অল্প একটু রসুন মেশালেই রান্নার স্বাদ একেবারে বদলে যায়। নিতান্ত বিস্বাদ খাবারও রসুনের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে মুখরোচক। তবে এ কথা অনেকেই জানেন না যে রীতিমতো আয়ুর্বেদিক গুণে সমৃদ্ধ রসুন। প্রতিদিন মাত্র এক কোয়া রসুন (clove of garlic) খেলেই অনেক রকমের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা সুপারফুডের খোঁজে হন্যে হয়ে পড়েন, অথচ হাতের নাগালেই যে রয়েছে রসুনের মতো সুপারফুড, সে সম্পর্কে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন।
কাঁচা রসুন কুচিয়ে বা বাইরের খোলস ছাড়ানোর পর অন্তত দশ মিনিট রেখে দেওয়া উচিত।
কেন সর্বগুণ সম্পন্ন মনে করা হয় রসুনকে?
- হৃদয়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। রক্তচাপ কমে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। ধমনির আড়ষ্টতা রোধ করে। হৃদ-সংবহনতন্ত্র সংক্রান্ত নানা রোগের উপশম ঘটাতে পারে রসুন।
এর জন্য প্রতিদিন সকালে এক কোয়া কাঁচা রসুন পাতিলেবুর রস অথবা অলিভ অয়েলে ভিজিয়ে খেয়ে নিতে বলেন স্বাস্থ্যবিদরা।
- আমাদের যকৃতে যেসব উৎসেচক উৎপাদিত হয়, তা সমগ্র দেহকে ডিটক্সিফাই অর্থাৎ বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। কাঁচা রসুন এই উৎসেচকের নিঃসরণ ত্বরান্বিত করে। ফলে দেহমধ্যস্থ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্ষা পায়।
সুফল পেতে সামান্য কাঁচা রসুন কুচি করে অথবা ঘষে, মিশিয়ে নিন স্যালাড ড্রেসিং-এর সঙ্গে।
- রসুন হজমক্ষমতা বাড়ায়। অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, প্রদাহ জনিত সমস্যার সমাধান করে। পেটের ফাঁপা ভাব দূর করে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
এর জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের পাতের পাশে রাখুন এক কোয়া রসুন। রসুনের কোয়া মুখে দিয়ে চিবিয়ে ফেলুন। তারপর হাত দিন খাবারে।
- ডায়বেটিস রুখতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে রসুন। শরীরকে ইনসুলিন গ্রহণের যোগ্য করে তোলে এবং হেলদি গ্লুকোজ মেটাবোলিজম-কে ত্বরান্বিত করে।
কাঁচা রসুন কুচিয়ে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। স্বাদ খানিক অদ্ভুত ঠেকতে পারে জিভে। তবে শরীরের পক্ষে অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়া টক দইয়ে চুবিয়ে রাখা যায় রসুনের কোয়া, যাতে তার জোরালো স্বাদ একেবারে চলে যায়।
কাঁচা রসুন কুচিয়ে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
কাঁচা রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে এ কথা মনে রাখা জরুরি যে, তা কুচিয়ে বা বাইরের খোলস ছাড়ানোর পর অন্তত দশ মিনিট রেখে দেওয়া উচিত। এতে রসুনে থাকা অ্যাসিলিন কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। এর ফলে শরীরের অনাক্রম্যতা বাড়ে এবং হৃদপিণ্ড ভালো থাকে।
