shono
Advertisement
Football World Cup

মার ঝাড়ু মার! বিশ্বকাপের মঞ্চেও অমলিন জাপানি সূর্যোদয়

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায়। জাপানি সমর্থকেরা তবু গ্যালারি সাফ করেন! বস্তুতই আবর্জনা সাফ করার বিশ্বকাপ বসে জাপানে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 04:14 PM Jul 02, 2026Updated: 04:14 PM Jul 02, 2026

‘গোমি হিরোই’। এই জাপানি শব্দটির ইংরেজি তরজমা–‘পিকিং আপ ট্র্যাশ’ বা ‘গ্যাদারিং গারবেজ’। অর্থাৎ জঞ্জাল সাফ করা। এই অভ্যাসটি জাপানিদের মধ্যে এতখানি সহজাত যে, আর্বজনা পড়ে থাকলে তাঁরা যেন সংবরণ করতে পারেন না। ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে এ দৃশ্য বারবার আমরা দেখতে পেয়েছি যে, খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও জাপানি সমর্থকরা মাঠে রয়ে যান আরও বেশ কিছুক্ষণ। গ্যালারি ও মাঠের যতটা পারেন, পরিষ্কার করে দেন।

Advertisement

খালি জলের বোতল, কফির কাপ, নিঃশেষিত খাবারের প্যাকেট, সব তুলে নেন সঙ্গে রাখা বিন ব্যাগে। শুধু নিজেদের ব্যবহৃত সামগ্রী নয়, বিপক্ষের তথা যে কোনও মানুষের ব্যবহার করা সামগ্রী তাঁরা পরম যত্নে সাফ করেন। কেউ বলেনি এমন করতে। জাপানিরা করেন মন থেকে, স্বভাব থেকে, অন্তর্প্রেরণা থেকে। অপরিচ্ছন্ন, মলিন পরিবেশে তাঁরা বসবাস করতে পছন্দ করেন না। নিজের দেশকে তাই তকতকে করে রাখেন।

এবারের বিশ্বকাপ চলাকালীন একটি স্কেচ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। একজন জাপানি যুবক গ্যালারি সাফাইয়ে মগ্ন। 

এমনকী, অন্য দেশে গিয়েও ছাড়তে পারেন না এ সংস্কার। ভারতের মতো দেশে, যেখানে পরিচ্ছন্নতার সংজ্ঞা গৃহবন্দি, নিজেরটুকু সাফ করে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে আর্বজনা স্তূপীকৃত করতে আমরা দড়, হয়তো জাপানিদের এমন মনোভাবের প্রকৃত কারণ কখনও বুঝেই উঠতে পারব না, অথচ বুঝতে চাইলে সেটি বুঝে উঠতে পারা যাবে না, এমনও নয়। নিজের দেশ হেরে গিয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিতাড়িত। শেষ চারের পৌঁছনোর স্বপ্ন রয়ে গেল অধরা। এরপরেও জাপানিরা কান্না চেপে মাঠের সাফাইয়ের কাজটি করে চলেন। চলতি বিশ্বকাপে, প্রবল পরাক্রম দেখিয়েও, ব্রাজিলের কাছে শেষাবধি হেরে গেল জাপান। অথচ কর্তব্যে চ্যুতি নেই। গ্যালারি পরিষ্কার করলেন সমর্থকরা।

জাপানি মেয়েরা প্রত্যহ ঘণ্টা তিনেকের ‘আনপেড’ শ্রম বিনিয়োগ করে সংসারে। পুরুষরা সেখানে দৈনিক ৪৭ মিনিট।

‘স্পোগোমি’ বলে একটি খেলা চালু রয়েছে জাপানে। মূলকথাটি ‘স্পোর্ট গোমি হিরোই’। একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে পড়ে থাকা আবর্জনা সাফাই করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ২০০৮ সালে প্রবর্তিত হয়েছে খেলাটি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘স্পোগোমি ওয়ার্ল্ড কাপ’ অনুষ্ঠিত হল, প্রথম। গ্রেট ব্রিটেন চ্যাম্পিয়ন। দ্বিতীয় স্পোগোমি বিশ্বকাপের আসর বসেছিল ২০২৫ সালে। এবারে চ্যাম্পিয়ন জাপান, রানার আপ জার্মানি। আবর্জনা পরিষ্কার করা নিয়ে একটি খেলার উদ্বোধন ঘটানো, তৎসহ বিশ্বকাপের আসর বসানো, চিন্তার অতীত ব্যাপার নয় কি?

তবে প্রদীপের তলায় যে আঁধার নেই, বলা যাবে না তাও। এবারের বিশ্বকাপ চলাকালীন একটি স্কেচ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। একজন জাপানি যুবক গ্যালারি সাফাইয়ে মগ্ন। আর পাশে দেখানো হচ্ছে– সেই যুবকটিই বাড়িতে সোফায় এলিয়ে বসে। তার স্ত্রী একা রান্নাঘর সাফসুতরো করছে। জাপানি মেয়েরা প্রত্যহ ঘণ্টা তিনেকের ‘আনপেড’ শ্রম বিনিয়োগ করে সংসারে। পুরুষরা সেখানে দৈনিক ৪৭ মিনিট। তাই জাপানি মেয়েরা আওয়াজ তুলেছে– ‘ডু ইট অ্যাট হোম টু’। মানে, বাড়িতেও সাফাইয়ের আর-একটু মনোযোগী হও। কেবল স্টেডিয়াম সাফ করলে হবে?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement