shono
Advertisement
Feminism

মেয়েরা ‘যৌনবস্তু’ নয়, বিশ্বকে নারীবাদের 'প্রথম পাঠ' পড়িয়েছিলেন গান্ধীবাদী গ্লোরিয়া

দীর্ঘ সময় জুড়ে গ্লোরিয়ার আন্দোলনের মূল স্লোগানে ছিল নারীর প্রজনন-অধিকারের প্রশ্নটি। স্টাইনেম নিজেও ২২ বছর বয়সে অবৈধ গর্ভপাত করিয়েছিলেন। তার খোলাখুলি বর্ণনা দিয়েছেন নিজের লেখায়।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 04:40 PM Sep 06, 2026Updated: 04:40 PM Sep 06, 2026

একাধারে সাংবাদিক, প্রবন্ধকার, সংগঠক, সম্পাদক, নারীবাদী রাজনৈতিক কর্মী। লিঙ্গ, প্রজনন, নারীর শ্রম, তার যৌনতা, তার ক্ষমতায়ন– নানা দিকে কাজের বিস্তার। ‘ব্যক্তিগতই রাজনৈতিক’ বা ‘ব্যক্তিগতও রাজনৈতিক’– এই ধারণা যখন নারীবাদী আন্দোলনে দৃঢ় হচ্ছে– সেই ছয় ও সাতের দশকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উত্থান। তিনি, সদ্যপ্রয়াতা গ্লোরিয়া স্টাইনেম। ভুল করে থাকলে শুধরেছেন, আবার গান্ধীবাদ থেকেও শিক্ষা নিয়েছেন। লিখছেন, শতাব্দী দাশ

Advertisement

গ্লোরিয়া স্টাইনেম তিনি, যিনি ‘স্লাটওয়াক’-এর বহু আগে আমাদের শিখিয়েছিলেন, ‘বিচ’ বলে ডাকলে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলো– ‘ধন্যবাদ’। এ এক স্বীকৃতি– কেননা, নিন্দুকে স্বীকার করছে যে, পিতৃতান্ত্রিক অচলাবস্থা কোনও-না-কোনওভাবে আহত হয়েছে। গ্লোরিয়া স্টাইনেম তিনি, যাঁর লেখা তাঁদের নাকের ডগায় নাচানো যায়, যাঁরা মনে করেন, নারীবাদ যেহেতু পিতৃতান্ত্রিক রসিকতার সমালোচনা করে, তাই নারীবাদে রসবোধের জায়গা নেই। শুধু সমালোচনা করলেই তো হল না, গ্লোরিয়া স্টাইনেম তৈরি করেছিলেন নারীবাদী রসবোধের এক ঘরানা। গ্লোরিয়া স্টাইনেম এক ‘আয়রনি’-র নাম।

যে-সংবাদমাধ্যমের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির তিনি সমালোচনা করছিলেন, সমকালে সেই সংবাদমাধ্যমই তাঁকে নারীবাদের মান্য, সহজবোধ্য, গ্রহণযোগ্য ‘মুখ’ করে তুলেছিল। এই বৈপরীত্য যে তিনি বুঝতেন না, এমন নয়। স্বকীয় মজার ছলে তাই বলেছিলেন, ‘আমি যে সুন্দরী, তা কেউ আমাকে বলেনি নিজেকে নারীবাদী ঘোষণা করার আগে।’ অর্থাৎ, তিনি যতই বুদ্ধিবৃত্তি অবলম্বন করে ‘ওদের’ বিরোধিতা করছেন, ‘ওরা’ ততই তাঁকে ‘সুন্দরী নারীবাদী’ বলে ডেকে মনোযোগ ঘুরিয়ে দিচ্ছে ওঁর দেওয়া ভাষ্য থেকে দেহে।

একাধারে তিনি সাংবাদিক, প্রবন্ধকার, সংগঠক, সম্পাদক এবং নারীবাদী রাজনৈতিক কর্মী। লিঙ্গ, প্রজনন, নারীর শ্রম, তার যৌনতা, তার ক্ষমতায়ন– নানা দিকেই কাজের বিস্তার। নারীবাদে যে-সময়টিকে আমরা ‘দ্বিতীয় তরঙ্গ’ বলে চিহ্নিত করি, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল: ‘ব্যক্তিগতই রাজনৈতিক’ বা ‘ব্যক্তিগতও রাজনৈতিক’– সেই সময়ে, সেই ঝোড়ো ছয় ও সাতের দশকে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উত্থান। অনস্বীকার্য, যে প্রশ্নগুলিকে ঘিরে নারীবাদী আন্দোলন সে-সময়ে আবর্তিত হচ্ছিল, লেখনীর মুনশিয়ানায় তিনি সেগুলিকে এমন এক সহজবোধ্য, ভাষায় প্রকাশ করতে পেরেছিলেন, যা নারীবাদকে সর্বজনীন করে তুলেছিল। তাঁর সমসাময়িক কেট মিলেট বা বেটি ফ্রিড্যানের মতো তিনি এমন বই লিখে যননি, যা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তত্ত্ব রূপে পাঠ করা হবে। তিনি বরং দেখিয়েছিলেন, সব্যসাচী হয়ে ওঠা যায়। রাজনৈতিক আন্দোলন ও লেখালেখির ভার দুই হাতে একই সঙ্গে নেওয়া যায়।

যে-সংবাদমাধ্যমের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির তিনি সমালোচনা করছিলেন, সমকালে সেই সংবাদমাধ্যমই তাঁকে নারীবাদের মান্য, সহজবোধ্য, গ্রহণযোগ্য ‘মুখ’ করে তুলেছিল। এই বৈপরীত্য যে তিনি বুঝতেন না, এমন নয়।

সাংবাদিক রূপে তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এমন এক সময়ে যখন মার্কিন সংবাদপত্র ও সাময়িকীর দুনিয়া ছিল মূলত পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত। প্রথম দিকের লেখাগুলির মধ্যেও নারীর সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন উঠে আসে। ১৯৬২ সালে ‘The Moral Disarmament of Betty Coed’ নামে নারীর উপর আরোপিত গর্ভনিরোধ-বিরোধী সামাজিক বিধিনিষেধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন। সাংবাদিক অনুসন্ধিৎসা নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন, নারীকে পেশাগত আকাঙ্ক্ষা এবং প্রচলিত গার্হস্থ ভূমিকার মধ্যে একটি বেছে নিতে হয় কেন?

১৯৬৩ সালে তিনি গোপনে ‘প্লেবয় ক্লাব’-এর একজন ‘বানি’ (Bunny) রূপে কাজ করেন– এইটে বোঝার জন্য যে সেখানকার কর্মরতা নারীরা কেমন কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন? সাটিনের লম্বা খরগোশ কান পরিহিতা সেই মেয়েদের কেমন করে ‘যৌনবস্তু’ রূপে দেখে খদ্দের? তারা কি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়? তারা কি কর্মীর যোগ্য মর্যাদা ও বেতন পায়? পরে সেই অভিজ্ঞতা “A Bunny’s Tale” নামে প্রকাশিত হয়। রাতারাতি বিখ্যাত হন তিনি। কিন্তু সিরিয়াস সাংবাদিক না ভেবে আড়ালে-আবডালে, এমনকী ভালবেসেও, ‘বানি’ বলে ডাকা হতে থাকে তাঁকে। অথচ তাঁর প্রচেষ্টায়, পেশার প্রতি তাঁর নিবেদনই প্রকাশ পেয়েছিল।

স্টাইনেমের বৌদ্ধিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত অধ্যায় হল ভারতে কাটানো প্রায় দু’টি বছর। স্মিথ কলেজ থেকে ১৯৫৬ সালে স্নাতক হওয়ার পরে একটি ফেলোশিপ নিয়ে ভারতে আসেন। দিল্লির মিরান্ডা কলেজে তিনি প্রায় দু’-বছর কাটান। আমেরিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হন। গান্ধীবাদের কথা লেখায় বারবার আসে। গান্ধীর থেকে শিক্ষা নেন, আন্দোলন কেবল লিখে হয় না। পথই পথ। আর চাই রক্তমাংসের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ। পরবর্তী জীবনে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। এই ধারণাটিই পরবর্তী বই ‘My Life on the Road’-এর মূল দর্শন।

১৯৬৩ সালে তিনি গোপনে ‘প্লেবয় ক্লাব’-এর একজন ‘বানি’ (Bunny) রূপে কাজ করেন– এইটে বোঝার জন্য যে সেখানকার কর্মরতা নারীরা কেমন কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন?

দীর্ঘ সময় জুড়ে তাঁর আন্দোলনের মূল স্লোগানে ছিল নারীর প্রজনন-অধিকারের প্রশ্নটি। স্টাইনেম নিজেও ২২ বছর বয়সে অবৈধ গর্ভপাত করিয়েছিলেন। তার খোলাখুলি বর্ণনা দিয়েছেন নিজের লেখায়। ভারতে আসার পথে বিমান যখন লে ওভারে লন্ডনে, টের পান, তিনি গর্ভবতী। লন্ডনে অবৈধভাবে গর্ভপাত করান। লন্ডনজুড়ে তখন গর্ভপাত বেআইনি। তাঁর লেখা জুড়ে এমন আরও নানা নিদর্শন ছড়িয়ে আছে, যা ‘ব্যক্তিগত’-কে ‘রাজনৈতিক’-এর সঙ্গে জুড়ে দেয়। প্রশ্ন তোলে– গর্ভাবস্থা, গর্ভপাত, যৌনতা, বিবাহ, যৌন হিংসা, গৃহহিংসা কিংবা গৃহশ্রমকে কেবল ‘ব্যক্তিগত’ বিষয় রূপে আর কত দিন দেখা হবে? এগুলি যে ভীষণরকম ‘রাজনৈতিক’! প্রতিটিই আইন, প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ক্ষমতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

তাঁর মতে, গর্ভপাত আন্দোলনের মূলে ছিল নারীর ‘এজেন্সি’ বা সিদ্ধান্তগ্রহণের অধিকারের প্রশ্নটি। সিদ্ধান্ত নেবেন কে: নারী ও তাঁর চিকিৎসক, না কি সরকার? সম্প্রতি ‘রো বনাম ওয়েড’ রায় বাতিল হওয়ার পরও তিনি গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে আবার মুখর হয়েছিলেন। স্টাইনেমের যুক্তি ছিল, নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার না থাকলে গণতন্ত্রের ধারণাটিই অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে। তাঁর কাছে প্রজননের স্বাধীনতা নাগরিক অধিকারের সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িত।

সাতের দশকের গোড়ায় ‘Ms.’ ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠা করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন লিঙ্গসংবেদনশীল গণমাধ্যম কেমন হবে। মূলধারার গণমাধ্যম নারীপাঠকের জন্য প্রধানত সৌন্দর্য, পরিবার, গৃহস্থালি এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক লেখা উপস্থাপন করত। ‘Ms.’ নারীদের রাজনৈতিক পাঠক রূপে প্রশিক্ষিত করল। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত প্রথম সংখ্যাটিই প্রত্যাশার তুলনায় বিপুল সাফল্য লাভ করে। ‘Ms.’-এ স্টাইনেম এমন এমন বিষয় নিয়ে তুখড় রাজনৈতিক লেখা লিখতে শুরু করেন– যেগুলিকে এত দিন সমাজ ‘নারীর ব্যক্তিগত সমস্যা’ বলে মনে করত। এর অন্যতম দৃষ্টান্ত ‘If Men Could Menstruate’। ব্যাঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখেন, যদি নারীদের বদলে পুরুষদের ঋতুস্রাব হত, তাহলে সমাজ কীভাবে তাকে দেখত? আবার সেই ‘রোল রিভার্সাল’, যা উন্মোচিত করল যে, ঋতুস্রাবকে লজ্জাজনক, নোংরা, বা নিকৃষ্ট বলে বিবেচনা করার জীববৈজ্ঞানিক কারণ নেই; এটি ক্ষমতা ও পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রকাশ।

স্মিথ কলেজ থেকে ১৯৫৬ সালে স্নাতক হওয়ার পরে একটি ফেলোশিপ নিয়ে ভারতে আসেন। দিল্লির মিরান্ডা কলেজে তিনি প্রায় দু’-বছর কাটান গ্লোরিয়া ।

তাঁর প্রথম বই ‘Outrageous Acts and Everyday Rebellions’ (১৯৮৩) থেকে সংগৃহীত প্রবন্ধগুলি নারীর শরীর, যৌনতা, রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় ভরা। একইভাবে ‘Marilyn: Norma Jean’-এ তিনি মনরো-কে দেখার নজরটিই ঘুরিয়ে দেন। মেরিলিন হয়ে ওঠেন এমন একটি উদাহরণ, যেখানে একজন স্বাধীনচেতা নারী তাঁর নিজের সত্তা হারিয়ে একটি ‘যৌন ইমেজ’-এ পরিণত হচ্ছেন!

স্টাইনেমকে নিয়ে বিতর্কও ছিল। নারীবাদ একটি বহুস্বরিক আন্দোলন ও তত্ত্ব। এর প্রতিনিধিত্ব অনেকাংশে একটি বিশেষ ব্যক্তির মধ্যে, বিশেষত এক মধ্যবিত্ত শ্বেতাঙ্গিনীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হওয়া ঠিক নয়। কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে, শ্রমজীবী নারী, লেসবিয়ান নারী, ট্রান্স-নারী এবং অগণিত অখ্যাত মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম এই নারীবাদ। কিন্তু স্টাইনেম স্বয়ং কখনও এর মধ্যমণি হতে চাননি। ‘কালো’ নারীদের আন্দোলনের সঙ্গে ছিল গভীর যোগাযোগ। বেটি ফ্রিড্যান যখন লেসবিয়ান নারীদের ‘পার্পল মেনাস’ বলে ডেকেছেন, স্টাইনেম কঠোর বিরোধিতা করেছেন।

তাঁর প্রথম বই ‘Outrageous Acts and Everyday Rebellions’ (১৯৮৩) থেকে সংগৃহীত প্রবন্ধগুলি নারীর শরীর, যৌনতা, রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় ভরা। একইভাবে ‘Marilyn: Norma Jean’-এ তিনি মনরো-কে দেখার নজরটিই ঘুরিয়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নারীর অধিকারকে ছাড়িয়ে বহু দূর বিস্তৃত হয়। নাগরিক অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিক, যুদ্ধবিরোধিতা, গৃহহিংসা, এলজিবিটিকিউ অধিকার– কী নিয়ে না কাজ করেছেন! ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের প্রতিও তঁার গভীর সমর্থন ছিল। স্টাইনেমের চরিত্রের একটি জোরালো উপাদান প্রতি মুহূর্তে নিজের ভুল স্বীকার করার স্বচ্ছতা, শুধরে নেওয়ার আন্তরিকতা। ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন যে, মনিকা লিওনেস্কির ঘটনাটি সম্মতিক্রমে ঘটেছিল, একে নির্যাতন বলা যায় না। কিন্তু বহু বছর পরে, ‘#মিটু’-পরবর্তী সময়ে তিনি স্বীকার করেন যে, ক্ষমতার অধীনে থাকা অবস্থায় সম্মতি আদৌ ঐচ্ছিক সম্মতি নয়, লিওনেস্কির বেলায় ভুল ছিলেন। একইভাবে রূপান্তরকামীদের সম্পর্কে ১৯৭৭ সালের একটি লেখা পরবর্তী কালে ব্যাপক সমালোচিত হয়। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বলেন যে, ট্রান্সজেন্ডার জীবনকে প্রশ্ন না করে উদ্‌যাপন করা উচিত। নিজের অবস্থানকে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বলে মনে না করার এই প্রবণতা তথাকথিত আইকনদের মধ্যে বিরল।

আবার সমালোচনার মুখেও নিজের যে-সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছেন, বদলাননি। দীর্ঘ দিন ধরে বলেছেন, নারীর পূর্ণাঙ্গযাপনের জন্য বিবাহ বা সন্তানধারণ আবশ্যক নয়। ২০০০ সালে, ৬৬ বছর বয়সে, বিয়ে করেন। কেন করলেন? স্ববিরোধিতা হল না কি? তিনি বললেন, নিজে বদলাননি; ‘marriage itself had changed’। শেষ দিন পর্যন্ত ট্রাম্পের তীব্র সমালোচক ছিলেন। ২০১৭ সালের ট্রাম্পবিরোধী নারী-মার্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তঁার মতে, সেদিনের নারী-সমাগম ভিয়েতনামের যুদ্ধকালীন আলোড়নের থেকেও উল্লেখযোগ্য। স্টাইনেমের দর্শন এমন আপাদমস্তক আশাবাদী কি না জানা নেই, কিন্তু আশাবাদকে রাজনৈতিক কৌশল রূপে ব্যবহার করতে জানতেন। গ্লোরিয়া স্টাইনেম নিরন্তর এক প্রক্রিয়ার নাম। যিনি নিখুঁত নন, কিন্তু খুঁত বর্জনের চেষ্টা আমরণ অক্ষুণ্ণ রাখেন। যিনি নিজেকে অবলীলায় ‘খুঁতো’ বলে ডাকেন, আর তখন সেটিও হয়ে যায় লড়াইয়ের ভাষ্য। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মতো প্রবল খুঁতো মানুষও যদি সমাজবদলের সৈনিক হতে পারে, তাহলে তোমরা পারবে না কেন?’ গণমাধ্যম তাঁকে যতই রোম্যান্টিসাইজ করুক, গ্লোরিয়া এর চেয়ে বেশি কিছু। ভুল, ঠিক, বিতর্ক, সংশোধনে ভরা পূর্ণতর মানুষ– মানুষী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement