আচমকাই বাংলাদেশ সফরে জার্মানির বিশ্বজয়ী ফুটবলার মেসুট ওজিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তারিপ এর্দোগানের পুত্র বিলাল। সূত্রের খবর, এই সফর নিয়ে সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি। একপ্রকার চুপিসারেই তাঁরা চলে এসেছেন বাংলাদেশে। নতুন সরকার গঠনের পরদিনই তুরস্ক প্রেসিডেন্টের পুত্র কেন বাংলাদেশে পা রাখলেন, সেই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছয় তুরস্ক প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিমান। সেখান থেকে ওজিলরা যান 'টিকা'র দপ্তরে। এই টিকা হল তুরস্কের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা। তাদের অধীনে বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে বাংলাদেশে। উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদ নির্বাচনে জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জেতার পর ক্যাম্পাসে একটি মেডিক্যাল সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এই সেন্টারটি তৈরি হয়েছে 'টিকা'র আর্থিক সহায়তায়। জানা গিয়েছে, ওই সেন্টার উদ্বোধনেই এসেছিলেন ওজিলরা। সঙ্গে ছিলেন টিকার চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জার্মানির জার্সিতে বিশ্বকাপ জিতলেও ওজিল আসলে তুর্কি বংশোদ্ভূত। ফুটবল থেকে অবসরের পর তিনি ফিরে যান তুরস্কে। গতবছর তিনি যোগ দেন এর্দোগানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিতে। বর্তমানে তিনি দলের বোর্ড সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। বুধবার তাঁকে দেখতে রীতিমতো হইচই পড়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পুরো সময়টাই তিনি উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তবে ওজিল প্রচারের আলো শুষে নিলেও কূটনীতিকদের মনে উঁকি দিচ্ছে অন্য প্রশ্ন। তুরস্ক বরাবরই পাকিস্তানের 'বন্ধু'। অপারেশন সিঁদুরের সময়ে পাকিস্তানকে উদার হস্তে সাহায্য করেছিল তারা। তুরস্কের এই 'টিকা' সংগঠনের বিরুদ্ধেও রয়েছে ভূরি ভূরি অভিযোগ। আর্থিক সহায়তার আড়ালে উগ্র ইসলামপন্থী নাশকতায় মদতের অভিযোগ রয়েছে। তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বার্তা দিয়েছে ভারত। কিন্তু তারেকের শপথের পরদিনই ঢাকায় পা রাখল নয়াদিল্লির 'শত্রু' দেশের প্রতিনিধিরা, সেটা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তেই পারে। পাকিস্তানের 'বন্ধু'র সাথে ঢাকা আগামী দিনে ঘনিষ্ঠতা বাড়াবে কিনা, থাকছে প্রশ্ন।
