shono
Advertisement
Haiwaan Movie Review

সম্মুখ সমরে সইফ-অক্ষয়, কেমন হল 'হ্যায়ওয়ান'? রইল রিভিউ

১৮ বছর বাদে একফ্রেমে সইফ আলি খান, অক্ষয় কুমার। স্টার ম্যাজিক কি 'হ্যায়ওয়ান' জমাতে পারল?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:15 PM Sep 14, 2026Updated: 06:30 PM Sep 14, 2026

দেবত্রী ঘোষ: বলিউডের এক ধরনের ছবির মূল সমস্যা হল, স্টারের ভার বইতে গিয়ে গল্পকে কম গুরুত্ব দেওয়া। ফলে যে ছবি মালয়ালম ভাষায় দশ বছর আগেই হিট হয়েছিল, সে ছবির হিন্দি রিমেক জোরালো হতে হতেও আদতে জোলোই থেকে যায়! ২০১৬ সালের প্রিয়দর্শন পরিচালিত মালয়ালম ছবি 'ওপ্পাম'-এর রিমেক ২০২৬-এর 'হ্যায়ওয়ান'। এই ছবির পরিচালকও প্রিয়দর্শন নিজেই। একসময়ে বলিউডে পর পর হিট কমেডি ছবি উপহার দিয়েছেন। পরিচালকের এবারের গল্প অবশ্য ক্রাইম থ্রিলার। তবে মূল গল্পকে অনেকটাই অপরিণত রেখেছেন রিমেকে। চিত্রনাট্যে যেটুকু বদল এনেছেন, সেটাও বলিউডি তারকাদের খাতিরে। যে কৌশলী ছবির জন্য মোটেই ইতিবাচক হয়নি!

Advertisement

কেমন হল সইফ-অক্ষয়ের 'হ্যায়ওয়ান'?

শ্যাম রানে (সইফ আলি খান) জন্মান্ধ, কিন্তু তার ঘ্রাণ ও শ্রবণ শক্তি এতটাই প্রখর যে তাবড় দৃষ্টি সম্পন্ন লোকজনও হার মেনে যাবে। একইসঙ্গে সে কুস্তিতে এবং সঙ্গীতে পারদর্শী (এমন কোনও বাদ্যযন্ত্র নেই, যা সে বাজাতে পারে না)। মুম্বইয়ের যে আবাসনের সুরক্ষার দায়িত্ব তার হাতে, সেই আবাসনের সকলেই তাকে ভরসা করে, বিশেষ করে এককালের প্রধান বিচারপতি (বোমান ইরানি)। মৃত্যুর আগে এমন এক গোপন তথ্য তিনি শ্যামকে বলে যান, যাতে তার বিপদ বাড়বে বই কমবে না। গল্পের প্রথমার্ধ বেশ ধীর গতিতে চলে। লেখক প্রিয়দর্শন, অভিলাষ নায়ার ও রোহন শঙ্কর অনেকটা সময় নিয়েছেন প্লটের বুনোট বাঁধতে। আর তাতে বেশ খানিকটা সময় নষ্ট হয়েছে। এই ছবিতে ভিলেনের চরিত্রে অক্ষয় কুমার। অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও সাত বছর জেল খেটে নিজের প্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়ে প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর পরশুরাম গোখলে। যারা তাকে অন্যায় সাজা দিয়েছে, তাদের পরিবার সমেত শেষ করে দেওয়ার অভিপ্রায় নিয়েই জেল থেকে বেরিয়েছে সে। আর বিচারক তার হাত থেকেই ছোট্ট নন্দিনীকে রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে শ্যামের হাতে।

প্রিয়দর্শন বোধহয় এরকম দুর্বল রিমেক বানাতে চাননি। কিন্তু কেবল গল্প এক হলেই হয় না, চিত্রনাট্য ও অভিনয়ে প্রাণ না থাকলে ভালো ছবির রিমেকও মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।

১৮ বছর বাদে একফ্রেমে সইফ আলি খান, অক্ষয় কুমার।

এই ছবির গল্প খাতায় কলমে বেশ লাগলেও, পর্দায় তেমন জমাট বাঁধেনি। আর তার মূল কারণ প্রথমেই উল্লেখ করা আছে। সইফ-অক্ষয়ের দ্বৈরথ পর্দায় যথেষ্ট আকর্ষণীয় হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হয়নি। চিত্রনাট্যে বেশ কিছু ফাঁকফোকর তো আছেই, সেই সঙ্গে অযথা একাধিক গান ছবির সময় টেনে লম্বা করেছে মাত্র। রোহন শঙ্করের সংলাপে কিছু কিছু জায়গায় কমেডির হালকা মেজাজ ভালো লাগে। বোমান ইরানি যথারীতি তাঁর চরিত্রে সুন্দর খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। ইন্সপেক্টর বর্ষার চরিত্রে সইয়ামি খেরকেও মন্দ লাগে না। শ্রিয়া পিলগাঁওকারের ‘নয়না’ চরিত্র হিসেবেই তেমন জমেনি। আসরানির এটি শেষ ছবি। একটি কমেডি দৃশ্যে তাঁকে দিব্যি লাগে। শারিব হাশমির মতো অভিনেতাকে পুলিশের চরিত্রে ভাঁড়ে পরিণত করা হয়েছে, যা দুঃখের। সইফ আলি খান শ্যামের চরিত্রে কিছু জায়গায় বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারলেও, তাঁকে এই চরিত্রে তেমন মানায়নি। আর কেন্দ্রচরিত্রে অভিনয় দুর্বল হলে, কোনও গল্পই দাঁড়ায় না। অক্ষয় কুমার এর আগে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেননি এমন নয়, তবে পরশুরামের চরিত্রে যে অমানবিক দিকটা ফুটে ওঠার দরকার ছিল, তা ওঠেনি। তবে সইফ ও অক্ষয়ের কিছু কিছু অ্যাকশন দৃশ্য ভালো লাগে। প্রিয়দর্শন বোধহয় এরকম দুর্বল রিমেক বানাতে চাননি। কিন্তু কেবল গল্প এক হলেই হয় না, চিত্রনাট্য ও অভিনয়ে প্রাণ না থাকলে ভালো ছবির রিমেকও মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement