মেদ ঝরাতে চাইলে পছন্দের কিছু খাবার ছাড়তেই হয়। রগরগে মটনের ঝোল হোক, কিংবা তেল-জুবজুবে ফ্রায়েড খাবার— শরীরের যত্ন নিতে সেই সমস্তকেই ঠেলতে হয় বাদের খাতায়। আর এইসবের সঙ্গে বাদ যায় সাধের বিরিয়ানিও (Can’t Give Up Biryani While Losing Weight?)। ভাজা পিঁয়াজ, ডালডা, একগাদা ঘি আর খাসির মাংসের ইয়াব্বড় টুকরো খাওয়ার সময় ভালোই লাগে। কিন্তু শরীরের পক্ষে তা খুব একটা উপযোগী হয় না। দোকানের বিরিয়ানিতে থাকে হেভি ফ্যাট, প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট আর সোডিয়াম। চিকিৎসকরা বলেন, যদি ঘন ঘন খাওয়া যায়, তবে ফ্যাটি লিভার হবেই হবে!
অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে। হজমের সমস্যা, বুকজ্বালা তো রয়েছেই। আচমকা রক্ত শর্করা বেড়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে রক্তচাপ। এমনকী হৃদরোগের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিতে পারে বিরিয়ানির নেশা। এমন খাবার যে মেদ ঝরাতে হলে বাদ যাবেই, তা বলা বাহুল্য।
আর তাই বিরিয়ানি খেতে চেয়ে বহু মানুষই ডায়েটের পণ ভঙ্গ করে ফেলেন। ডায়েটেশিয়ানরা অবশ্য বলছেন, এমন করার দরকার নেই। চাইলে বাড়িতেই বানানো যাবে ডায়েট-ফ্রেন্ডলি ফ্যাট-লস বিরিয়ানি। হ্যাঁ, তার স্বাদ যে হুবোহু দোকানের বিরিয়ানির মতো হবে না, তা নিশ্চয়ই বুঝতেই পারছেন খাদ্যপ্রেমী। কিন্তু এই ঘোলে দুধের স্বাদ মিটবে অনেকটাই। মেদ ঝরানোর লক্ষ্যও ভাঙবে না, বিরিয়ানির ক্রেভিং-ও তুষ্ট হবে খানিকটা।
১। ওজন কমাতে চাইলে বিরিয়ানি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই ঠিকই, তবে পরিমাণ কমাতে হবে খাবারের। বড় প্লেট ভর্তি বিরিয়ানি খাওয়ার বদলে স্বল্প পরিমাণে খান। পেট ভরাতে সঙ্গে রাখুন সেদ্ধ ডিম, অনেকখানি স্যালাড ও রায়তা। এতে প্রোটিন, ফাইবার ও ফ্যাটের ব্যালেন্স আনা সম্ভব হবে।
২। বিরিয়ানি রান্নার উপকরণে পরিবর্তন আনুন। বিরিয়ানির জন্য বেরেস্তা ডুবো তেলের বদলে এয়ার-ফ্রায়ারে ভাজুন। খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংসে কম ফ্যাট থাকবে, তাই এখনকার মতো মন দিন চিকেন বিরিয়ানিতেই। ভাতের সমপরিমাণ চিকেন দিন, যাতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। চাইলে চিকেনের বদলে সোয়া চাঙ্ক অথবা পনিরও ব্যবহার করা যায়।
৩। বিরিয়ানির স্বাদ মূলত মশলা, সুগন্ধি এবং রান্নার পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। তাই স্বাদ বজায় রেখেই কী কী পরিবর্তন করা যায়, তা নিয়ে ভাবুন। ভারতের বহু জায়গার বিরিয়ানিতে সবজি দেওয়া হয়। তেমন কোনও রেসিপি মেনে সবজিও যোগ করতে পারেন খাবারে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট খাবারকে ‘ভিলেন’ বানানোর চেয়ে দিনের মোট ক্যালোরি গ্রহণ, শারীরিক কসরত করা হচ্ছে কি-না, সেইদিকে মন দিতে হবে। নিজেকে বলুন, অনেকখানি মেদ ঝরানো হয়ে গেলে তখন না-হয় রাজকীয় বিরিয়ানির ট্রিট দেওয়া যাবে নিজেকে। আপাতত এই ফ্যাট-লস বিরিয়ানিই সই।
