shono
Advertisement
Revenge

প্রতিশোধের প্রবণতা, কী বলছে ইতিহাস?

নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা কাম্য না অকাম্য, সে প্রশ্ন স্বতন্ত্র। কিন্তু প্রতিশোধের প্রবণতাকে ইতিহাস অন্তত সমর্থন করে এসেছে বরাবর।
Published By: Kishore GhoshPosted: 03:18 PM Jun 15, 2026Updated: 03:18 PM Jun 15, 2026

'পরিশ্রান্তং ভগ্নং ভোজনে রতং পলায়মানং আশ্রয়প্রবিষ্টম্।/অর্ধরাত্রে নিদ্রিতং নায়কহীনং বিচ্ছিন্নং দ্বিধাযুক্তং বা শত্রং প্রহরং বিধেয়ম্।' অর্থাৎ, পরিশ্রান্ত, আহত, ভোজনে রত, পলায়নরত, আশ্রিত, অর্ধরাত্রে নিদ্রিত, নেতৃত্ব বা নায়কহীন, বিচ্ছিন্ন বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা শত্রুকে আঘাত বা প্রহার করা বিধেয়। মোদ্দায়, যে-শত্রুর যুদ্ধেচ্ছায় আপাত স্খলন হয়েছে, সে যে কারণেই হোক না কেন, তাকে নিঃশেষ করে দেওয়া শাস্ত্রসম্মত। 'মহাভারত' একথা বলেছে। তা অন্ধভাবে 'ফলো' করেছেন অশ্বত্থামা। মাঝরাতে ক্লান্ত পাণ্ডব শিবিরে ঢুকে তছনছ করে এসেছেন তাদের আগামী কুলপ্রদীপদের। অর্থাৎ, আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা যতটা 'বিলো দ্য বেল্ট'-ই মনে হোক না হোক না কেন 'প্রণয়ে সংসারস্য সর্বেপি ন্যায়াঃ'।

Advertisement

ষোড়শ শতকে জন লিলি-র উপন্যাস 'ইউফিয়াস: দ্য অ্যানাটমি অফ উইট' (১৫৭৮) শোনাল আমাদের মহাকাব্যেরই অমোঘ প্রতিধ্বনি: 'দ্য রুলস অফ ফেয়ার প্লে ডু নট অ্যাপ্লাই ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার'। ব্যাপারটা স্পষ্ট, প্রেমে এবং যুদ্ধে সব জায়েজ। আর যুদ্ধ তো আসেই প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে। পৃথিবীর ইতিহাস প্রতিশোধের ইতিহাস বই তো নয়। বঞ্চনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো হোক বা অধিকার রক্ষা বা আত্মপ্রতিষ্ঠা- প্রতিটা লড়াইয়ের ঘামে লেগে প্রতিশোধ স্পৃহার আদিম আঘ্রাণ।

কোনও অদূর ভবিষ্যতে এই ইতিহাস মনে রেখে আরও তীব্রতর প্রতিঘাত যদি ফিরিয়ে দেয় বর্তমানে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের রিফিউজি ক্যাম্পে আধখাওয়া, ধুলোময়লায় পড়ে থাকা ছেলেটা তবে তা অনাচার হবে কি?

'ইফ ইউ রং আস, শ্যাল উই নট রিভেঞ্জ?' উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের 'দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস'-এ শাইলক-এর কণ্ঠে অনুরণিত হয় এই স্বগতোক্তি। তোমরা আমাদের সঙ্গে অন্যায় করলে, আমরাও কি প্রতিশোধস্পৃহ হব না? ইতিহাস বলে, এ প্রশ্নের উত্তর 'হ্যাঁ'বাচক। অবদমিতরা যখন-যখন ক্ষমতায় এসেছে তাদের প্রতিশোধ-প্রতিজ্ঞার সফল রূপায়ণ ঘটিয়েছে। কখনও কূটনৈতিক সুক্ষ্মতায়, কখনও পাশবিক স্থূলতায়। এই দুর্বিনীত ইচ্ছা থেকেই তো প্রায় দু'হাজার বছর ধরে নিজভূমচ্যুত ইহুদিরা, ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শোষিত-নীপিড়িত-বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে একঘরে হওয়া ইহুদিরা, ঘুরে দাঁড়াতে শস্ত্র করেছে দ্বিগুণ বর্বরতাকে।

কোনও অদূর ভবিষ্যতে এই ইতিহাস মনে রেখে আরও তীব্রতর প্রতিঘাত যদি ফিরিয়ে দেয় বর্তমানে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের রিফিউজি ক্যাম্পে আধখাওয়া, ধুলোময়লায় পড়ে থাকা ছেলেটা তবে তা অনাচার হবে কি? বরং ইতিহাস ও শাস্ত্রের সুসমঞ্জস কৃত্য সাধন করবে সে। তার ঐতিহাসিক বীক্ষণ ও মানুষপ্রেমের লার্ভাটি বড়জোর তাকে পিছু ডাকতে পারে আধবার। কিন্তু সে-কথা সে শুনতে, অবশ্যই, বাধ্য নয়। ইতিহাস অন্তত এ যাত্রায় তাকে সমর্থনই করবে।
যে কোনও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় 'আফটারম্যাথ' হিসাবে আসে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা।

এই হিংসা ভালো না খারাপ, উচিত না অনুচিত- সে প্রশ্নে মহানাট্যের বিবেক চরিত্র দোলাচলে পড়তেই পারে। কিন্তু একদা শোষিত, লুণ্ঠিত নিপীড়িত দলটি যখন মর্যাদা বলে ক্ষমতায় আসে তখন একদা শোষক, লুণ্ঠক ও নিপীড়কের বিরুদ্ধে ঠিকরে বেরিয়ে আসা তার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিশোধ স্পৃহাটি ইতিহাস মতে অন্তত আশ্চর্যের নয়; তাত্ত্বিকেরা যা-ই বলুন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement