ডিম সেদ্ধ করা আর এমন কী কাজ? গরম জলে ফোটানো নিয়ে তো কথা! এমন কথা অনেকেই মনে করেন ঠিকই, তবে ডিম সেদ্ধ করা যে নেহাত সহজ নয়, তা যারা নিজের হাতে করেছেন, সকলেই জানেন। ঠিকমতো সেদ্ধ না হলে ডিম তরল রয়ে যেতে পারে। সামান্যতম ভুলেই সেদ্ধর সময় এক ডিমের সঙ্গে অন্য ডিমের ঠোকা লেগে, খোলায় চিড় ধরে যেতে পারে। তখন গরম জলে ডিমের ভেতরের তরল বেরিয়ে এসে এক্কাকার কাণ্ড হতে পারে! অথবা সেদ্ধ হওয়ার পর কিছুতেই আর সহজে ছাড়ানো যায় না খোসা। ভাঙতে গেলে, নখের আঁচড়ে ডিমের গা খুবলে যায়।
এমন সমস্যা মেটাতে পারে কেবলমাত্র একটি পাতিলেবু (egg boiling hack)! ব্যবহারের পদ্ধতিও একেবারে সহজ।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
পাত্র জলে ভর্তি করুন। একে একে যে ক’টা ডিম সেদ্ধ করতে চান, তা ডুবিয়ে দিন জলে। জল ফোটানো শুরু করার আগে, অর্ধেকখানা পাতিলেবু চিপে রস মিশিয়ে দিন জলের সঙ্গে। রসের বদলে পাতিলেবু ফালি করে কেটে, ডুবিয়ে দিতে পারেন ডিম সেদ্ধ করার জলে।
সেদ্ধ করার সময় যদি ডিমে ছোট কোনও ফাটল তৈরি হয়, তাহলে লেবুর রসের অম্লীয় বৈশিষ্ট্য ডিমের সাদা অংশকে দ্রুত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ফলে তা বেরিয়ে, জলে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। অনেকেই বলেন, এতে খোসা ছাড়ানো সহজ হয়। খোসার গায়ে ডিমের অংশ আটকে গিয়ে, ভেঙে যায় না।
লেবুর রস ব্যবহার করলে ডিমের স্বাদ, গন্ধ বা রঙে সাধারণত কোনও পরিবর্তন আসে না। তাই এ নিয়ে চিন্তার কোনও কারণই নেই। বাড়িতে পাতিলেবু থাকলে নির্দ্বিধায় পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে, কতখানি কার্যকরী এই পদ্ধতি।
লেবু না থাকলে কী করবেন?
যে কোনও ক্ষেত্রেই পাতিলেবুর সেরা বিকল্প হিসেবে কাজ করে ভিনিগার। যে কারণে, মাছ-মাংস ম্যারিনেট করতেও অনেকেই পাতিলেবুর বদলে ভিনিগার ব্যবহার করে থাকেন। বাড়িতে লেবু না থাকলে ডিম সেদ্ধ করার জলে আধ চা-চামচ ভিনিগার মিশিয়ে দেওয়া যায়। ফলাফল একই পাওয়া যাবে।
