shono
Advertisement
Syama Prasad Mookerjee

বাংলা ভাগের আন্দোলনেই জননেতা শ্যামাপ্রসাদের উত্থান

ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশ্নটিও পুনঃবিবেচিত হয়েছে সম্প্রতি।
Published By: Biswadip DeyPosted: 03:36 PM Aug 24, 2026Updated: 05:56 PM Aug 24, 2026

১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ক্ষমতা অর্পণ, বাংলার হিন্দুপ্রধান অঞ্চলগুলিকে আলাদা করে বাঙালি হিন্দুদের ‘হোমল্যান্ড’ রূপে ভারতভুক্ত করার পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা শুরু করেছিলেন। এই নতুন নির্মীয়মাণ জন পরিসরে লক্ষণীয়ভাবে সবর্ণ ভদ্রলোক ও দলিত পরিচিতির একটি পারস্পরিক সমঝোতার জায়গা তৈরি হয়েছিল। লিখছেন অভিজিৎ সাহা।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে দেশভাগের রাজনীতি নিয়ে নতুনভাবে চর্চা শুরু হয়েছে। বাংলা প্রদেশের দ্বিখণ্ডিতকরণ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্থানের বিষয়টিও এই ধারায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্বভাবতই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mookerjee) নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশ্নটিও পুনঃবিবেচিত হয়েছে সমালোচকদের লেখায়।

এখন কিছু মহলের উদ্যোগে যে-দিকটিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে, তা হল: বাংলা ভাগের আন্দোলনকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও ‘হিন্দু মহাসভা’-র অবদান ছিল সীমিত। পাশাপাশি, এও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে যে, বাংলা ভাগের ক্ষেত্রে ‘নির্ণায়ক শক্তি’ হয়ে উঠেছিল কংগ্রেস।

বাংলা প্রদেশের দ্বিখণ্ডিতকরণ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্থানের বিষয়টিও এই ধারায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্বভাবতই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশ্নটিও পুনঃবিবেচিত হয়েছে সমালোচকদের লেখায়।

সত্য যে, কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছিল, কিন্তু ইতিহাসগতভাবেই বলতে হয় যে, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের মধ্যেও বাংলা ভাগের প্রশ্নে স্ব-বিরোধ ছিল, সিদ্ধান্তে দোলাচলও ছিল। চিত্ত সেন পরমানিকের লেখায় পাই, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সদস্য অখিলচন্দ্র দত্ত বাংলা ভাগকে সমর্থন করেননি, এবং বাংলা প্রদেশের সাম্প্রদায়িক সরকারকে প্রতিরোধ করতে বঙ্গভঙ্গের উদ্যোগ যে একটি দিশাহীন কার্যক্রমে পর্যবসিত হবে, তা ব্যাখ্যাও করেন। দেবদত্তা চক্রবর্তীর লেখায় উঠে এসেছে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সভাপতি সুরেন্দ্রমোহন ঘোষের প্রসঙ্গ। যিনি স্বপ্ন দেখতেন যে, বঙ্গ বিভাজনের প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হবে না, এবং শীঘ্রই অবিভক্ত বাংলা স্বাধীন ও অবিভক্ত ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে।

অন্যদিকে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও ‘হিন্দু মহাসভা’ একটি আপসহীন গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনমতকে বাংলা ভাগের পক্ষে নিয়ে আসতে তৎপর হয়েছিলেন। ভাইসরয় ওয়াভেলকে লেখা ১৯ মার্চ, ১৯৪৭ সালের চিঠিতে গভর্নর ফ্রেডরিক বারোজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলা ভাগের আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন মুখ্য প্রবর্তক। শ্যামাপ্রসাদ হিন্দু বাঙালিদের ভারতভুক্ত করার পক্ষে কেবল জোরালো মত রেখে থেমে যাননি, পাশাপাশি, বাংলা ভাগ আটকাতে যে সব শক্তি পরস্পর হাত মিলিয়েছিল, তাদের মধ্যে লিগ, কংগ্রেস ও ব্রিটিশকে একই বন্ধনীতে রেখে সমালোচনা করেছিলেন।

কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছিল, কিন্তু ইতিহাসগতভাবেই বলতে হয় যে, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের মধ্যেও বাংলা ভাগের প্রশ্নে স্ব-বিরোধ ছিল, সিদ্ধান্তে দোলাচলও ছিল।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অতীত সম্পর্কে বিস্মৃত হতে চাননি। বলরাজ মাধবের লেখায় উঠে আসে যে, সিন্ধের হিন্দুদের স্বার্থকে তোয়াক্কা না করে কংগ্রেসের সুবিধাবাদী নেতৃত্ব যেভাবে কিছু অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তোষামোদ করতে বোম্বে (অধুনা মুম্বই) থেকে সিন্ধকে ব্যবচ্ছেদ করতে তৎপর হয়েছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ সেই সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞাত ছিলেন।

তিনি বাংলায় সংখ্যাগুরু মুসলিম লীগের আধিপত্য ও হিন্দুদের প্রতি তাদের বৈরী মনোভাব মেনে নিতে পারেননি। এমনকী, জিন্নার উগ্রতার রাজনীতিকেও তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অমলেশ ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন যে, একজন ‘উদারপন্থী’ হিন্দু রূপে শ্যামাপ্রসাদ হিন্দুদের ‘ভালো’-র জন্য ফজলুল হকের সঙ্গে হাত মেলাতে বা কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি এও লিখেছেন যে, বাংলা ভাগের প্রশ্নে বঙ্গীয় আইনসভার হিন্দু সদস্যদের শ্যামাপ্রসাদ যথেষ্ট প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বস্তুত, মার্কসবাদী ইতিহাসচর্চায় অনেক সময়ই বলা হয়ে থাকে যে, সাম্প্রদায়িকতার বিদ্বেষ আটকাতে ধর্মের ভিত্তিতে বঙ্গভাগ উপযুক্ত সমাধান ছিল না। এমনকী, অজানা নয় যে, আরএসপি ও ফরোয়ার্ড ব্লক প্রকাশ্যে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল। শরৎ বসু, শহিদ সোহরাওয়ার্দির সার্বভৌম যুক্তবঙ্গ গঠনের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অতীত সম্পর্কে বিস্মৃত হতে চাননি। বলরাজ মাধবের লেখায় উঠে আসে যে, সিন্ধের হিন্দুদের স্বার্থকে তোয়াক্কা না করে কংগ্রেসের সুবিধাবাদী নেতৃত্ব যেভাবে কিছু অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তোষামোদ করতে বোম্বে (অধুনা মুম্বই) থেকে সিন্ধকে ব্যবচ্ছেদ করতে তৎপর হয়েছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ সেই সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞাত ছিলেন।

যা-ই হোক, প্রশ্ন হল: ধর্মীয় ব্যঞ্জনাকে সামনে রেখে কিংবা ধর্মের ডাকে সাড়া দিয়ে কেন শ্যামাপ্রসাদ বঙ্গভঙ্গের আন্দোলন সংগঠিত করলেন; যেখানে তিনি স্বয়ং অখণ্ড হিন্দুস্থানের ব্যবচ্ছেদ ঘটিয়ে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবিকে নিন্দা জানিয়েছিলেন? ভারতের কল্যাণে মুলসিমদেরও সঙ্গে নিয়ে চলতেও আগ্রহী ছিলেন। এর উত্তর নিহিত রয়েছে অন্যত্র।
সর্বজনবিদত যে, ১৯৩২ সালের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারার নীতি ও ১৯৩৫ সালের ভারত বিষয়ক আইনের সুবাদে ধর্মীয় পার্থক্যের ভিত্তিতে দূরত্বের রাজনীতির ভিত প্রোথিত হয়েছিল। অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস দেখিয়েছেন যে, ১৯৩৭ সালের নির্বাচন পরবর্তী বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে নব্যগঠিত মুসলিম লীগের মন্ত্রিসভা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে যেভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের নীতি প্রয়োগ করেছিল, তাতে শিক্ষিত হিন্দুদের মধ্যে বেকারত্বের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

প্রয়াত সাংবাদিক শংকর ঘোষের লেখায় শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ খুঁজে পাই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা প্রদেশে মুসলিম লিগের উন্মত্ত শাসন ব্যবস্থাকে ‘গুন্ডামির শাসন’ রূপে অভিহিত করে হিন্দুদের অবর্ণনীয় দুর্দশার ছবিকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মন্তব্য করেন যে, লিগের শাসনে হিন্দুরা কেবল দাঙ্গার সম্মুখীন হয়নি; শিক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম ও জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে দুর্দশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও ‘হিন্দু মহাসভা’ তাই লিগ ও তাদের পাকিস্তানের দাবির কাছে বাংলার ২ কোটি ৬০ লক্ষ হিন্দুদের ভবিষ্যৎ সমর্পণ করতে প্রস্তুত ছিলেন না।

প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখায় একইভাবে উঠে আসে যে, সংখ্যাগুরু মুসলিম লিগের সরকার আনীত মাধ্যমিক শিক্ষা বিল, প্রজাস্বত্ব বিষয়ক সংশোধনী বিল ইত্যাদির পাশাপাশি একাধিক সংস্কার উদ্যোগের ফলে হিন্দুরা শিক্ষা ও অর্থনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এমনকী, ১৯৪৬ সালের আগস্টে কলকাতায় সংঘটিত নির্মম নিধন পর্বের পরিণতিতে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ’৪৬ সালের দাঙ্গা প্রতিরোধে কমিউনিস্টদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও দিশাহীনতাকে খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। আবার, ইতিহাসগতভাবেই দেখতে পাই যে, ‘হিন্দু মহাসভা’-র অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব রূপে এই সময় শ্যামাপ্রসাদ আহ্বান জানিয়েছিলেন যে জীবন, নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বাংলা প্রদেশের সর্বস্তরে ইসলামি নিয়ন্ত্রণের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যখন পৃথক বঙ্গের দাবিকে বৃহত্তর সামাজিক ভিত্তি দিতে প্রয়াসী হয়েছিলেন, তাতে গণতান্ত্রিকভাবে মত আদান-প্রদানের মহতী ভাবনা সহায়ক ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু ‘বাটকে লেঙ্গে পাকিস্তান’-এর দাবি তোলা লিগের বাঙালি সদস্য আবুল হাশিম স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রক্তধারা বা ‘ব্লাড বাথ’ বইয়ে দিতেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে যিনি শরৎ বসুর ‘যুক্ত বঙ্গ’-র পরিকল্পনার সঙ্গেও শ্লিষ্ট হয়েছিলেন বলে জানতে পারি। আর, এই ‘স্বাধীন’ বঙ্গ রাষ্ট্রের ভাবনাকে লীগ পরিচালিত দূরসন্ধিমূলক চক্রান্ত বলে কার্যত নস্যাৎ করতে চেয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। স্মর্তব্য, বাংলায় মুসলিম সমাজের মধ্যে জাতীয়তাবাদ-বিরোধী সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপনের ক্ষেত্রে ১৯৩২ সালে ম্যাকডোনাল্ডের সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির একটি বিরাট ভূমিকা ছিল। তবে, এই নীতি লাগু হওয়ার আগেই বঙ্গীয় মুসলিম কনফারেন্স থেকে এএইচ গাজনাভি সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে মুসলিমদের বৃহৎ প্রতিনিধিত্বের পক্ষে সওয়াল করেন।

প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায় দেখাচ্ছেন যে, মুসলিম নেতৃত্ব যখন হিন্দুদের রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষমতাকে দুরমুশ করতে তৎপর, সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি তখন আদতে তাদের সামনে একটি বড় সম্ভবনার দরজা খুলে দিয়েছিল। বাংলায় মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছিল এমএ ইস্পাহানির নেতৃত্বে মুসলিম বণিক গোষ্ঠী ও অ-বাঙালি মুসলিম পরিবারগণ। সর্বভারতীয় মুসলিম লিগের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ‘মুসলিম চেম্বার অফ কমার্স’ কলকাতার মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবারগুলির মধ্যে সংকীর্ণ জাতি-বিদ্বেষ সঞ্চার করেছিল।
অত্যুক্তি হয় না যে, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বীভৎসতা, মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার অশনিচেহারা ও জনজীবনের সর্বস্তরের ইসলামি নিয়ন্ত্রণের সর্বগ্রাসী চেষ্টার আবহে বাঙালি হিন্দুদের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে শ্যামাপ্রসাদ ও ‘হিন্দু মহাসভা’ বাধ্য হয়েছিল ধর্মের ডাকে সাড়া দিতে। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শ্যামাপ্রসাদ একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ক্ষমতা অর্পণ, বাংলার হিন্দুপ্রধান অঞ্চলগুলিকে আলাদা করে বাঙালি হিন্দুদের ‘হোমল্যান্ড’ রূপে ভারতভুক্ত করার পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা শুরু করেছিলেন। এই নতুন নির্মীয়মাণ জন পরিসরে লক্ষণীয়ভাবে সবর্ণ ভদ্রলোক ও দলিত পরিচিতির একটি পারস্পরিক সমঝোতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।

এক্ষেত্রে, লিগ কর্তৃক প্রচারিত ‘অপরায়ণ’-এর ধারণাকে নস্যাৎ করে বৃহত্তর হিন্দু রাজনৈতিক সত্তার মধ্যে দলিত, আদিবাসীদের সংযুক্ত করার মহতী চেষ্টাও লক্ষ করা গিয়েছিল। শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকী দেবদত্তা চক্রবর্তীর লেখাতেও পাই– কৃষ্ণপদ সমাদ্দার, পাতিরাম রায়, মোহনলাল মণ্ডল, প্রমথনাথ ঠাকুর, প্রেমহরি বর্মণ প্রমুখ বঙ্গভঙ্গের পক্ষে শ্যামাপ্রসাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে বঙ্গভঙ্গের আন্দোলন কেবল সমাজের একটি স্তরের মধ্যেই সীমায়িত ছিল না। এও বোধহয় বলা যায় যে, ‘জননেতা’ রূপে শ্যামাপ্রসাদের উত্থান ঘটেছিল এ পর্বেই। তাই প্রাক-ভারত বিভাজন পর্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্থান যেমন একটি সময়োচিত দাবি ছিল, তেমনই বাংলা ভাগ আন্দোলনে ড. মুখোপাধ্যায়ের অজেয় নেতৃত্ব ও প্রভাবের বহুধাবিস্তৃত ক্ষেত্র ভীষণভাবে ইতিহাসসম্মতও ছিল।

(মতামত নিজস্ব)

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement