গরমের দাবদাহে প্রাণ ওষ্ঠাগত। সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরলে ইচ্ছে করে শীতল পানীয়ের গ্লাসে লম্বা চুমুক দিতে। যাতে কেবল শরীর-মন ঠান্ডা হবে তাই নয়, ক্ষয় হওয়া এনার্জি ফিরেও আসবে কিছুটা। কোন পানীয়? নুন-চিনি জল, লেবুর সরবত, নাকি ডাবের জল? আর এইখানেই এক মস্ত বড় সমস্যা! অনেকেই আছেন যাঁদের পছন্দের পানীয়ের তালিকায় সারা বছরই এক নম্বরে থাকে কফি! কিন্তু গরমের দিনে কফি কি আরও গরম করে দেবে না শরীরকে? কোনদিকে যাবেন তবে?
এই চূড়ান্ত টানাপোড়েনের ইতি টানতে সহজ সমাধান ‘টেন্ডার কোকোনাট কফি’ (tender coconut coffee)! অর্থাৎ একই সঙ্গে কফি আবার ডাবের জলের নির্যাস! শুনে নাক সিটকাচ্ছেন কি? আশ্চর্য নয়; খাদ্যরসিকদের মতে, এমন ধরনের স্বাদ গ্রহনের জন্য প্রয়োজন ‘অ্যাকোয়ার্ড টেস্ট’। অর্থাৎ প্রথমে অচেনা লাগলেও ধীরে ধীরে সে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করলে, একসময় রীতিমতো ভালোবাসা জন্মে যায় তার প্রতি। আসুন, জেনে নেওয়া যাক অভিনব এই পানীয়ের রেসিপি।
বানাতে প্রয়োজন:
১। দেড় চামচ মধু
২। চার টেবিল চামচ দুধ
৩। এক কাপ কচি নারকেলের জল
৪। একটি ডাবের মালাই
৫। বরফ কুঁচি বা আইস কিউব
৬। কফি পাউডার
প্রণালী:
সযত্নে বের করে নিন একটি ডাবের ভিতর থাকা জল। অনেক সময় প্যাকেটজাত ‘কোকোনাট ওয়াটার’ কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে পুষ্টিগুণ প্রায় থাকে না বললেই চলে। স্বাদেও ফারাক হতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপাদানই অগ্রগণ্য। ডাবের মালাই চামচের সাহায্যে স্কুপ করে নিন। ব্লেন্ডারে মালাই ও ডাবের জল একসঙ্গে দিন। তাতে পরিমাণমতো দুধ ও মধু দিন। সমস্তটা ব্লেন্ড হলে মাখো মাখো হয়ে যাবে। অন্যদিকে গরম জলে মিশিয়ে নিন ১৫ গ্রাম কফি। ঠান্ডা হলে, এই মিশ্রনের মধ্যে তা দিয়ে, ভালো করে মেশান। দিয়ে দিন বরফ কুঁচি। ব্যাস, টেন্ডার কোকোনাট কফি এক্কেবারে তৈরি!
গ্রীষ্মকালে ডাবের জল শরীরের পক্ষে অত্যন্ত দরকারি। এতে শরীর আর্দ্র থাকে, হজমের অসুবিধা দূর হয়। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের জরুরি মিনারেল বেরিয়ে যায়। ডাবের জলে থাকে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম এবং অ্যামিলেসের মতো বায়ো-অ্যাক্টিভ এনজাইম, যা পাকস্থলীর স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এতে যদি অল্প ক্যাফেইন মিশেও যায়, তাতে বুঝি দোষ হয় না!
