এক ম্যাচে ২৩ লাল কার্ড! হ্যাঁ। ঠিকই পড়েছেন। ফুটবল মাঠ হয়ে উঠল রণক্ষেত্র। ব্রাজিলের দুই ক্লাবের ম্যাচে ফুটবল ছেড়ে শুরু হল লাথি-ঘুসি-চড়ের লড়াই। একটা ছোট ঘটনা থেকে শুরু হয়ে যা থামল ২৩টা লাল কার্ডে। ভিডিও দেখে থ নেটদুনিয়া।
ঘটনাটা ঘটল ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। যে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ক্রুজেইরো ও অ্যাটলেটিকো মিনেইরো। ম্যাচে ক্রুজেইরো ১-০ গোলে জেতে। তবে সেটা তো আসল ঘটনা নয়! ম্যাচের বয়স তখন ৯০ মিনিট পার করে অতিরিক্ত ৬ মিনিট। ক্রুজেইরোর ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান ট্যাকেল করেন মিনেইরোর গোলকিপার এভার্সনকে। জবাবে তিনিও ঝাঁপিয়ে পড়লেন ক্রিশ্চিয়ানের উপর। হাঁটু দিয়ে প্রতিপক্ষর বুক চেপে ধরলেন।
ব্যাস! আর যায় কোথায়? শুরু হল ধুন্ধুমার কাণ্ড। সতীর্থকে আক্রান্ত হতে দেখে ক্রুজেইরোর ফুটবলাররা এসে এভার্সনকে মারধর শুরু করেন। মিনেইরোর ফুটবলাররাই বা ছাড়বেন কেন? তাঁরাও রীতিমতো উড়ে গিয়ে লাথি মারতে থাকেন বিপক্ষকে। দু'দলের রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলাররাও রে রে করে ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারপর প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলল যুদ্ধ। চড়-ঘুসি তো আছেই, একেবারে উড়ে গিয়ে একে-অপরকে লাথি মারতে ছাড়লেন না ফুটবলাররা।
শেষমেশ মিলিটারি পুলিশ নামিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা হয়। মাঠে রেফারি কার্ড বের করেননি। কিন্তু পরে মোট ২৩ জনের নামে লাল কার্ড বরাদ্দ করেন। তার মধ্যে মিনেইরোর ১১ ও ক্রুজেইরোর ১২ জন ফুটবলার ও কর্মকর্তা আছেন। যার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড় নাম ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবলার হাল্ক। যিনি মূলত বিরাট দশাসই চেহারা ও জোরালো শটের জন্য বিখ্যাত। এদিন তাঁর সেই 'শট' হজম করলেন প্রতিপক্ষ ফুটবলাররা। এত কিছুর মধ্যে ক্রুজেইরোর কোচ তিতে (যিনি ব্রাজিলের কোচও ছিলেন) ভক্তদের ধন্যবাদ জানান মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য।
