শরীর যখন স্বাভাবিক কাজ করে না, নানা অস্বাভাবিক বিষয় ঘটতে থাকে, তাকেই আমরা সাধারণত 'অসুস্থতা' বলে থাকি। একইভাবে মনের ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক আচরণে মানসিক ব্যাধির প্রসঙ্গ আসে। তেমনই 'ভুয়ো' আতঙ্ক ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে আনন্দ লাভ করাও এক ধরনের মানসিক সমস্যা। কেউ শুধু নিছক আনন্দ পেতে এমন করে, কারও আবার নির্দিষ্ট কোনও উদ্দেশ্য থাকে। কারণ যা-ই হোক না কেন, সমস্যা বাড়ে সাধারণ মানুষের।
যেমন, সম্প্রতি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে। একজন ব্যক্তি ভুয়ো ইমেল পাঠিয়ে জানায়, আত্মঘাতী হামলায় তাঁকে খুনের ছক কষছে আল কায়েদা। এক মহিলার পরিচয় ভাঁড়িয়ে এই ইমেল পাঠানো হয়। কারণ, ওই মহিলার সঙ্গে ওই যুবকের ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে। তাই তাকে ফাঁসানোর এই কুমতলব। এমন অভিনব প্রতিশোধস্পৃহ প্রয়াস।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলে কথা। তাই কালবিলম্ব না করে তদন্তে নামে এসটিএফ। দোষীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরা করে জানা যায়, এর সঙ্গে জঙ্গি-যোগের কোনও বিষয় নেই। কিন্তু এই কাণ্ডের জেরে পুলিশের খামোকা হয়রানি হল। আরও জানা গিয়েছে, এর আগেও নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এইভাবে ভুয়া ইমেল করেছে ওই যুবক। ফলে গুজব রটানো, মিথ্যা তথ্য প্রচার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
খেয়াল করে দেখলে, বস্তুত, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। আতঙ্ক তৈরি করতে অতীতে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে। তাতে সামাজিক শান্তি ও ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। কখনও প্লেনে বোমা রাখার কথা বলা হয়েছে। তল্লাশির জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের। কারও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়নি, কারও চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছে। কখনও বলা হয়েছে স্কুলে বোমা থাকার কথা। তাতে বাতিল হয়েছে পরীক্ষা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে খুদে পড়ুয়া থেকে অভিভাবক, শিক্ষক থেকে স্কুলের গভর্নিং বডি। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বার্থে ঝুঁকি না নিয়ে তদন্ত-তল্লাশি করতে পুলিশ বাধ্য হয়েছে। নষ্ট হয়েছে সময়, পরিশ্রম, এবং সর্বোপরি সরকারি অর্থ। কিন্তু বজ্র আঁটুনির ফাঁক গলে তো আর নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা সম্ভব না, তাই প্রতিবার সতর্কতা বাড়িয়েছে প্রশাসন।
মানসিক সমস্যা থেকে হোক বা ইচ্ছাকৃত- এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা আশু কর্তব্য। না হলে জনজীবন ব্যাহত হয়। এবং এজন্য কঠোর আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ সমস্যা মেটার উপায় নেই। যদিও শাস্তি দিলেই যে সমস্যা মিটবে, তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তবে খেলাচ্ছলে এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর আগে লোকে দু'বার অন্তত ভাববে। পাশাপাশি, এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাও দরকার। সামাজিক দায়বদ্ধতা না-থাকলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে। আর মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
