জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাপটে ক্ষতির মুখে 'কৃষকবন্ধু' সাদা বক। বর্ষার শুরু হতেই কাঁকসার বিস্তীর্ণ ধান খেতে প্রায় শেষের মুখে ধান চাষের ব্যস্ততা। আর সেই ব্যস্ততার মধ্যেই ধান চাষের জমি জুড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসছে বড় বড় সাদা বক। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কৃষির এক অমূল্য সহযোদ্ধা। কৃষকের ভাষায়, এরা 'কৃষকবন্ধু'। ধানখেতে সারাদিন ধরে পোকামাকড়ের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় সাদা বক। শুঁয়োপোকা, ঘাসফড়িং, ফড়িং, বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ এমনকি ছোট শামুক-জাতীয় প্রাণীও এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে। ফলে ধানের বীজের ক্ষতি করা পোকার সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, আধুনিক কৃষিতে ক্রমবর্ধমান হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এই উপকারী পাখিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় কৃষকদের একাংশ জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও ধানখেতে শত শত সাদা বক একসঙ্গে দেখা যেত। এখনও বর্ষায় তারা মাঠে নামে, তবে অনেকেরই দাবি, আগের তুলনায় সংখ্যাটা কমেছে। পক্ষীপ্রেমী অশোক রায় বলেন, "আমি বিভিন্ন জায়গায় চাষিদের সচেতন করছি। সাদা বক চাষীদের বন্ধু। এই বক না থাকলে বাস্তুতন্ত্রের বড় ক্ষতি হবে। ধান জমিতে বেড়ে যাবে পোকামাকড়। তাই সাদা বক আমাদের বাঁচাতেই হবে।"
রাজ্য কৃষিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। সম্প্রতি জেলাশাসক পন্নামবলাম এস বলেন, "কৃষিতে জৈব সারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করলে কারোর কোনও ক্ষতি হয় না এবং জমির উর্বরতা বাড়ে।” দুর্গাপুর বনাঞ্চলের বনাধিকারিক তপোব্রত রায় বলেন, "বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। দুর্গাপুর রেঞ্জের পক্ষ থেকেও কাঁকসার জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ সকলকেই বন্যপ্রাণ বাঁচাতে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে।"
