সন্তানের জন্মের পর ছ’মাস কাটলেই বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার হিসেবে শিশুকে কী দেওয়া উচিৎ? তা নিয়ে ধন্দে ভোগেন পরিজনেরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময়ের অভাবে বা পুষ্টির কথা ভেবে বাজারচলতি নামী দামি ব্র্যান্ডের কৌটোর খাবারের ওপর ভরসা করেন অনেকে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সব প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রিজার্ভেটিভ, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা কৃত্রিম সুগন্ধি থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা শিশুর শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শিশুর সুস্থতার কথা মাথায় রেখে বাড়িতে বানানো বেবিফুডের (Baby Food) কোনও বিকল্প নেই।
ছবি: সংগৃহীত
খুদের রসুইঘরে পুষ্টির জোগান দিতে খুব সাধারণ কিছু উপকরণই যথেষ্ট। বাড়িতেই সহজে বানিয়ে নেওয়া যায় গাজর বা কলার পিউরি। কীভাবে বানাবেন? জেনে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
গাজরের পিউরি
উপকরণ: ২-৩টি গাজর। পরিমাণমতো জল। কিংবা শিশুর খাওয়ার দুধ।
প্রণালী: গাজরের পিউরি বানাতে প্রথমে গাজর ভালো করে ধুয়ে নিন। খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করুন। এরপর তা ভাপে বা জলে সেদ্ধ করে নরম করে নিতে হবে। ব্লেন্ডারে দিয়ে তা মসৃণ করে নিলেই হবে। তবে এর সঙ্গে সামান্য দুধ মিশিয়ে নিন। সঙ্গে কয়েক চামচ জল দিতে ভুলবেন না যেন! গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এই পিউরি সহজপাচ্য। শরীরের জন্য পুষ্টিদায়ক।
ছবি: সংগৃহীত
কলার পিউরি
উপকরণ: পাকা কলা নিন ২-৩টি। পরিমাণমতো দুধ বা জল নিন।
প্রণালী: পাকা কলার খোসা ছাড়িয়ে নিন। কলা চামচ দিয়ে ভালো করে পিষে নিন। কয়েক চামচ দুধ কিংবা জল দিয়ে মিশ্রণ তরল করে নিন। কলার পিউরি খুদেদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটি হজম করা সহজ এবং প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি হওয়ায় শিশুরা তা খুব পছন্দ করে।
তবে শিশুর ডায়েটে নতুন কোনও খাবার যোগ করার আগে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, যে কোনও নতুন খাবার শুরু করার আগে অবশ্যই পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিন। দ্বিতীয়ত, বাচ্চার খাবারে কখনওই অতিরিক্ত নুন বা চিনি ব্যবহার করবেন না। রান্নার সময় পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর রাখবেন। সময় বাঁচাতে চাইলে গাজর বা ফলের পিউরি ছোট ছোট আইস কিউব ট্রে-তে জমিয়ে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। পরে প্রয়োজনমতো বের করে গরম জলে বা ভাপে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে শিশুকে খাওয়ানো যায়। এতে যেমন সময় বাঁচে, তেমনই শিশু পায় রাসায়নিকমুক্ত খাঁটি পুষ্টি।
