লক্ষ লক্ষ বছর আগে তারা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াত। তাদের গর্জনে কাঁপত থরথর চরাচর। সেই ভয়ঙ্কর টি-রেক্সের জায়গা কি কেবল জাদুঘরে? আজ্ঞে না, যদি পকেটে থাকে রেস্ত, তবে জ্যান্ত ডাইনোসরের চামড়া এখন ঝুলতে পারে আপনার কাঁধেই! ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে— "Fashion is not something that exists in dresses only." বরং ফ্যাশন এখন আস্ত এক প্রাগৈতিহাসিক টাইম মেশিন।
আসলে ‘জুরাসিক পার্ক’-এর সেই হাড়হিম করা দানবকে ফ্যাশন মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছে বিজ্ঞান। জ্যান্ত ডাইনোসর তো আর পাওয়া সম্ভব নয়, তাই মুশকিল আসান করেছে ল্যাবরেটরি। টি-রেক্সের জীবাশ্ম থেকে উদ্ধার হওয়া কোলাজেন ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা তৈরি করে ফেলেছেন আস্ত এক হ্যান্ডব্যাগ। সোজা কথায়, বিজ্ঞানের টেস্ট টিউবে জন্ম নিল প্রাগৈতিহাসিক বিলাসিতা।
নীলচে-সবুজ বা টিল রঙের এই চোখধাঁধানো ব্যাগে শুধু ডাইনোসরের চামড়া নয়, রয়েছে খাঁটি রুপো আর কালো হিরে। আভিজাত্যে যা হার মানাবে যে কোনও নামী ব্র্যান্ডকে। আমস্টারডামের মিউজিয়ামে এটি এখন একটি খাঁচার ভেতর বন্দি। সাধারণ মানুষ মে মাস পর্যন্ত এটি চাক্ষুষ করার সুযোগ পাবেন। তারপরই উঠবে নিলামের হাতুড়ি।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘এনফিন লেভে’-র এই অবিশ্বাস্য সৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞানের এক দক্ষ কারিগর দল। যারা এর আগে ম্যামথের ডিএনএ দিয়ে ‘মিটবল’ বানিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তাদের দাবি, 'ডাইনোসরের চামড়া' প্রযুক্তির এক বিশাল উল্লম্ফন। নিলামে এই ব্যাগের দাম উঠতে পারে প্রায় ৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আস্ত একটা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা কয়েকটা দামী গাড়ি বিসর্জন দিলেই আপনি নিজের আলমারিতে বন্দি করতে পারেন প্রাগৈতিহাসিক এই আভিজাত্যকে। ফ্যাশন যে কোন স্তরে পৌঁছতে পারে, এই ব্যাগ এখন তার জ্যান্ত উদাহরণ!
