চা পাতাতেও ভেজাল (Adulterated Tea Leaves)? সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের বারাবাঁকিতে এক চা পাতার কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল চা পাতার হদিশ পেয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। উদ্ধার হওয়া ভেজাল চায়ের বাজারমূল্য প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। অজান্তে এমন পাতা থেকে তৈরি চা পান করলে ভয়াবহ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়ে যায়। অথচ অনেকেই এমন রয়েছেন যাঁরা প্রত্যেকদিন চায়ের কাপ হাতেই দিন শুরু করেন।
বাড়িতে নিয়মিত যে চা আসে, তাতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মিশে রয়েছে কি না বুঝবেন কী করে? জেনে নিন চা পাতার আসল নকল চেনার সহজ উপায়।
জলের রঙ জানিয়ে দেবে চা আসল নাকি নকল।
• ঠান্ডা জলের পরীক্ষা করুন
গরম নয়, এক গ্লাস ঠান্ডা জলে সামান্য চা পাতা ফেলে দিন। যদি সঙ্গে সঙ্গে জলের রং গাঢ় হয়ে ওঠে, তবে বুঝতে হবে যে তাতে খুব সম্ভবত কৃত্রিম রং মেশানো রয়েছে। কারণ খাঁটি চা পাতা কখনও ঠান্ডা জলে দ্রুত গুলে যায় না। জলে রং ধরতেও সময় লাগে।
• সাদা কাগজে ঘষে দেখুন
খানিকটা চা পাতা নিয়ে তা ভিজিয়ে নিন জলে। এরপর সাদা কাগজ বা টিস্যুর উপর কিছুক্ষণ ফেলে রাখুন তা। যদি স্পষ্ট কালো বা বাদামি রঙের দাগ পড়তে শুরু করে, তাহলে বুঝতে হবে যে রং মেশানোর সম্ভাবনা রয়েছে সে পাতায়।
• পাতার আকৃতি লক্ষ্য করুন
ভালো মানের চা পাতার আকার তুলনামূলকভাবে সমান হয় এবং তাতে অতিরিক্ত ধুলো বা গুঁড়ো কম থাকে। অত্যধিক গুঁড়ো বা অস্বাভাবিকভাবে ভাঙা পাতা সন্দেহের কারণ হতে পারে।
• সুগন্ধ পরীক্ষা করুন
আসল চা পাতার প্রাকৃতিক, মনোরম সুবাস থাকে। যদি তীব্র রাসায়নিক বা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
• চা বানানোর পর পাতার ধরন লক্ষ্য করে দেখুন
গরম জলে ফোটানো হয়ে গেলে, চা পাতা কিছুটা প্রসারিত হয়ে স্বাভাবিক পাতার মতো দেখায়। ভেজাল বা নিম্নমানের চা পাতা অনেক সময় ভেঙে যায় বা অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
সাদা কাগজে ভিজে চা পাতা রাখতেই বোঝা যাবে তা ভেজাল কি-না।
• রঙের দিকে খেয়াল রাখুন
ভালো চা সাধারণত ধীরে ধীরে সোনালি-বাদামি বা লালচে-বাদামি রং ছাড়ে। খুব দ্রুত গাঢ় কালো রং বের হলে সতর্ক হওয়া উচিত।
এমন আশঙ্কা এড়াতে চাইলে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা বিক্রেতার কাছ থেকেই কিনুন। তবে মনে রাখবেন, এসব পরীক্ষা কেবলমাত্র প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে, তবে সত্যি করেই চায়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ভেজাল উপাদান মিশে রয়েছে কিনা, তা শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
