দামোদর শেঠ অল্পেতে খুশি হতেন না। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, তত 'স্বাস্থ্যকর' ভোজনবিলাসই হয়ে উঠছে ট্রেন্ড। বিরিয়ানি, কালিয়া, পোলাও ছেড়ে শরীরের পক্ষে অপকারী নয়, এমন উপদানে ঠাসা প্লেটেই নজর দিতে চাইছেন বহু মানুষ। শেফ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা সেদিকেই নির্দেশ করছেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় পেস্ট্রি শেফ পূজা ধিংড়া বলছেন, এতদিন স্রেফ উদযাপনের সময়ই মিষ্টির কথা মনে পড়ত সকলের। কিন্তু এখন নিয়ম বদলেছে। তাঁর কথায়, ''আজকাল এটা নিত্য নৈমিত্তিক খাদ্যের অংশ হয়ে গিয়েছে। কেউ কফির সঙ্গে, ব্রেকফাস্টে খাচ্ছে। আবার কেউ এমনিই মিষ্টি খাচ্ছে মন ভরাতে। উষ্ণ কুকি, কফির সঙ্গে মানানসই কেক ইত্যাদি দ্রুত রেস্তরাঁয় আমাদের খাদ্য তালিকায় ঢুকে পড়েছে।''
যত সময় যাচ্ছে, তত 'স্বাস্থ্যকর' ভোজনবিলাসই হয়ে উঠছে ট্রেন্ড। বিরিয়ানি, কালিয়া, পোলাও ছেড়ে শরীরের পক্ষে অপকারী নয়, এমন উপদানে ঠাসা প্লেটেই নজর দিতে চাইছেন বহু মানুষ। শেফ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা সেদিকেই নির্দেশ করছেন।
কিন্তু মিষ্টি কী করে স্বাস্থ্যকর 'চয়েস' হতে পারে? পূজা বলছেন, ''অতীতে আমরা দেখেছি, মানুষ এখন অতিরিক্ত সব কিছু থেকে দূরে সরে আসছে। জমকালো ও অতিরিক্ত মিষ্টি ডেজার্টের চেয়ে এখন পরিচ্ছন্ন ও সুষম ডেজার্টগুলোই বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। বর্তমানে বেশিরভাগ আধুনিক পেস্ট্রি রেসিপিতে এক দশক আগের তুলনায় ১৫-৩০% কম চিনি ব্যবহার করা হয়। ডার্ক চকোলেট, কফি, সাইট্রাস ফল, বাদাম এবং গ্যাঁজানো দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। ফলে ডেজার্টগুলি কেবল মিষ্টত্বের উপর নির্ভরশীল নেই।''
খাদ্য হিসেবে চিয়া সিডসের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে
শেফ পেমা থাকচুং লেপচা বলছেন, ''মানুষ এখন অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে পড়েছে। কী খাচ্ছে, তা তৈরি করতে কী কী ব্যবহৃত হয়েছে সমস্ত খবরই রাখে। আর তাই ডিপ-ফ্রায়েড ডিশ তারা খাচ্ছে না। সেই সঙ্গেই অ্যাভাকাডো, চিয়া সিডস ব্যবহারের অনুরোধ বাড়ছে। ফলে আমাদেরও অ্যাভাকাডো গার্ডেন সুশি বা সিল্কেন টোফুর মতো ডিশের কথা বেশি করে ভাবতে হচ্ছে।'' অর্থাৎ খাদ্যের স্বাদ কিংবা বাহারের দিকে নিশ্চয়ই মন দিচ্ছে সকলে। কিন্তু এরই পাশাপাশি খাদ্যগুণটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। আজকের দ্রুততার জীবনে অভ্যাসের এই পরিবর্তন শেষপর্যন্ত ইতিবাচকই হয়ে উঠবে, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
