হিন্দুশাস্ত্র মতে বিয়ে হল সাতজন্মের বন্ধন। ফলে এমন বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তো আর মুখের কথা নয়, ঝাড়াই-বাছাইয়ের অধিকার সকলেরই থাকা উচিত। কিন্তু তা যদি একেবারে বিয়ের মণ্ডপে হয়, তবে তা চিন্তার কথাই বটে। অতিথিদের সামনে নাক কাটা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কার্যত সেই ঘটনাই ঘটল মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায়। বিয়ের মণ্ডপে অতিথিদের সামনে হবু বরকে ছেড়ে প্রেমিকের গলায় মালা দিলেন কনে। এই ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে গেল বিয়ে বাড়িতে।
জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ছিন্দওয়াড়ার উমরেথ গ্রামের। বাড়ি থেকে দেখাশোনা করে বিয়ে ঠিক হয়েছিল এক তরুণীর। বর পারসিয়ার বাসিন্দা। ২৩ এপ্রিল উমরেথ গ্রামে বসেছিল বিয়ের আসর। শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। অতিথিদের উপস্থিতিতে বর-কনেকে বসিয়ে শুরু হয় মন্ত্রপাঠ। ঘটনার যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, লাল বেনারসি পরে বিয়ের রীতি পালন করছেন কনে। নিয়ম মেনে আসে মাল্যদান পর্ব। পুরোহিত বলেন, 'এবার বরের গলায় মালা পরিয়ে দাও।' ঠিক সেই সময় দেখা যায় মালা হাতে ছাদনাতলা থেকে নেমে দৌড়চ্ছেন কনে। কী ঘটতে চলেছে তখনও বুঝে উঠতে পারেননি কেউ।
বিয়ের মণ্ডপে অতিথিদের সামনে হবু বরকে ছেড়ে প্রেমিকের গলায় মালা দিলেন কনে। এই ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে গেল বিয়ে বাড়িতে।
দৌড়তে থাকা কনেকে ধরতে দৌড়তে শুরু করেন সেখানে উপস্থিত অতিথিরা। এই অবস্থায় সকলকে চমকে দিয়ে অতিথিদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের গলায় মালা পরিয়ে দেন কনে। তিনি ওই তরুণীর প্রেমিক। বিয়ের আসরে সঙ্গে সঙ্গে হুলুস্থুল বেঁধে যায়। ওই যুবককে ধরে বেধড়ক মারতে শুরু করে কনের পরিবার। শেষে সেখান থেকে তাড়িয়ে বের করে দেওয়া হয় যুবককে।
কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফের শুরু হয় বিয়ের আসর। কিন্তু ততক্ষণে বেঁকে বসেছেন বর ও বরযাত্রীরা। কোনওভাবেই ওই তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি হননি তিনি। কনের পরিবারের তরফে তাঁদের বোঝানো হলেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় বিয়ের আসর। এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় বরপক্ষের তরফে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, বিয়ে ভাঙার ঘটনায় কনেপক্ষ ক্ষুব্ধ। এই ঘটনায় যদি কনের কোনও ক্ষতি হয় তবে তার দায় বরপক্ষ নেবে না। পুলিশের তরফেও এই বিষয়ে জানানো হয়েছে, বর ও কনে সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে এই বিষয়ে তাঁদের কিছুই করার নেই।
