shono
Advertisement

Breaking News

women

১৪ বছর পর 'নির্ভয়া' স্মৃতি ফিরল দিল্লিতে, শুধু আইন, কঠোর শাস্তি ধর্ষণ ব্যাধি রুখতে পারবে?

শুধু আইন, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে, এই সমাজে পুরুষের হাতে নারীর লাঞ্ছনা বন্ধ করা যাবে না। নারীর প্রতি আমাদের মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন চাই। চাই মূল্যবোধের বিবর্তন।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 11:56 AM Sep 02, 2026Updated: 11:56 AM Sep 02, 2026

পুরুষমাত্রই কি নারীবিদ্বেষী, সমাজের চোখে নারী কি শুধুই 'ভোগ্যবস্তু'? সাম্প্রতিক দিল্লি ধর্ষণের ঘটনা অন্তত তেমনটাই দর্শায়।

Advertisement

দিল্লিতে ১৪ বছর পরে ফিরে এল 'নির্ভয়া' ধর্ষণ কাণ্ডর নির্ভেজাল কপি- একটি চলন্ত বাসে, ৪ আগস্ট। সেই বীভৎস ধর্ষণে অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে ফাঁসি হয় ৪ জনের, একজন জেলের মধ্যেই মারা যায়। কিন্তু সেই শাস্তি ভারতে ধর্ষণের ঘটনা কমিয়েছে, বা নারীসুরক্ষায় আমরা আরও কঠোর ও নিশ্চিত হতে পেরেছি, এমন কি বলা যায়? প্রতিদিন ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, নারী নির্যাতন ও নিধন ঘটেই চলেছে।

সম্প্রতি, একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এল ২৭ দিন পর। পুলিশ জানত। কিন্তু চেপে রাখে। বলা হচ্ছে, ২ অপরাধীই ধরা পড়েছে। ঘটনার কেন্দ্রে এক ১৬ বছরের নাবালিকা। দিল্লির গ্রেটার নয়ডায় পর্দা ফেলা খালি বাসে ৪৭ কিলোমিটার যাত্রাপথে এই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বাসের কন্ডাক্টর ও ড্রাইভার। ঘটনার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই অভিযুক্তরা ধরা পড়ে এবং গ্রেফতার হয়। ধর্ষণের প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। প্রশ্ন হল, ঘটনাটি গোপন কেন রাখা হল? কেনই-বা ৪৭ কিলোমিটার পথে কোনওভাবে পুলিশি সাহায্য পেল না ওই নাবালিকা? আরও গুরুতর প্রশ্ন, পুরুষশাসিত সমাজে কি ক্রমশই দেখা দিচ্ছে নারীর প্রতি ঘৃণা, এবং এই মনোভাব যে নারীর কোনও মন নেই, শুধুই শরীর, আর সে শুধুই পুরুষের ভোগ্যবস্তু?

যে কোনও পুরুষশাসিত সমাজে নারীকে উপেক্ষার চোখে দেখা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে দেবীপূজার অভাব নেই। কিন্তু ঘরে ঘরে নারী লাঞ্ছনা, নারী নির্যাতন, নারীর নানাবিধ অপমান তো নিত্য ঘটনা। সমাজ-সংসারের এক বিস্তৃত পরিসর জুড়ে নারীরা যাপন করে এক বিপন্ন জীবন, কি অর্থনৈতিক ভাবে, কি সামাজিকভাবে। সুতরাং তারা যে শারীরিকভাবে সুরক্ষিত থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। পুরুষের 'বিকৃত কাম' সেই সমাজেই আধিপত্য পায় যে-সমাজ নারীকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতে শেখেনি। সে সমাজে নারী বিপন্ন। যে-সমাজ শুধু ভোগ জানে, প্রেম জানে না।

যে কোনও পুরুষশাসিত সমাজে নারীকে উপেক্ষার চোখে দেখা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে দেবীপূজার অভাব নেই। কিন্তু ঘরে ঘরে নারী লাঞ্ছনা, নারী নির্যাতন, নারীর নানাবিধ অপমান তো নিত্য ঘটনা।

নীরোদচন্দ্র চৌধুরী তাঁর 'বাঙালী জীবনে রমণী' বইয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, বাঙালি পুরুষের জীবনে মূলত আদি রস এবং কাম ছিল। প্রেম ছিল না। রোম্যান্টিক প্রেমের মধুর রস এল বাঙালি জীবনে বিদেশি শিক্ষা ও বিদেশি প্রেমদর্শনের প্রভাবে। ভারত জুড়েই বেশিরভাগ সমাজে সংসারে নারী উচ্চাসনে আসীন নয় এবং মনে মনে নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা মেনে নেয় না সমাজ। বলতে দ্বিধা নেই, এই দেশের সিংহভাগ পুরুষ নারী-স্বাধীনতার প্রতি মানসিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত। ইউরোপে নারী যতটা স্বাধীন, সেটা কল্পনাও করতে পারে না আমাদের সমাজ।

শুধু আইন, কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে, এই সমাজে পুরুষের হাতে নারীর লাঞ্ছনা বন্ধ করা যাবে না। নারীর প্রতি আমাদের মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন চাই। চাই মূল্যবোধের বিবর্তন। আমরা নারীকে ভালবাসতে শিখিনি। তাকে জোর করে পেতে শিখেছি। এবং সেটাই আমাদের নিয়ে যাচ্ছে বিকৃতির পথে। গৌরকিশোর ঘোষ তাঁর এক অনবদ্য বইয়ের নাম দিয়েছেন 'প্রেম নেই'। যদি সে-কথা সত্যি হয়, যৌন বিকৃতি বাড়তেই থাকবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement