অবশেষে টনক নড়ল 'এয়ার ইন্ডিয়া'-র। যে-কাজ বহু দিন আগেই হওয়া উচিত ছিল, সম্প্রতি ফুকেত থেকে দিল্লিগামী বিমানে অনভিপ্রেত ঘটনার পর তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সমস্ত পাইলটদের জন্য নিষিদ্ধ মাদক ও ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করতে বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং বা ডোপ টেস্ট শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার থেকেই তা চালু হয়েছে। পাইলটদের প্রশিক্ষণের সময় গুরুগ্রাম অ্যাকাডেমিতে এই পরীক্ষা করা হবে। ফ্লাইট পরিচালনার পরে বিমানবন্দর বা নির্দিষ্ট ব্রিফিং সেন্টার ও অফিসে এই স্ক্রিনিং হবে। বিভিন্ন বিমানবন্দরে নির্ধারিত স্থানেও এই পরীক্ষা
সম্পন্ন করা হবে।
কোনও ফ্লাইটে সাধারণত পাইলটের কাছেই চূড়ান্ত কর্তৃত্ব এবং আইনি দায়িত্ব থাকে।
গত ৪ আগস্ট ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি ও মাঝ-আকাশে উচ্চতা হ্রাসের ঘটনা ঘটে। আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নেমে আসে বিমান। ঝাঁকুনি ও অন্য নানা কারণে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আহত হন। আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। প্রথমে সংস্থা টাবুল্যান্সের কথা জানিয়ে ঘটনা চেপে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর তথ্য। কেবিন ক্রু-গণ এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগে দাবি করেছিলেন, পাইলট পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না। তারপরই সংশ্লিষ্ট পাইলটের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সামনে আসে।
জানা যায়, তিনি গাঁজা সেবন করেছিলেন। সে-কারণেই সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে যাত্রীদের আস্থা অর্জন ও সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যে কোনও ফ্লাইটে সাধারণত পাইলটের কাছেই চূড়ান্ত কর্তৃত্ব এবং আইনি দায়িত্ব থাকে। নিজের, কেবিন ক্রু এবং ফ্লাইটের সমস্ত যাত্রীর নিরাপত্তার ভার থাকে পাইলট, সহকারী পাইলটদের কাঁধে। তাঁরা যদি সুস্থ, প্রকৃতিস্থ না থাকেন, তাহলে সংকটজনক
পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে!
গত বছর 'বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার' দূর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই এয়ার ইন্ডিয়া বিরাট চাপে।
পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাস্তায় গাড়িচালকদের নিয়মিত ব্রেখলাইজার পরীক্ষা করে রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ণয় করে পুলিশ। যাতে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। তাহলে যাত্রী স্বার্থে এতদিন পাইলটদের স্ক্রিনিং করা হয়নি কেন? যদি ওই উড়ানে কোনও দূর্ঘটনা ঘটত, তাহলে সেই দায়িত্ব কি এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারত? এয়ার ইন্ডিয়া আজ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অন্য বিমান সংস্থাগুলি সেটা এখনও নিল না কেন? আর কবে নেবে?
গত বছর 'বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার' দূর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই এয়ার ইন্ডিয়া বিরাট চাপে। পাইলটদের অতিরিক্ত ডিউটি আওয়ার, অপর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপের মতো বিষয় যাত্রী নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলছে। ক্লান্তি, কাজের চাপের ফলে ককপিটের ভেতরে অনেক সময় সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হয়। যার ফল হতে পারে মারাত্মক। পাইলটদের আচরণ নিয়ে যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনই যাত্রীস্বার্থে তাঁদের সুযোগ-সুবিধার দিকেও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
