বিক্রম রায়, কোচবিহার: দুই স্ত্রী, অথচ লোকসভায় নির্বাচনী হলফনামায় একজন স্ত্রীর উল্লেখ করেছেন কোচবিহারের (Cooch behar) তৃণমূল প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া (Jagadish Chandra Barma Basunia)। এমনই অভিযোগ তুলে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সরব হল বিজেপি। এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অজয় রায়। প্রথম দফা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুতে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে কোচবিহার রাজনীতিতে।
বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনকে লেখা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, 'লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার কেন্দ্রে বিজেপির (BJP) তরফে প্রার্থী হয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূলের (TMC) জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। সম্প্রতি কমিশনের কাছে তিনি যে হলফনামা পেশ করেছেন তাতে নিজের পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বসুনিয়া। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর নাম শুকতারা বর্মা বসুনিয়া। অথচ তাঁর আরও এক স্ত্রী রয়েছেন যিনি সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া। সে তথ্য বেমালুম চেপে গিয়েছেন তিনি।' এ প্রসঙ্গে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সঙ্গীতার মনোনয়ন পত্র তুলে ধরেছে বিজেপি। যেখানে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে নিজের স্বামী হিসেবে দাবি করেছেন বর্তমানে সিতাই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঙ্গীতা।
বিজেপির দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় ভুল ও মিথ্যা তথ্য দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ১২৫এ ধারা অনুযায়ী অবিলম্বে বাতিল করা হোক কোচবিহারের তৃণমূল প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার মনোনয়ন। কমিশনে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সংবাদ মাধ্যমের সামনেও বিষয়টি তুলে ধরেন বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী। নিয়ম অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ আইনে প্রথম স্ত্রী থাকাকালীন দ্বিতীয় বিবাহ করা যায় না। উনি কীভাবে সেটা করলেন? প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিজেপির তরফে।
এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া জানান, "হিন্দু বিবাহ আইনে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী বৈধ হয়। সেইমতো স্ত্রী হিসেবে শুকতারা বর্মা বসুনিয়ার নাম হলফনামায় দিয়েছি আমি। ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সেটাই করেছিলাম আমি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অভিযোগ করছে বিজেপি। বিধায়ক মিহির গোস্বামীর কাছে এমনটা কাম্য নয়।"
Advertisement