মরশুমের শুরুতেই মাথায় হাত নদিয়ার পাট চাষিদের। গত কয়েকদিনে আচমকাই কমতে শুরু করেছে পাটের দাম। বর্তমানে নদীয়া জেলা তথা তেহট্ট ব্লকে প্রতি কুইন্টাল পাটের বাজারদর ঘোরাফেরা করছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে। কয়েকদিন আগে ছিল এই পাঠের বাজারদর ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। আচমকা এই দরপতনে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন জেলার প্রান্তিক চাষিরা।
ব্যবসায়ীদের মতে, এই দাম কমে যাওয়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় এবার আগাম পাটের চাষ হয়েছিল। ইতিমধ্যেই নদীয়া এবং পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ জেলার কিছু কিছু এলাকাতেও নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, এবার পর্যাপ্ত ও ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। ফলে বাজারে পাটের জোগান আচমকাই বেড়ে গেছে। এর ওপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো সাময়িকভাবে দুটি বড় চটকল পাট কেনা স্থগিত রেখেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। পাশাপাশি, অনেক চাষি পাট কাটার পর ভালো করে না শুকিয়েই জলসমেত বাজারে নিয়ে আসছেন। আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম।
চাষিদের অভিযোগ, একদিকে যখন পাটের দাম প্রতিদিন একটু একটু করে নিচের দিকে নামছে, ঠিক তখনই উলটো চিত্র দেখা যাচ্ছে শ্রমিকের বাজারে। দিনকে দিন শ্রমিকের মজুরি এবং চাষের আনুষঙ্গিক খরচ আকাশছোঁয়া হচ্ছে। ফলে বিঘার পর বিঘা জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও, বিক্রির সময় খরচের টাকাই উঠছে না। বিঘা প্রতি লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতে গিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। সামনে পুজো এবং উৎসবের মরশুম। এই সময়ে পাটের ন্যায্য দাম না মেলায় হাজার হাজার চাষি পরিবার এখন ঘোর সংকটের মুখোমুখি। বাজারদর যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে আগামী দিনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
