চা নাকি কফি? এই প্রশ্নের জবাবে কি আপনি সবসময় চায়ের দলে? কাজের ফাঁকে আপনি বারবার চায়ের কাপ খোঁজেন? দুঃখ হোক কিংবা আনন্দ সবেতেই আপনার চা লাগে? সমীক্ষা বলছে, চা-প্রেমীরা নাকি সকলের থেকে আলাদা। তাঁদের ভাবনাচিন্তা ব্য়তিক্রমী। কেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অনেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চা এবং কফি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে এক একরকম। কফিতে থাকে অত্যধিক ক্যাফেইন। যার ফলে দ্রুত উত্তেজনার সৃষ্টি করে। কফি উদ্বিগ্নতা বাড়ায়। চা মস্তিষ্কে প্রভাবে ফেলে তুলনামূলক ধীরে। তার ফলে চা ধীরে ধীরে ভাবনাচিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। তবে চা মানুষকে আরও বেশি বুদ্ধিমান করে তোলে, এমন প্রমাণ নেই। এটি মনসংযোগ বাড়াতে আরও সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত চা পান করেন তাঁদের মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। বিশেষত গ্রিন টি যাঁরা খান, তাঁরা কফিপ্রেমীদের তুলনায় বেশি শান্ত, জ্ঞানী ও চিন্তাশীল।
মানুষের ব্যক্তিত্ব এতটাই জটিল যে শুধু পানীয়ের পছন্দের ভিত্তিতে তাঁর ব্যক্তিত্বের বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। কারণ, পানীয়ের পছন্দ কেবল ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভর করে না। সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য, কাজের সময়সূচি, ঘুমের অভ্যাস, এমনকি দিনের কোন সময়ে পানীয়টি খাওয়া হচ্ছে - এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই নিজের মেজাজ বা দিনের কাজের চাপ অনুযায়ী কখনও চা, কখনও কফি বেছে নেন। পানীয়ের পছন্দ ব্যক্তিত্বের চেয়ে জীবনযাত্রা ও পরিস্থিতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত। কারণ, মানুষ সাধারণত এমন অভ্যাসই গড়ে তোলে, যা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মানসিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
