২৫শে বৈশাখ মানেই বাঙালির আবেগের জোয়ার। গত ৯ই মে দেশজুড়ে পালিত হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। তবে শহরের ব্যস্ততার মাঝে এক টুকরো শান্তির নীড় সারদেশ্বরী আশ্রম (Sardeswari Ashram) সাক্ষী থাকল এক অনন্য সন্ধ্যার। আশ্রমের ছাত্রীদের নিবেদিত প্রাণের ছন্দে সেখানে অন্য মাত্রায় উদ্ভাসিত হলেন রবি।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ‘বৃষ্টিস্নাত রবি’। রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গানে ও কবিতায় জুড়িয়েছে সকলের হৃদয়। রুদ্রাগ্নি ক্রিয়েটিভ এন্ড ক্লাসিক্যাল ডান্স একাডেমির অবৈতনিক নৃত্য ক্লাসের ছাত্রীরা এদিন মঞ্চ মাতাল। গত আগস্ট মাসে আশ্রমে এই প্রশিক্ষণের সূচনা হয়েছিল মূলত দুঃস্থ ও প্রতিভাময়ী মেয়েদের শিল্পের মূল স্রোতে আনতে। এক বছরেরও কম সময়ের কঠোর পরিশ্রমে তাঁরা যে মঞ্চসফল প্রযোজনা উপহার দিল, তা দেখে মুগ্ধ উপস্থিত সুধীজন।
কবিগুরুর বর্ষার গান আর কবিতায় ছাত্রীদের সাবলীল নৃত্যশৈলী এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছিল। প্রতিকূলতা ছাপিয়ে তাঁদের চোখের অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠছিল রবীন্দ্র-সৃষ্টির গভীরতা। আশ্রমের সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা—সকলেই এই স্নিগ্ধ সাংস্কৃতিক নিবেদন তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন।
আশ্রম কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আশ্রমের পরিবেশকে যেমন সজীব করে তোলে, তেমনি অবহেলিত প্রতিভাদের আত্মবিশ্বাস জোগায়। রবি-স্মরণের এই সন্ধ্যাটি কেবল উৎসব হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে এক সৃজনশীল উত্তরণের গল্প। অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রীদের এই নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান সকলে। সারদেশ্বরী আশ্রমের আঙিনায় এই সুরের রেশ রয়ে গেল দীর্ঘস্থায়ী হয়ে।
