ছবি বা সিরিজ মুক্তি পায় তার নিয়মে, কিন্তু সেসবের মাঝেও রাজ চক্রবর্তীর 'প্রলয়' ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি বা সিরিজের জনপ্রিয়তা এতটুকু ম্লান হয়নি, হয়ও না। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজের জনপ্রিয় সিরিজ মুক্তির পর এমনটা ফের প্রমাণ হয়ে গেল। 'প্রলয়' ও 'আবার প্রলয়'র তুলনায় 'আবার প্রলয় ২'র (Abar Proloy 2 Review) ব্যাপ্তি অনেক বেশি। শুধুই নারী পাচার নয়, একইসঙ্গে ডাকাতি ও বাংলার আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দুষ্কৃতিদের ব্লু প্রিন্ট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সিরিজে। এবারের রণক্ষেত্র বিধায়ক রাজের এলাকা বারাকপুর। একথা কারও অজানা নয়। আর সেখানেই শক্ত হাতে দুষ্টের দমনে অপ্রতিরোধ্য 'ইনস্পেক্টর অনিমেষ দত্ত' রূপে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে উপরি পাওনা তাঁর মুখে 'কবি বলেছেন...'-এর মতো সংলাপ।
এই সিরিজের সুবাদে পরিচালক রাজ যে ভীষণভাবে বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়েছেন তা এর আগে প্রচারঝলকেই বোঝা গিয়েছিল। এবার হাতেনাতে তার প্রমাণ মিলল। দুষ্কৃতিদের সফট টার্গেট বাংলা, এর কারণ কী? দুষ্কৃতীদের মুখে শোনা যায় 'বাঙালিরা নরম। তাই তাঁদের আক্রমণ করা সহজ'-এর মতো সংলাপ। কিন্তু এমন ধারণা যে একেবারে ভুল তা 'অনিমেষ দত্ত'র মাধ্যমে হাড়েহাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিচালক রাজ। তবে শুধু ডিউটিরত পুলিশ অফিসার হিসেবেই নিজের দায়িত্ব কর্তব্য পালনেই নয়, একইসঙ্গে নিজের অধস্তনদের প্রতিও দোর্দণ্ডপ্রতাপ অনিমেষ স্নেহবৎসল। আর তাই রণক্ষেত্রে সহযোদ্ধাকে হারালে তাঁরও চোখের পাতা ভারী হয়ে ওঠে। এবারেও আগের মতোই জুন মালিয়া ও শাশ্বতর অনস্ক্রিন জুটি বেশ সফল। তাঁদের মধ্যেকার রসায়ন অনেকটা জায়গা জুড়ে রয়েছে। তবে 'আবার প্রলয় ২'-এর শেষ পর্বের ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যে নিজের দর্শক-অনুরাগীদের বড় চমক দিয়েছেন রাজ। শেষ মুহূর্তে এক্কেবারে রণরঙ্গিণী রূপে আবির্ভাব ঘটে পর্দায় রাজঘরনি শুভশ্রীর। ফের নতুন ভূমিকায় তিনি। ছোট চরিত্র বলে তাতে কোনও খামতি রাখেননি। বরং কয়েক মিনিটের দৃশ্যে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন 'লেডি সুপারস্টার', এমনটা বললে অত্যুক্তি হবে না। দোর্দণ্ডপ্রতাপ ইনস্পেক্টর অনিমেষ দত্তর সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছেন পর্দায় শুভশ্রী। এর বেশি বললে বাকিটা মাটি হয়ে যাবে বইকি।
'আবার প্রলয় ২'-এর একটি দৃশ্য, ছবি: সোশাল মিডিয়া।
অন্যদিকে পরিচালক রাজ তাঁর এই সিরিজ নির্মাণে কোনওরকম কার্পণ্য করেননি। অসাধারণ চিত্রগ্রহণ যেন তারই সাক্ষ্যবহন করে। তাই দ্রোণ ভিউতে অর্থাৎ পাখির চোখে বারাকপুর, নৈহাটি-সহ বিভিন্ন জায়গাকে দেখে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ জাগতে বাধ্য। 'আবার প্রলয় ২'-এর চিত্রনাট্য আদ্যোপান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের হলেও লিগ্যাসি বজায় রেখেছে। সবথেকে বড় বিষয় অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ থাকলেও তা চিত্রনাট্যের স্বার্থে ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করেছেন রাজ। সঙ্গে গোটা সিরিজ জুড়ে আবহসঙ্গীত আলাদা উত্তেজনা তৈরি করে তা বলাই বাহুল্য। আগের মতোই 'আবার প্রলয় ২'-এ রয়েছে আইটেম ডান্স। আর তাতেই দেখা যাবে মারকাটারি ডান্স স্টেপে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে। সিজন ওয়ানের অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে এবার নবতম সংযোজন সৌরসেনী মৈত্র, রোহন ভট্টাচার্য, ওম সাহানি, আয়েন্দ্রি রায়-সহ আরও অনেকেই।
শেষ মুহূর্তে এক্কেবারে রণরঙ্গিণী রূপে আবির্ভাব ঘটে পর্দায় রাজঘরনি শুভশ্রীর। ফের নতুন ভূমিকায় তিনি। ছোট চরিত্র বলে তাতে কোনও খামতি রাখেননি। বরং কয়েক মিনিটের দৃশ্যে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন 'লেডি সুপারস্টার', এমনটা বললে অত্যুক্তি হবে না।
'আবার প্রলয় ২' সিরিজে 'অনিমেষ দত্ত' রূপে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ছবি- সংগৃহীত
আগের সিজনের মতোই এবারেও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দেবাশিস মণ্ডলের। দক্ষ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনেতা কয়েক কদম এগিয়ে। অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্তর অভিনয় বরাবরের মতোই অসামান্য। পুলিশ অফিসার রূপে অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য এক কথায় দুর্দান্ত। বিগত কয়েক বছরে রোহন যে নিজেকে বেশ ঘষেমেজে নিজেকে অভিনেতা হিসেবে অনেকটা পথ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তা এই সিরিজে বারবার মনে হতে বাধ্য। কম যান না সৌরসেনীও। পুলিশ অফিসারের চরিত্রে তিনিও নজরকাড়া। বরাবরের মতো 'করালি বাবু' চরিত্রে পার্থ ভৌমিক লা-জবাব। তাঁর মুখে 'হ্যালো স্যার' সংলাপ গুরুগম্ভীর পরিস্থিতিতে ভরপুর কমেডির জন্ম দেয়। অন্যদিকে লোকনাথ দাস, ওম সাহানি, অনুজয় ভট্টাচার্যের অভিনয় দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।
