জগন্নাথধাম পুরী শুধু বিশ্বের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্রই নয়, ওড়িশার সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতিরও এক অনন্য কেন্দ্রও বটে। বঙ্গোপসাগরের ঢেউ, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, রথযাত্রার আবহ আর শতাব্দীপ্রাচীন খাবারের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে পুরী ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতার অঙ্গ। এখানে নিরামিষ ভোগ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় স্ট্রিটফুড— প্রতিটি পদই বহন করে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভক্তির ছোঁয়া।
যদি উলটোরথের আগেই পুরী ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে এই ১০টি খাবার অবশ্যই চেখে দেখুন (10 Must Try Foods in Puri)।
বেসারা, ঘণ্ট ও ডালমা।
মহাপ্রসাদ
জগন্নাথ মন্দিরের রান্নাঘরটি ‘বিশ্বের বৃহত্তম মন্দির রান্নাঘর’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে মাটির হাঁড়িতে কাঠের আগুনে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে এই ভোগ রান্না হয়। ভাত, ডাল, তরকারি, খিচুড়ি, মিষ্টি— বিভিন্ন পদের সমন্বয়ে এই প্রসাদ ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
ডালমা, বেসারা ও নিরামিষ ঘণ্ট
ডাল ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি দিয়ে তৈরি ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পদ ডালমা। এতে কুমড়ো, কাঁচা পেঁপে, সজনে ডাঁটা, আলুসহ নানা সবজি ব্যবহার করা হয়। ভাজা জিরে ও ঘি এর স্বাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে, বেসারা হল সর্ষে বাটা দিয়ে তৈরি মিশ্র সবজির ঝোল। আবার, পাঁচমিশালি সবজি দিয়ে তৈরি হয় ঘণ্ট। ধোঁয়াওঠা গরম ভাত-ডালের সঙ্গে খেতে অমৃতের মতো লাগে।
খাজা, ছানাপোড়া ও রসাবলি।
পখালা ভাত
বাঙালির পান্তাভাতেরই এ এক রকমফের বলা চলে। জারণ করে রাখা ভাত, জল বা টক দইয়ের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। সঙ্গে থাকে ভাজা লঙ্কা, আলুভাজা, বড়া বা মাছভাজা। এই খাবার পেট ঠান্ডা রাখে, হজমও সহজ হয়।
কনিকা
ঘি, কাজু, কিশমিশ, গোটা গরম মশলা ও সুগন্ধি চাল দিয়ে তৈরি মিষ্টি পোলাওজাতীয় খাবার। উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে এটি পরিবেশন করা হয়।
খাজা, ছেনা পোড়া ও রসাবলি
পুরীতে এসে খাজা না খেলে হয়? খাস্তা, পরতে পরতে মুচমুচে ভাব ও চিনির রস মাখানো খাজা পুরীর অন্যতম জনপ্রিয় মিষ্টি। রথযাত্রার সময় এই মিষ্টির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। আবার, ছেনা পোড়া ওড়িশার অন্যতম বিখ্যাত মিষ্টি। ছানা, সুজি, চিনি ও এলাচ মিশিয়ে ধীরে ধীরে বেক করা হয়। ফলে বাইরের অংশে ক্যারামেলাইজড স্তর তৈরি হয়। অসামান্য স্বাদের এই মিষ্টির স্বাদ খাওয়ার পরেও যেন মুখে লেগে থাকে।
ছানার বড়া ভেজে ঘন দুধে ডুবিয়ে তৈরি করা হয় রসাবলি। এলাচের সুবাস ও দুধের ঘনত্ব এই মিষ্টিকে অনন্য করে তোলে। মুখে দিলে হালকা ক্যারামেলজাতীয় স্বাদ আসে। মিষ্টিপ্রেমীর কাছে এর মূল্যই আলাদা!
দই বড়া ও আলুর দম।
দই বড়া ও আলুর দম
খাবারের এমন অত্যাশ্চর্য জুটি দেখলে হতবাক হতে হয় বইকী! তবে ওড়িশায় এই খাবারের ভক্ত সংখ্যায় অনেক। নরম ডালের বড়া টক দইয়ে ভিজিয়ে চলতি দই বড়ার মতো করেই প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু তার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় ঝাল ঝাল আলুর দম! এই মূলত স্ট্রিট ফুড, আর পুরীতে বেড়াতে গেলে হরহামেশাই কিনতে পাওয়া যাবে রাস্তার ধারের কোনও স্টলে। স্বাদ বাঙালির জিভে অচেনা লাগলেও, চেখে দেখতে ক্ষতি কী?
