shono
Advertisement

Breaking News

Katoa

চিনি-গুড়ের দাম ঊর্ধ্বমুখী, কাটোয়ায় ফের বাড়ছে আখ চাষে আগ্রহ

চিনির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী, দামের আঁচ এবার পৌঁছেছে আখচাষের জমিতেও। এক সময় পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমার আখচাষ ছিল পরিচিত ছবি। কেতুগ্রাম ২, মঙ্গলকোট, কাটোয়া ১ ও কাটোয়া ২ ব্লকের ভাগীরথী নদী ও অজয় নদ, ব্রহ্মাণী নদী-তীরবর্তী উর্বর জমিতে ভালই আখ ফলাতেন চাষিরা।
Published By: Suhrid DasPosted: 09:10 PM Aug 25, 2026Updated: 09:10 PM Aug 25, 2026

চিনির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী, দামের আঁচ এবার পৌঁছেছে আখচাষের জমিতেও। এক সময় পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমার আখচাষ ছিল পরিচিত ছবি। কেতুগ্রাম ২, মঙ্গলকোট, কাটোয়া ১ ও কাটোয়া ২ ব্লকের ভাগীরথী নদী ও অজয় নদ, ব্রহ্মাণী নদী-তীরবর্তী উর্বর জমিতে ভালই আখ ফলাতেন চাষিরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চাষ কমেছে। এখন চিনির দাম বাড়ায় ফের আখচাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকদের একাংশ। কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, সাত-আট বছর আগেও কাটোয়া মহকুমায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে আখচাষ হত। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ হেক্টরে।

Advertisement

এক সময় কেতুগ্রামের উদ্ধারণপুরে ইক্ষু গ্রহণ কেন্দ্রও গড়ে উঠেছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভাগীরথী নদী ও অজয়নদের তীরবর্তী এলাকাগুলিতে উর্বর পলিমাটির গুণের কারণে আখ চাষের প্রবণতা এখনও রয়েছে কৃষকদের একাংশের মধ্যে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত শতকের আটের দশকেও এই এলাকায় প্রচুর আখ চাষ হত। তখন রাজ্য জুড়ে চিনি শিল্পেরও ভীষণ ভালো বাজার ছিল। পূর্ব বর্ধমান জেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রভূত আখের উৎপাদনের কারণে নদিয়া জেলার পলাশি, বীরভূম জেলার আমোদপুর এলাকায় সেসময় গড়ে উঠেছিল একাধিক চিনিকল। মূলত সেইসময় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গঠন করা হয় 'রাজ্য চিনি শিল্প উন্নয়ন নিগম'।

চিনিকলগুলি পরিচালনার ভার দেওয়া হয়েছিল সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা বেসরকারি সংস্থাগুলিকে। তখন আখ চাষিদের উৎপাদিত ফসল বিপণনের সুবিধার্থে কেতুগ্রাম ২ ব্লকের সীতাহাটি অঞ্চলের উদ্ধারণপুরে তৈরি হয়েছিল ইক্ষু গ্রহণ কেন্দ্রটি। সেসময় এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্রয় করা আখ বীরভূম জেলার আমোদপুর এলাকায় চিনিকলে ইউনিটের যেত। বর্তমানে ইক্ষুগ্রহণ কেন্দ্র পোরোবাড়ির চেহারা নিয়েছে। কেতুগ্রামের চর সুজাপুরে আখের কল ঘিরে ছিল জমজমাট কারবার। কিন্তু আখ বিক্রির সমস্যা, সময়মতো দাম না পাওয়া এবং বাজারের অনিশ্চয়তায় ধীরে ধীরে এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন বহু কৃষক। এদিকে জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর জন্য দেশজুড়ে চিনির পাশাপাশি গুড়ের দামও বাড়ছে বলে মনে করছে একটা শ্রেণি। আখের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। বৃদ্ধির পিছনে ইথানল উৎপাদনের জন্য আখ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে চিনির সঙ্কটের জন্য ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করা হয়নি। তবে বাজারে আখের চাহিদা বাড়ায় তার প্রভাব চাষিদের মধ্যেও পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত চাষের বদলে ফের আখ চাষে ফিরতে চাইছেন কয়েক জন কৃষক। তাঁদের আশা, চাহিদা বাড়লে আখের ভাল দাম মিলতে পারে। তবে চাষিদের বক্তব্য, শুধু দাম বাড়লেই হবে না, নিশ্চিত বাজার এবং ন্যায্য দাম পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি দপ্তরের এক মহকুমা স্তরের আধিকারিকের কথায়, "কৃষকেরা যদি বিকল্প চাষের প্রতি আগ্রহী হন, তা হলে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।” ফলে চিনির দামের ঊর্ধ্বগতিই কি কাটোয়ায় আখচাষের পুরনো ছবি ফিরিয়ে আনবে? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement