shono
Advertisement

সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের মাঝে ঋতুকালীন রক্তছাপ! ট্যাবুর বিরুদ্ধে লড়াই-বার্তা

জোহানেসবার্গের সংবাদপত্র 'দ্য স্টার' একটি বিজ্ঞাপন ছেপেছে পাতায় রক্তপ্রলেপের আভাস দিয়ে। আসলে এটি ঋতুকালীন ট্যাবুর বিরোধিতা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 05:27 PM Jun 18, 2026Updated: 05:27 PM Jun 18, 2026

রিলসের রঙিন রসালাপ থেকে ছাড় নেই কারও। ভাসতে ভাসতে অ্যালগরিদমের তালে চলে এল তেমনই একটি দক্ষিণী সিনেমার রিল। বাসে করে একটি কিশোরী স্কুলে যাচ্ছে। পরনে সাদা ইউনিফর্ম। একটি লাফাঙ্গা প্রকৃতির ছেলে মেয়েটিকে পিছন থেকে নিরীক্ষণ করছিল অনেকক্ষণ ধরে। তারপর আকস্মিক ক্ষিপ্রতায় তার স্কুল ইউনিফর্মে ছিটিয়ে দিল লাল রং। স্কার্টের কাপড় দ্রুত শুষে নিতে থাকল সেই রক্তিম ঠাট্টা।

Advertisement

ঈশপের গল্পে পড়া ব্যাঙদের কথা মনে পড়ে যেতে পারে। একটি দুষ্টু ছেলে পুকুরের ধারে দাঁড়িয়ে পাথর ছুড়ে ছুড়ে ব্যাঙদের আহত করছিল। মারছিল। তার কাছে সেটা এক ধরনের খেলা, মন ভাল করার স্পোর্ট। একটি ব্যাঙ শেষে থাকতে না পেরে বলেছিল: তোমার কাছে যা খেলা, তা আমাদের কাছে প্রাণঘাতী আক্রমণ। ছেলেটির তখন হুঁশ ফেরে। মেয়েটিকে এক-বাস লোক ও সামাজিকতার মাঝে অপমান করার জন্য লাল রঞ্জক পদার্থ ছুড়ে দিয়েছিল লোফার ছেলেটি। এটি তো তার কাছেও এক ধরনের স্পোর্ট, খেলা, মনোরঞ্জনের অছিলা। কিন্তু মেয়েটির জন্য প্রচণ্ড শরম আর বিহ্বলতা আর অসহায়তার ত্রিফলা পেষণ।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত সেই বিজ্ঞাপন

মেয়েটি একছুটে বাস থেকে নামে। শরণাপন্ন হয় তার চেনা কিছু যুবকের। হতে পারে সে-দলে তার দাদা ছিল, বা ছিল এমন কেউ, যে পুরুষ ও শক্তিমান ও রক্ষক। ওই একদল যুবক তখন মেয়েটির অপমানের বদলা নিতে বাসের ওই ছেলেটিকে পালটা আক্রমণ করে। তুমুল মারে তাকে। রিল এখানে শেষ হয়ে যায়। প্রতিশোধের বৃত্তান্তটি বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না আমাদের। ঋতুস্রাবের জড়তা থেকে ভারতীয় মেয়েদের মুক্তি নেই- এমন একটি বার্তা যেন প্রকারান্তরে চলে আসে এই রিলের ভিতরে, এবং সেই সঙ্গে আসে ভারতীয় পুরুষের হিরোপন্তি। একটি মেয়ের আবরু বাঁচাতে একজন পুরুষকে পরাক্রান্ত হতে হয়। যেন এটিই সমাজের নিয়ম।

এর ব্যত্যয় কি নেই? জোহানেসবার্গ থেকে প্রকাশিত 'দ্য স্টার' সংবাদপত্র কয়েক দিন আগে একটি আশ্চর্য কাণ্ড ঘটায়। একটি প্রতিবেদনের মাঝে দেখা যায় গাঢ় লাল রঙের পোঁচ। যে কারও প্রাথমিক ধারণা হওয়া স্বাভাবিক, এটি হয়তো 'প্রোডাকশন এরর'। সম্পাদকীয় ভ্রান্তি, বা ছাপাখানার অবহেলার ফল। আসলে তা নয়। এটি ছিল একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারকৌশল। সযত্নে সাজানো। বিজ্ঞাপনের ক্যাচলাইন- 'হোয়াট ইফ ইওর প্যাড কুড লাস্ট ফাইভ ইয়ার্স?' এমন কোন স্যানিটারি ন্যাপকিন কোম্পানি রয়েছে, যাদের একটি প্যাড পাঁচ বছর চলবে? অর্থাৎ এটি বাস্তব নয়। বরং বাস্তব হল, ঋতুস্রাবের রক্তছাপ।

এ ব্যাপারে কোনও নারী জ্ঞানত অসাবধান হন না। তাও অবাঞ্ছিত ক্ষরণ হতে পারে। বিষয়টিকে স্বাভাবিক জীবনের অংশ বলেই ধরতে হবে। ভুললে হবে না, ঋতুমতী নারী সৃষ্টির দ্যোতক। 'মেনস্ট্রুয়েশন ফাউন্ডেশন' এই বিজ্ঞাপনটি করেছে। আফ্রিকা জুড়ে তারা বিনামূল্যে প্যাড বিতরণ করে। বিজ্ঞাপনটি অনবদ্য। কারণ, এতে ট্যাবুর বিরুদ্ধে লড়াই-বার্তা আছে, কিন্তু রক্ষাকর্তা পুরুষের পেশি আস্ফালন নেই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement