দেবীপক্ষমহানগররাজ্যবিদেশখেলালাইফস্টাইল
Punjab

'অন্যের জন্য খাটব না', গুগলের মোটা অঙ্কের চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে মুনাফা তুলছেন পাঞ্জাবের ইঞ্জিনিয়ার

মনতাজ জানান, গুগলে মোটা অঙ্কের বেতন পেলেও তাঁর মনে হত, নিজের জীবনের অর্ধেক সময় দিয়ে দিচ্ছেন অন্য কারও স্বপ্নপূরণে।
Kousik Sinha
02:56 PM Aug 30, 2026 IST
মনতাজ জানান, গুগলে মোটা অঙ্কের বেতন পেলেও তাঁর মনে হত, নিজের জীবনের অর্ধেক সময় দিয়ে দিচ্ছেন অন্য কারও স্বপ্নপূরণে।
পাঞ্জাবের পাটিয়ালার বাসিন্দা মানতাজ সিধু।

গুগলে চাকরি করা টেকপ্রেমীদের কাছে স্বপ্ন! আর এই স্বপ্নের দুনিয়ায় পাও রেখেছিলেন মনতাজ সিধু। স্বপ্নপূরণ করতে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ভারতীয় এই ইঞ্জিনিয়ার। বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি সংস্থায় মোটা বেতনের চাকরি। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে বিলাসবহুল জীবন। কী ছিল না! বছরে ৮৩ লক্ষ টাকার প্যাকেজ তো মুখের কথা নয়। সেই সব ছেড়ে মাটির টানে ফিরে এলেন দেশে। মন দিলেন চাষের কাজে। এ যেন এক অদ্ভুত গল্পকথা। তবে এটাই বাস্তব। পাঞ্জাবের পাটিয়ালার বাসিন্দা মানতাজ সিধু ঠিক এমনটাই করেছেন। বিষমুক্ত ও রাসায়নিকহীন খাঁটি জৈব খাদ্য চাষ করার লক্ষ্যে সব ছেড়ে ফিরে এসেছেন তিনি।

মনতাজ জানান, গুগলে মোটা অঙ্কের বেতন পেলেও তাঁর মনে হত, নিজের জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় দিয়ে দিচ্ছেন অন্য কারও স্বপ্নপূরণে। কিন্তু এই কাজে মানসিক শান্তি পাচ্ছেন তিনি।

হায়দরাবাদে গুগলে প্রথম চাকরি। তারপর মনতাজ চলে যান ডাবলিনে। গুগলের ইউরোপের টিমে যোগ দেন তিনি। বাইরে থেকে জীবনটা ঝাঁ চকচকে মনে হলেও, ভিতরের ছবিটা ছিল অন্যরকম! সিনিয়র সহকর্মীদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রা দেখে মনতাজ বেশ বুঝতে পারেন, শুধু বেতনের চেকটা বড় হলেই জীবনের শান্তি আসে না। বিদেশে থাকাকালীনই তাঁকে সবসময় ভাবাত যে ভারতের বাজারে বিক্রি হওয়া ভেজাল খাবার, সবজিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার। পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবেই ২০২২ সালে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাবের বাসিন্দা মানতাজ সিধু।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

পাঞ্জাবে ফিরে তুতো ভাই বলজিৎ সিং গিলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাটিয়ালায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘গিল অর্গানিকস’। শহরের মানুষ যাতে বিষমুক্ত এবং জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা সবজি খেতে পারেন, তার জন্য অভিনব মডেল চালু করেন। এলাকার বিভিন্ন খামারে জৈব উপায়ে ১৮টির বেশি প্রজাতির মরসুমি সবজি চাষ শুরু করা হয়। বিভিন্ন পরিবারের নামে প্লট বুক হয়। গ্রাহকরা চাইলে নিজেরাই গিয়ে নিজেদের প্লট থেকে শাকসবজি তুলে নিয়ে যেতে পারেন, আবার বাড়ি বসেই হোম ডেলিভারিও পেতে পারেন। এছাড়াও তাঁর ক্রেতাদের জন্য রয়েছে একাধিক সুবিধাও। আর তা অল্পদিনের মধ্যেই নজর কাড়ে। হয়ে ওঠেন একজন সফল ব্যবসায়ী। আর রোজগার? সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গুগলের বেতনের থেকে মোটা অঙ্কের তাঁর নাকি এখন রোজগার। শুধুমাত্র জৈব চাষ করে।

গুগলে কাজের সময়ে মনতাজ সিধুর ছবি।

মনতাজ জানান, গুগলে মোটা অঙ্কের বেতন পেলেও তাঁর মনে হত, নিজের জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় দিয়ে দিচ্ছেন অন্য কারও স্বপ্নপূরণে। কিন্তু এই কাজে মানসিক শান্তি পাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে শতাধিক পরিবার তাদের এই অর্গানিক ফার্ম থেকে নিয়মিত সবজি গ্রহণ করছে এবং মনতাজের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কর্পোরেট জগতের বাঁধাধরা জীবন ছেড়ে মাটির টানে ফিরে আসা এই যুবক আজ অনেকের কাছেই বড় অনুপ্রেরণা।

Advertisement
দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Tags :
Punjab
Advertisement
Tags :
Punjab

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন