ব্যক্তিগত কক্ষে দরজা এঁটে বসে রয়েছে রানী, সহচারীদের কেউ, এক হাতে তুলে ধরে রেখেছে তাঁর আজানুলম্বিত চুলের গোছা। অন্য একজন সেই চুলের তলায় ধুনোর মতো দেখতে এক ধূপদানী জ্বালিয়েছে, তা থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে রানীর চুল। এমন দৃশ্য ঐতিহাসিক সিনেমা-সিরিজে কতই না দেখেছি আমরা। কিন্তু এমন ধূপের ঠিক কী উপযোগিতা, কেশসজ্জায় তা কীভাবে কাজে দেয়, তা জানেন কি (Sambrani Dhoop for Hair)?
সমব্রানি ধূপের 'কাপ', অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কিনতে পাওয়া যায় বর্তমানে।
প্রাচীন আয়ুর্বেদে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেশচর্চায় এমন ধূপের ধোঁয়ার ব্যবহার। এই ধূপের নাম ‘সমব্রানি ধূপ’। এই ধূপ আদতে স্টাইরাক্স গাছ থেকে উৎপন্ন এক প্রাকৃতিক সুগন্ধি রজন। এর গন্ধ খানিক কাঠের মতো, খানিক মাটির মতো, আবার কখনও তা থেকে ‘মাস্ক’ বা কস্তুরি-জাতীয় গন্ধও আসে নাকে।
বর্ষায় চুল ভেজালে তা সহজে শুকাতে চায় না। শুকালেও অনেক সময়েই রীতিমতো বদগন্ধ হয়ে থাকে মাথা জুড়ে। এমন ভিজে-দুর্গন্ধযুক্ত চুলে কিন্তু ফাঙ্গাস-ব্যাকটেরিয়ার বাসা বাঁধতে পারে সহজেই। আধুনিক নানা পদ্ধতি তো রয়েছেই, তবে রয়েছে সমব্রানি ধূপও। সত্যিই কাজ করে কি-না, তা চাইলে খতিয়ে দেখতেই পারেন বাড়ি বসে।
- প্রাচীনকালে মনে করা হত, স্নানের পরেই চুলে ধূপের ধোঁয়া দিলে মন স্থির হয়। নেতিবাচক ভাবনাচিন্তা দূর হয়। তবে মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশ সমব্রানি ধূপের ধোঁয়া মাথার ত্বকের জন্যও উপকারী বলে দাবি করেন অনেকে। আয়ুর্বেদ ও ন্যাচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধোঁয়া মাথার ত্বকে জমে থাকা ময়লা, ঘাম ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
- অনেকে এ-ও দাবি করেন যে, এটি খুশকি কমাতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়ে ও চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছায়।
- অনেকে ভাবেন, প্রাচীনকালে যেহেতু হেয়ার ড্রায়ার ছিল না, তাই এই ধূপ তার বিকল্প হিসেবে কাজ করত। এতে চুলে এক হালকা সুবাসও তৈরি হয়, যা দিনভর রয়ে যায়।
তবে সমব্রানি ধূপের ব্যবহার কেশসজ্জায় প্রতিদিন করা উচিত নয় বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া, অভ্যাস না থাকার কারণে এই ধূপের ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করতে পারে, শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। বাড়ির বারান্দা বা অন্য কোনও খোলা জায়গায় এসে তবেই এই ধূপ জ্বালানো উচিত। ধূপের থেকে চুলের যেন বেশ কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্ব থাকে, তাও খেয়াল রাখতে হবে।
