থিম নাকি সাবেকি। এবার পুজোর আগে নয়া বিতর্ক। মা দুর্গার মূর্তি কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এর মধ্যেই সেই বিষয়ে উঠে এল নানা মুনির নানা মত। সঙ্গে বিভিন্ন জনের কথায় ছোটবেলার স্মৃতি। বলছেন পুরাণ বিশেষজ্ঞ থেকে শিল্পী, উদ্যোক্তারা।
শাস্ত্রে বলছে সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণ রূপকল্পনা। মায়ের রূপ বদলালে ভাল নাও হতে পারে। দেহসৌষ্ঠব ও মুখের ক্ষেত্রে শাস্ত্র মানতে হবে। থিমের আতিশয্যে তা যেন নষ্ট না হয়।
জয়ন্ত কুশারী, প্রাচ্য বিদ্যা অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ
প্রকৃতি মানেই শিল্প। শিল্পের মধ্যেই ভক্তিকে খোঁজা যায়। শিল্প সৃষ্টি যাঁরা করেন তাঁরাই তো ঈশ্বরের কাছের। ভারতীয় সংস্কৃতিতে নির্দিষ্ট আধারেই কেবল ঈশ্বরের অবস্থান নয়। সাবেকিয়ানা ঐতিহ্য বহন করে।
সুশান্ত পাল, প্রতিমা শিল্পী
পুজো যখন সার্বজনীন, মাতৃমূর্তি দেবী মায়ের মতই করতে হবে। শিল্পীর পৃথক ভাবনা থাকলে নিজের ঘরে গিয়ে করুন। সন্তানরা দেবী মা-কেই দেখতে চায়, কোনও নায়িকা বা নেত্রীকে নয়।
সজল ঘোষ, কর্ণধার, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার
থিম পুজোয় আলো, মণ্ডপ, শিল্প, জাঁকজমক সব আছে, কিন্তু প্রাণ নেই। মাতৃমূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠাও হয় না অনেক সময়। চাই এমনটা যেখানে পুরোহিত দর্পণ মেনে সব উপাচার মেনে পুজো হবে।
গোকুলচন্দ্র দাস, পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত ঢাকী
সাবেকি প্রতিমা যদি উচ্চাঙ্গ সংগীত হয়, থিমের প্রতিমা তবে লঘু সংগীত। দুটোই অসাধারণ। এই দুই ধারাকেই আমি আলিঙ্গন করি। পুজোয় প্রাণ থাকলে তা মানুষকে স্পর্শ করতে পারে।মল্লার ঘোষ, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী
আমি বীরভূমের বাতিকার গ্রামের মেয়ে। ছোটবেলায় দেখেছি একচালা ঠাকুর। সন্ধিপুজোয় দাদু, তাঁর বন্ধুরা কাপড় বিছিয়ে বসতেন। মন্ত্রোচ্চারণে চোখে জল
আসত। সেই সাবেকির পক্ষে।
অধ্যাপক শিউলি বসু, বিভাগীয় প্রধান, সংস্কৃত, জেইউ
বাগবাজারের মূর্তি দেখলে অন্যরকম ভক্তি আসে। সনাতনী প্রতিমায় দুর্গা পুজোটাকে অনুভব করা যায়। অন্য ক্ষেত্রে শিল্প প্রদর্শনীকে দেখতে যাই। এবারে হয়তো পুজোয় অন্যরকম স্বাদ পাব।
সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, চিত্রশিল্পী
থিম মানে মা দুর্গার রূপ পরিবর্তন নয়। এই ধরনের প্রতিমা তৈরির ফলে অনেক শিল্পী কাজ পান। তাঁরাও যেমন নতুন কাজ দেখানোর সুযোগ পান, তেমনই নানা ধরনের প্রতিমা নজর কাড়ে।
তারাপদ সাহা, মফঃস্বলের পুজো উদ্যোক্তা
থিমের পুজোমণ্ডপে শিল্পীর যে শিল্পকলা থাকুক না কেন, পুজোর বেদীতে মহিষাসুরমর্দিনীর মূর্তি থাকবে। মা দুর্গা সবার কাছে মা হয়েই মণ্ডপে আসেন, সেখানে চিরন্তন মূর্তিই কাম্য।ফিরহাদ হাকিম, সভাপতি, চেতলা অগ্রণী
