ধনেপাতার সঙ্গে অনেকখানি ডাঁটি (Coriander Stems) এলে, অনেকেই বিরক্ত হন। কারণ ডাঁটি তো কাজে লাগে না। ফেলা যায়। কিন্তু জানেন কি, অভিজ্ঞ রাঁধুনিরা বলেন, ব্যবহার করতে জানলে মোটেই ফেলতে লাগে না এই ডাঁটি। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করে নেওয়া যায়।
১। রান্নার প্রাথমিক বেস তৈরি করা যায়
মশলাদার কোনও রান্না করার সময় শুরুতেই যখন তেলে ফোড়ন দেওয়ার পর আদা রসুন বাটা নেড়েচেড়ে নেওয়া হয়, সে সময় বেটে দেওয়া যায় ধনেপাতার ডাঁটিও। এতে অদ্ভুত সুন্দর এক গন্ধ আসে খাবারে, অথচ আলাদা করে কী মেশানো হয়েছে, তা বুঝে ওঠা যায় না। অল্পতেই স্বাদ বদলায় গ্রেভি অথবা ঝোলের।
ব্যবহারের সময় মূল থেকে ডাঁটি পর্যন্ত কাজে লাগিয়ে ফেলুন সবটাই।
২। সবুজ চাটনিতে ব্যবহার করা যায়
কাবাব অথবা সিঙাড়ার সঙ্গত হিসেবে যে সবুজ চাটনি বানানো হয়, তাতে সাধারণত পুদিনা পাতা, ধনেপাতা একসঙ্গে দেওয়া হয়। এই চাটনির মিশ্রণ তৈরির সময় পাতা ছিঁড়ে আলাদাভাবে দেওয়ার সময়, ডাঁটি সমেত দেওয়াই যেতে পারে। সমস্তটা ব্লেন্ড হয়ে গেলে, আলাদা করে বোঝার উপায় থাকে না। অথচ স্বাদ গন্ধ কয়েকগুণ বেড়ে যায় যেন।
৩। স্যালাড তৈরির সময়
শশা-পিঁয়াজ-গাজরের ঘরোয়া স্যালাড বানানোর সময়, ধনেপাতা ছড়িয়ে দিলে অনেক সময়েই তা খেতে তেমন ভালো লাগে না। এই সময় ধনেপাতার বদলে, তার ডাঁটি ভালো করে বেটে নিয়ে, মিশিয়ে নেওয়া যায় স্যালাডে। স্বাদ বাড়াতে অল্প অলিভ অয়েল, লেবুর রস, লবণ ও গোলমরিচ গুঁড়োও মিশিয়ে নেওয়া যায় এক সঙ্গে। মুহূর্তে রাজকীয় হয়ে উঠবে গৃহস্থের অতিসাধারণ খাবারও।
৪। ডালের ফোড়ন হিসেবে
মুসুর, মুগ বা অড়হর ডালের ফোড়নে কুচোনো ধনেপাতার ডাঁটি, হালকা ভেজে নিয়ে মিশিয়ে দিন ফোড়ন হিসেবে। ডালে গন্ধে পার্থক্য আসবেই।
কুচি করে কেটে ব্যবহার করা যায় ডালে ফোড়ন হিসেবে।
৫। খিচুড়ি অথবা পোলাওতে
বাড়িতে খিচুড়ি অথবা পোলাও বানালে, রান্নার একেবারে শেষদিকে, উপর থেকে ধনেপাতার ডাঁটি টুকরো করে ছড়িয়ে দিন। বেশ কিছুক্ষণ চাপা দিয়ে রাখুন তারপর। পরে ঢাকা খুলে এই ডাঁটি তুলে ফেলে দেওয়া যায়, কিংবা মিশিয়েও নেওয়া যায় খাবারের সঙ্গে। এতে মৃদু অথচ নজরকাড়া সুবাস হয় খাবারে।
ধনেপাতার ডাঁটিতে ডায়টরি ফাইবার থাকে। ভিটামিন এ, সি, কে-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে, যা অনাক্রম্যতা বাড়ায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, হজমে সাহায্য করে।
