shono
Advertisement
Law

আইন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বার কাউন্সিলের সীমা লঙ্ঘন!

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, আইন পড়ুয়াদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বার কাউন্সিলের নেই। তা হস্তক্ষেপতুল্য।
Published By: Kishore GhoshPosted: 03:49 PM Sep 04, 2026Updated: 03:49 PM Sep 04, 2026

সীমা লঙ্ঘন কাম্য নয়। কেননা, এর পরিণাম কখনও ভালো হয় না। কারও প্রতি কথাবার্তায় বা আচার-আচরণে অন্যায়, জুলুম বা নির্যাতন, এমনকী তুচ্ছতাচ্ছিল্য করাও সীমা লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। মানুষ অর্থ বা ক্ষমতার দম্ভে আত্মহারা হয়ে, যে কোনও অন্যায়-অপকর্ম করতেই পারে। নিজের সীমা-পরিসীমা সম্পর্কে তখন সে বেহুঁশ বা অসচেতন হয়ে পড়ে। এমনকী, ভালো কাজেও বাড়াবাড়ির কারণে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বা হতে পারে।

Advertisement

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে 'পার্সোনালিটি কাল্ট' বা 'ব্যক্তিপূজা'-র যে মারাত্মক ব্যাধি দেখা দিয়েছে, তার কারণেও। শিল্প-সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি ও রাজনীতিতে দেখা যায় বিপর্যয়। মহান ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিও এর কারণে ভাবমূর্তি- সংকটে পড়ে। ফলে জনগণের বিরক্তি তৈরি হয় এবং সেই ব্যক্তিত্বের মর্যাদা হ্রাস পায়।

বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার এক্তিয়ার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।

যেমনটা দেখা গিয়েছে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও সমাবর্তনে তাঁর প্রধান অতিথি হওয়া নিয়ে আপত্তির কারণে। 'ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ'-এর ('নালসার') ঘটনায় বার কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের কোনও বার কাউন্সিল যেন নথিভুক্ত না করে, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিলেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। যদিও চাপের মুখে সেই নির্দেশ প্রত্যাহারও করেন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইন পড়ুয়াদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বার কাউন্সিলের নেই। আদালত জানিয়ে দেয়, পড়ুয়ারা আইনজীবী রূপে নাম নথিভুক্ত করে আইনি পেশায় না আসা পর্যন্ত বার কাউন্সিল তাদের উপর কোনও কর্তৃত্ব খাটাতে পারে না। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার এক্তিয়ার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। সেই প্রতিষ্ঠানই নিজেদের নিয়মবিধি অনুযায়ী কোনও পদক্ষেপ করতে পারে।

এই উপমহাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নামী ব্যক্তিত্বদের জনসাধারণ 'দেবতা'-র আসনে বসিয়ে পুজো করে।

অর্থাৎ, স্পষ্টত বার কাউন্সিল সীমা লঙ্ঘন করেছে। কেন করেছে, তা নিয়ে নানা মত থাকতে পারে। কিন্তু এটা বললে বোধহয় অত্যুক্তি হবে না যে, কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, এক্ষেত্রে হয়তো প্রধান বিচারপতিকে খুশি করাই তাদের লক্ষ্য ছিল। যা 'ব্যাকফায়ার' করেছে। উদ্দেশ্য তো সফল হয়ইনি। উলটে প্রধান বিচারপতি আরও সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।

'ব্যক্তিপুজো' দোষের কিছু নয়। এই উপমহাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রের নামী ব্যক্তিত্বদের জনসাধারণ 'দেবতা'-র আসনে বসিয়ে পুজো করে। কিন্তু 'ব্যক্তিপুজো' করতে গিয়ে অন্যকে অসম্মান, তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা কাজের কথা নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত তৈরি করল। এই নির্দেশ মাথায় রেখে ভবিষ্যতে অন্যরাও সচেতন হবেন, সীমা লঙ্ঘনে সংযত থাকবেন, সেটাই কাম্য। নির্দেশিকা জারি করার নেপথ্যে 'অথরিটি' সুলভ মানসিকতা সক্রিয় থাকে। এমন প্রবণতাকে ক্ষমতার উৎস্রোত বলা চলে। এ ধরনের মানসিকতা গঠনমূলক কাজের ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে, কেননা তা হিতাহিতের বোধ লুপ্ত করে। সুপ্রিয় রায়ে তাও প্রতিপন্ন হল পরোক্ষে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement