চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত ট্রিম বা চুল কাটার (Haircut) গুরুত্ব অপরিসীম। ঘন ও উজ্জ্বল চুল পেতে অনেকেই নানা টোটকা মেনে চলেন। কিন্তু সঠিক সময়ে চুল না কাটলে সব প্রচেষ্টাই বৃথা যেতে পারে। সাধারণ ভাবে মনে করা হয়, চুল কাটলে বুঝি তা দ্রুত বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এই প্রচলিত ধারণাকে ভুল বলেই মনে করেন। আসলে চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর। ডগা থেকে চুল কাটার সঙ্গে এর বৃদ্ধির সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। তবুও কেন নিয়মিত কাঁচি চালানো প্রয়োজন? জেনে নিন তার নেপথ্যে থাকা কিছু জরুরি কারণ।
ফাইল ছবি
১) চুলের গঠন এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট সময় অন্তর চুল কাটা উচিত। সাধারণত প্রতি মাসে চুল গড়ে এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়ে। তবে জিনগত কারণ, খাদ্যাভ্যাস কিংবা হরমোনের প্রভাবে এই গতি কমবেশি হতে পারে। চুল নিয়মিত না কাটলে, ডগা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এই ফাটা অংশ ধীরে ধীরে চুলের ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা চুলকে ভঙ্গুর ও রুক্ষ করে তোলে। ফলে চুলে জট পড়ে বেশি এবং দেখতেও পাতলা লাগে।
২) চুল কতদিন অন্তর কাটবেন, তা নির্ভর করে আপনার চুলের ধরনের ওপর। যারা চুল লম্বা করতে চাইছেন, তারা ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ অন্তর এক বার ট্রিম করতে পারেন। এতে দৈর্ঘ্যে খুব বেশি প্রভাব না ফেলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশটুকু বাদ দেওয়া যায়। তবে আপনার চুলে যদি রাসায়নিক রং করা থাকে বা চুল খুব শুষ্ক হয়, তবে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ অন্তর ট্রিম করানোই বুদ্ধিমানের কাজ। ছোট চুলের স্টাইল বজায় রাখতে গেলে আবার ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ অন্তর সেলুনে যাওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে কোঁকড়া বা টেক্সচার্ড চুলের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে।
ফাইল ছবি
৩) চুল কাটার সময় হয়েছে কি না, তা বোঝার কিছু লক্ষণ রয়েছে। যদি দেখেন চুলের ডগা পাতলা হয়ে গিয়েছে, সহজে জট ছাড়ানো যাচ্ছে না কিংবা স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে গিয়েছে, তবে বুঝবেন কাঁচি চালানোর সময় এসেছে। মনে রাখবেন, ন্যাড়া হলেই চুল ঘন হয়— এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং ডায়েটে ডিম, বাদাম ও সবুজ শাকসব্জি রাখা এবং নিয়মিত স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়াই চুলের দ্রুত বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি। সঠিক যত্নের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রিম করলে চুল সুস্থ থাকে, যা পরোক্ষ ভাবে চুলের ঘনত্ব ও দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
