'আ'-এ আমটি খাব পেড়ে। না, আম দেখলেই খেতে হবে এমনটা নয়। মাঝেমধ্যে মুখে মাখতেও হবে। আজ্ঞে হ্যাঁ। ঠিকই পড়ছেন। আম মুখে মাখতে হবে। তবে, সরাসরি মাখলে হবে না। ঘরোয়া উপাদানেই তৈরি করুন বিশেষ ফেস মাস্ক। সেই মাস্ক মুখে লাগালে ত্বক হবে মাখনের মতো নরম।
রূপচর্চায় আমের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে অকাল বার্ধক্য বা বলিরেখা দূর হয় সহজেই। আবার এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকে প্রাণ ফিরিয়ে আনে। তবে শুধু আমের শাঁস নয়, আমের বীজ বা আঁটির নির্যাসও ত্বকের যত্নে দারুণ উপকারী। কিন্তু প্রশ্ন হল কীভাবে বানাবেন আম মাস্ক?
ছবি: সংগৃহীত
মাস্ক তৈরিতে কী কী লাগবে?
এই বিশেষ মাস্কটি তৈরি করতে হাতের কাছে রাখুন:
শিয়া বাটার: দেড় টেবিল চামচ (গলানো)
ম্যাঙ্গো সিড বাটার: ১ টেবিল চামচ (পাকা আমের আঁটির ভেতরের অংশ কুড়িয়ে নেওয়া)
মধু: ১ টেবিল চামচ
নারকেল তেল: ১ চা চামচ
চন্দন গুঁড়ো: আধ চা চামচ
কীভাবে বানাবেন?
পদ্ধতিটি খুবই সহজ। প্রথমে হালকা আঁচে শিয়া বাটার এবং আমের বীজের মাখন মিশিয়ে গলিয়ে নিন। মিশ্রণটি একটু ঘন হয়ে এলে তাতে মধু যোগ করুন। খুব ভালো করে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না সেটি ক্রিমের মতো মোলায়েম হচ্ছে। এবার একে একে নারকেল তেল এবং চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, মিশ্রণটি যেন মসৃণ হয় এবং কোনও দলা পাকিয়ে না থাকে।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
মুখটা ভালো করে পরিষ্কার করে মুছে নিন। এবার চোখের চারপাশ বাঁচিয়ে মাস্কের একটি পাতলা স্তর মুখে মেখে ফেলুন। অন্তত ২০ মিনিট ওভাবেই রাখুন। শুকিয়ে এলে বরফ-ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। যদি পারেন, ধোয়ার আগে মুখে আলতো করে বরফের টুকরো ঘষে নিতে পারেন, এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। সব শেষে মুখ মুছে হালকা কোনও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
উপকারিতা কী?
যাঁদের ত্বক খুব শুষ্ক বা সেন্সিটিভ, তাঁদের জন্য এই মাস্ক স্বর্গীয়। আমের বীজের মাখন আর শিয়া বাটার ত্বককে ভিতর থেকে পুষ্টি দেয়। আর চন্দন ও মধুর ছোঁয়ায় রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালাপোড়া কমে গিয়ে আসে শীতল অনুভূতি। এই গরমে এক টুকরো আমের ছোঁয়ায় আপনার ত্বক হয়ে উঠুক উজ্জ্বল ও সজীব।
