শীত বিদায় নিয়েছে। দরজায় কড়া নাড়ছে গরম। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি-কাশি আর ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ। এমনকী চিকেন পক্স হওয়ার ভয় থাকে এসময়টা। ছোটবেলা থেকেই মা-ঠাকুমারা বলে আসছেন, শরীর সুস্থ রাখতে ঋতুভিত্তিক ফল ও সবজি খাওয়ার বিকল্প নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও সেকথাই বলে। এই সময়ে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের প্রথম পছন্দ সজনে ডাঁটা ও সজনে ফুল।
ছবি: সংগৃহীত
বসন্তের এই সময়টাতে সজনে ফুল কেবল রসনাতৃপ্তি নয়, শরীরের জন্য মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩ এবং সি। এছাড়াও ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফসফরাসের ভাণ্ডার এই ফুল। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পেটের গোলমাল মেটাতে সজনে ফুলের জুড়ি মেলা ভার। এমনকী ডায়াবেটিস রোগীদের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি দারুণ কার্যকর। পক্সের মতো রোগের হাত থেকে বাঁচতে এই সময় ডায়েটে সজনে রাখা আবশ্যিক।
অনেকেই সজনে ডাঁটা চচ্চড়ি বা ঝোলে খেতে পছন্দ করেন। তবে সজনে ফুল দিয়ে তৈরি করা যায় জিভে জল আনা হরেক পদ। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল সজনে ফুলের মুচমুচে বড়া। গরম ভাতের পাতে ডালের সঙ্গে এই বড়া থাকলে খাওয়াটা বেশ জমে ওঠে।
ছবি: সংগৃহীত
সজনে ফুলের বড়া বানাতে কী কী লাগবে?
পরিমাণমতো পরিষ্কার সজনে ফুল, বেসন, চালের গুঁড়ো, কর্নফ্লাওয়ার, আদা কুচি, কাঁচালঙ্কা কুচি, ভাজা জিরে গুঁড়ো, কালো জিরে এবং স্বাদমতো নুন।
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে সজনে ফুলগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে শুকনো করে নিতে হবে। এবার একটি বড় পাত্রে বেসন, চালের গুঁড়ো ও কর্নফ্লাওয়ার নিয়ে শুকনো অবস্থায় মিশিয়ে নিন। এরপর এতে আদা কুচি, লঙ্কা কুচি, কালো জিরে ও ভাজা জিরে গুঁড়ো দিন। স্বাদমতো নুন দিয়ে অল্প অল্প জল যোগ করে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার ধুয়ে রাখা সজনে ফুলগুলো সেই ব্যাটারে দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে ছোট ছোট আকারে বড়াগুলো ছাড়ুন। এপিঠ-ওপিঠ লালচে ও মুচমুচে করে ভেজে তুলে নিলেই তৈরি।
