদিও এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁকে গ্রেপ্তার থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিয়েছে।
এছাড়া জয়পুরে নাবালিকাকে ঘিরে দায়ের হওয়া পকসো মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছে বিশেষ আদালত। সেই মামলারও বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন হেনস্তা, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগে জয়পুরের সাঙ্গানের থানায় এফআইআর দায়ের করেছিল এক নাবালিকা। সে জানিয়েছে, এই পেসার তার ক্রিকেট কেরিয়ার তৈরি করে দেবে বলেছিলেন। তবে সেটা ছিল নিছকই অজুহাত। এই অজুহাতেই প্রায় আড়াই বছর ধরে তার উপর মানসিকভাবে অত্যাচার চালিয়েছেন, হুমকি দিয়েছেন, জয়পুর এবং কানপুরের হোটেল-সহ একাধিক জায়গায় তাকে ধর্ষণ করেছেন দয়াল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় শাস্তির খাঁড়া তাঁর সামনে। এই পরিস্থিতিতে ছত্তিশগড়ের জার্সিতে ক্রিকেটে ফিরতে মরিয়া ২৮ বছরের এই ক্রিকেটার।
