হাতে ঢাল-তরোয়াল নিয়ে এক শিশু। ক্ষিপ্র হাতে সেই স্কেচটি একদা এঁকে দিয়েছিলেন খোদ সত্যজিৎ রায়। সেই ছবিই পরবর্তীকালে চিলড্রেনস্ লিটিল থিয়েটার বা সিএলটি-র প্রতীক হয়ে ওঠে। দেখতে দেখতে পঁচাত্তর বছরে পা দিল শিশুদের সেই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। আগামী ৮ মে ২০২৬ থেকে তিলত্তমার বুকে শুরু হতে চলেছে এই হীরক জয়ন্তী বর্ষের বর্ণাঢ্য উদযাপন। এক বছর ধরে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে এই বিশেষ মাইলফলক।
সিএলটি-র এই দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৪৯ সালে চেতলা হাই স্কুলে সমর চট্টোপাধ্যায়ের লেখা কয়েকটি ছড়া পরিবেশন করেছিল একদল শিশু। সেই ছোট্ট উদ্যোগ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সভাপতি ডঃ কালিদাস নাগ। তিনিই প্রথম প্রস্তাব দেন একটি শিশু থিয়েটার গড়ার। সেই ভাবনা থেকেই ১৯৫১ সালে জন্ম নেয় ‘রিদম্স অ্যান্ড রাইমস’। পরে জওহরলাল নেহরুর শুভেচ্ছাবার্তা এবং এন. এন. ভোসের উৎসাহে ১৯৫২ সালের মে মাসে নিউ এম্পায়ার মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম সর্বজনীন প্রদর্শনী। ওই বছরই নাম বদলে হয় ‘চিলড্রেনস লিটল থিয়েটার’।
অবন মহলে সত্যজিত রায়। ছবি: সংগৃহীত
এই আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন রবিশঙ্কর ও তিমির বরণ। তাঁরা সিএলটি-র প্রযোজনায় আবহ সঙ্গীত তৈরি করেছিলেন। এমনকী প্রথম সারির শিল্পী ও শিক্ষকরাও এখানে প্রশিক্ষণ দিতেন। ঢাকুরিয়ার অবন মহল চত্বর আজও সেই ঐতিহ্যের সাক্ষী। এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। ৭৫ বছর পূর্তির লগ্নে নস্টালজিক শর্মিলা জানান, শৈশবের এই নাট্য জগতের সংস্পর্শই তাঁর পেশাদার জীবনের ভিত গড়ে দিয়েছিল।
আগামী ৮ মে’র উদ্বোধনী সন্ধ্যায় উপস্থিত থাকবেন জওহর সরকার, সৌমিত্র বসু, অলকানন্দা রায় এবং চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানের সূচিতে রয়েছে সমবেত সঙ্গীত, জুনিয়রদের নাচ, রোলার স্কেটিং এবং উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর নাটক ‘জোলা আর সাত ভূত’। অনুষ্ঠানের শেষ আকর্ষণ প্রবীণ শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ‘আনন্দ’। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষে এটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল।
শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু (অক্টোবর, ১৯৬১)। ছবি: সংগৃহীত
সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর মুখোপাধ্যায় জানান, এই হীরক জয়ন্তী বর্ষে ‘প্রতিষ্ঠাতা দিবস’ এবং ‘ডিসেম্বর উৎসব’ উপলক্ষে সিএলটি-র কিছু কালজয়ী প্রযোজনা পুনরায় মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁদের প্রধান অঙ্গীকার।
