shono
Advertisement

Breaking News

Superboys of Malegaon Review

'সুপারবয়েজ অফ মালেগাঁও' সত্যিই সুপার, পড়ুন রিভিউ

কেন ‘সুপারবয়েজ অফ মালেগাঁও’ দেখা মাস্ট? ঝটপট জেনে নিন।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:01 PM Mar 07, 2025Updated: 06:01 PM Mar 07, 2025

বিদিশা চট্টোপাধ্যায়: প্রেক্ষাগৃহে ঠিক ছয়জন ছিল ‘সুপারবয়েজ অফ মালেগাঁও’ ছবিটা যখন দেখতে গিয়েছি। রিমা কাগতি পরিচালিত ছবিটা শেষ হওয়ার পর সেই ছয়জন বসেই ছিলেন এন্ড ক্রেডিট দেখানোর শেষ সময় পর্যন্ত। আমার ঠিক সামনে বসা একটি মেয়ে তার পাশে বসা পুরুষ বন্ধুটির পিঠ চাপড়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরে! স্বাভাবিকভাবেই আমার মনে প্রশ্ন ওঠে, কেন! তার বন্ধু কি এই ছবির সঙ্গে যুক্ত? মনে তো হয় না। তাহলে? আমি নিজের মতো করে একটা উত্তর খুঁজে নিয়েছি। ‘সুপারবয়েজ অফ মালেগাঁও’ আসলে সিনেমা নিয়ে এমন এক সিনেমা যা আশার আলো দেখায়। চলচ্চিত্র তৈরির নানা জটিল পথ পেরিয়ে এক আশ্চর্য উড়ানের কথা বলে। হতেই তো পারে আমার সামনে বসা ছেলেটিও ফিল্ম-বাফ, কোনও একদিন ছবি বানানোর স্বপ্ন দেখে। পাশে বসা মেয়েটি হয়তো জড়িয়ে ধরে তাকে বলে, তুইও পারবি! ঠিক যেমন দেখেছিল মুম্বইয়ের অদূরে নাসিকের এই গ্রামের চার-পাঁচ জন যুবক।

Advertisement

২০১২ সালে ফ‌্যায়জা আহমেদ খানের তথ্যচিত্র ‘সুপারমেন অফ মালেগাঁও’-এর ফিকে হয়ে যাওয়া স্মৃতি উসকে দেবে এই ছবি। তবে রিমা কাগতির ছবির উদ্দেশ্য কেবল এই চার যুবকের গল্প বলা নয়। ফিল্মমেকিংয়ের পথে হাঁটতে গেলে কোন কোন মোড় পেরোতে হয় এবং পেরোতে গিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে হোঁচট খায় সেটাও তুলে ধরা। সাল ১৯৯৭। নাসির (আদর্শ গৌরব) ভিডিও পার্লার চালায় এবং ফিল্মপাগল ছেলেটি কেবল চার্লি চ্যাপলিন, বাস্টার কিটন দেখানোতেই বিশ্বাসী। ফলে পাশের দর্শন টকিজ-এ চালু বলিউডি মশলা ছবি দেখার ভিড় বেশি। সেখানে চলছে ‘দিলওয়ালে...’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’র মতো ছবি। আর্ট নিয়ে কারও মাথাব‌্যথা নেই। সেখানে তখনও ভিসিআর, ভিডিও ক্যামেরা, সিডির যুগ। ভিডিও ফুটেজ এডিট করে নতুন ফুটেজ জুড়ে দেওয়া শিখে নিয়ে চ্যাপলিন, কিটন, ব্রুস লি-র ছবি জুড়ে দিয়ে অভিনব ম্যাশআপ তৈরি করে দর্শক টেনে নেয় নাসির ও তার বন্ধুরা। অমনি পাইরেসির অভিযোগ এবং পুলিশ রেড। পার্লারে তালা পড়ে। নাসির দেখল, ছবি বানানো ছাড়া উপায় নেই। আসলে এটাই সে চেয়েছিল বরাবর। ফারুঘ (বিনীত সিং) প্যারোডি লিখল, বাকিরা অভিনয় করল, লাজুক শফিক অভিনয় করতে চাইলেও তার কপালে জুটল ক্ল্যাপিং-এর দায়িত্ব। আসলে মানুষ চায় দূরের যা কিছু ভালো, চকচকে, স্বপ্নের মতো তা কাছের হোক। নিজেদের গল্পই আমরা দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। নাসিরের ছবি ‘মালেগাঁও-এর শোলে’ তাই প্যারোডি হলেও এই ছবির জয়, বীরু, গব্বর সিং-দের ছোঁয়া যায়। এই ‘শোলে’-র সবকিছুই নিজেদের- চেনা সুখ, চেনা রোম্যান্স, চেনা দুঃখ। ফলে ছবি সুপার ডুপার হিট। সবাই খুশি হয়, চিত্রনাট্যকার ফারুঘ ছাড়া। তার লেখা নাসির অনেকটাই বদলে দিয়েছে, টাকা পেয়েছে বলে বিড়ির বিজ্ঞাপনও ঢুকিয়েছে। এক ছবির সাফল্য এনে দেয় অন্য ছবির সুযোগ। ফারুঘ প্রতিবাদ করে, এইভাবে সে বিকিয়ে যেতে রাজি নয়। নাসিরের মুখের উপর বলে, ‘রাইটার বাপ হোতা হ্যায়-- একদিন তুমি বুঝবে’, এই বলে সে মুম্বই চলে যায়।

অর্থ, যশ নাসিরের জীবনে সাফল্য এনে দিলেও এতদিনকার বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলো বদলে যায়। খ্যাতি মানুষকে সিংহাসনে বসালেও তাঁকে একা করে দেয়। আর ফিল্মমেকিং আসলে কোলাবোরেটিভ একটা প্রসেস, যেখানে ব্যালান্স বজায় রাখা জরুরি। ফারুঘের গোঁড়ামিও যেমন তাঁকে অচল করে দেবে তেমনই নাসিরকেও বুঝতে হবে অরিজিনালিটির কোনও বিকল্প নেই। সিনেমা বানানোর এই খুঁটিনাটি রিমা কাগতি এবং বরুণ গ্রোভার ‘সুপারবয়েজ অফ মালেগাঁও’তে বন্ধুত্ব, প্রেম, বিচ্ছেদ, আশা-প্রত্যাশার রিইউনিয়নের মধ্য দিয়ে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। এবং গোটাটাই জমাটি এন্টারটেনমেন্টের মোড়কে। ১৯৯৭, ২০০৪, ২০১০-এর টাইমলাইন ধরে চলা এই ছবি যতটা নস্টালজিয়ার ততটাই সাম্প্রতিক। নয়ের দশকে একটি গ্রামের কিছু ছেলেপিলে যদি পয়সা না থাকা সত্ত্বেও কেবল প্যাশন দিয়ে ছবি বানিয়ে ফেলার স্বপ্ন সত্যি করতে পারে তাহলে যে কোনও অসম্ভব সম্ভব হতে পারে। সাইকেল দিয়ে ট্রলি শট, গরুর গাড়ি দিয়ে ক্রেন, স্ক্রিপ্টের বদলে প্যারোডি, বিয়ের ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে সিনেমার শুটিং– এই সব কিছু পেরিয়ে যখন দেখি লাজুক শফিক সুপারম্যানের ঢিলে কস্টিউম পরে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হয়ে শট দিতে এসেছে তখন প্রচণ্ড আনন্দ হয়। আর এই সিনেমাই যখন বড়পর্দায় সবাই মিলে হইহই করে দেখে তখন শফিকের চোখের হাসি আস্তে আস্তে ভিজে যায়। ওই ঢোলা লাল-নীল কস্টিউম পরে সে ধানখেতের উপর সাঁ-সাঁ করে উড়ে যাচ্ছে দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারে না। এই জীবনেই তার অভিনেতা হওয়ার শখ পূর্ণ হয়েছে, সুপারম্যানের মতো বন্ধুরা ছিল বলেই তো। শফিকের চরিত্রে শশাঙ্ক অরোরার অভিনয় ভোলার নয়। আদর্শ গৌরব, বিনীত সিং, ত্রুপ্তির চরিত্রে মঞ্জিরি উপালাকে ভালো লাগে। এই ছবি হলে থাকতে থাকতেই দেখে ফেলুন। সাধারণত সিনেমায় হ্যাপি এন্ডিং দেখে ভালো লাগলেও বাস্তবে ফিরলে অন্যরকম মনে হয় কিন্তু ‘সুপারবয়েজ অফ মালেগাঁও’ যে গল্প হলেও সত্যি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • ২০১২ সালে ফ‌্যায়জা আহমেদ খানের তথ্যচিত্র ‘সুপারমেন অফ মালেগাঁও’-এর ফিকে হয়ে যাওয়া স্মৃতি উসকে দেবে এই ছবি।
  • রিমা কাগতির ছবির উদ্দেশ্য কেবল এই চার যুবকের গল্প বলা নয়।
  • ফিল্মমেকিংয়ের পথে হাঁটতে গেলে কোন কোন মোড় পেরোতে হয় এবং পেরোতে গিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে হোঁচট খায় সেটাও তুলে ধরা।
Advertisement