সোশাল মিডিয়া স্ক্রল করতে গিয়ে চোখ আটকে গেল। হেঁশেলের উপকরণ দিয়ে এমন ঝকঝকে ত্বক পাওয়া সম্ভব নাকি! অবাক হলেন খুব। আর তার পরই রিল দেখে সেই মতো শুরু করলেন রূপচর্চা। কেউ মুখে লেবু ঘষছেন, কেউ-বা দানা কফি স্ক্রাবিং। অথচ তা কতটা সঠিক তা একবারের জন্যেও ক্রসচেক করার কথা মাথায় আসে না আমাদের। আজ্ঞে হ্যাঁ, এমনটাই করে থাকেন বেশির ভাগ মানুষ। ফেসবুক থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে আমরা যে ত্বকচর্চায় মজে রয়েছি, তা অসঙ্গতিতে ভর্তি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রান্নাঘরের সাধারণ মশলাপাতি বা উপকরণ অনেক ক্ষেত্রেই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোই আমাদের স্কিন ব্যারিয়ার বা ত্বকের রক্ষাকবচ চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই, মুখে মাখার আগে এই উপকরণগুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ফাইল ছবি
১) লেবু: উজ্জ্বলতা বাড়াতে বা দাগছোপ কমাতে অনেকেই সরাসরি লেবুর রস মুখে মাখেন। আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ (pH) ৫-এর আশেপাশে থাকে। অথচ লেবুর পিএইচ মাত্র ২। এই প্রবল অম্লতা ত্বকের সংস্পর্শে এলে ‘কেমিক্যাল বার্ন’ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে লেবু মেখে রোদে বেরোলে ‘ফাইটোকোটোডার্মাটাইটিস’-এর মতো সমস্যা তৈরি হয়, যা ত্বকে স্থায়ী কালচে দাগ বা ফোস্কা ফেলে দেয়।
ফাইল ছবি
২) বেকিং সোডা: ব্রণ সারাতে অনেকেই ক্ষারধর্মী বেকিং সোডা ব্যবহার করেন। এটি ত্বকের রক্ষাকারী অ্যাসিড ম্যান্টল ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং সেখানে ব্যাক্টেরিয়া বাসা বাঁধে।
ফাইল ছবি
৩) চিনি ও কফির দানা: চিনি বা কফির দানা দিয়ে স্ক্রাবিং করা এখন ট্রেন্ড। কিন্তু অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে চোখ পাতলে দেখবেন, এই দানাগুলো কাচের মতো ধারালো। এগুলি ত্বকে ঘষলে কয়েক হাজার সূক্ষ্ম ছিদ্র বা ‘মাইক্রো-টিয়ার’ তৈরি হয়। এর থেকে অকালেই বলিরেখা পড়ে যায়।
ফাইল ছবি
৪) এসেনশিয়াল অয়েল: এসেনশিয়াল অয়েলের ক্ষেত্রেও বিপদ কম নয়। ল্যাভেন্ডার বা টি-ট্রি অয়েল অত্যন্ত ঘন রাসায়নিক। সরাসরি মাখলে মারাত্মক অ্যালার্জি বা কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ফাইল ছবি
৫) ডিম: ত্বক টানটান করতে ডিমের সাদা অংশ মাখার প্রাচীন রেওয়াজ আছে। তবে এতে ‘সালমোনেল্লা’ সংক্রমণের প্রবল সম্ভাবনা থাকে। ল্যাবরেটরিতে তৈরি প্রসাধনীতে প্রিজ়ারভেটিভ থাকলেও ঘরোয়া প্যাকে তা থাকে না। ফলে দ্রুত জীবাণু জন্মে সিস্ট বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। তাই সৌন্দর্যের লোভে হুজুগে গা না ভাসিয়ে বিজ্ঞানে ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, সব প্রাকৃতিক উপাদানই আপনার ত্বকের বন্ধু নয়। যে পেটের পক্ষে ভালো তা আপনার ত্বকের জন্য বিষ হতে পারে।
