''ফুটবল কেমন করে খেলতে হবে সেই দর্শন জন্ম নিয়েছিল ১৯৭৪ বিশ্বকাপে। সেই দর্শন কিন্তু আজও প্রাসঙ্গিক।'' এই মন্তব্য যাঁর, তিনি মারা গিয়েছেন একদশক আগে। হেনড্রিক জোহানেস ক্রুয়েফের বলা কথাগুলো আজও অনুরণিত হয় ফুটবলবিশ্বে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে গোটা পৃথিবীকে যিনি দেখিয়েছিলেন 'টোটাল ফুটবল'। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। তবুও সেবারের বিশ্বকাপে ওই নতুন ফুটবলই ছিল 'হট অ্যান্ড হ্যাপেনিং'। দেখতে দেখতে পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। আধুনিক ফুটবল সেই অর্থে টোটাল ফুটবলকে অনুসরণ করে না। কিন্তু একথাও সত্যি, সেই ঘরানার প্রভাব আজও রয়ে গিয়েছে। ক্রুয়েফ ভুল কিছু বলেননি।
কী ছিল এই টোটাল ফুটবল? নাম থেকেই বোঝা সম্ভব ব্যাপারটা। অর্থাৎ সেই অর্থে কোনও আলাদা পজিশন থাকবে না খেলোয়াড়দের। বল যেদিকে, সকলে সেদিকে থাকবেন! সেক্ষেত্রে গোল খাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু ত্রুয়েফ মনে করতেন, গোল খেয়েও গোল করা যাবে টোটাল ফুটবল খেললে। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ''১-০ জেতার থেকে ৫-৪ জিততে আমি বেশি পছন্দ করব।'' আজকের পৃথিবীকে মেসিকেও আমরা ডিফেন্সে নেমে আসতে দেখি। যদিও সেটা সেই অর্থে টোটাল ফুটবল নয়। তবুও এই যে প্রয়োজনমতো নিজের পজিশন ছেড়ে অন্যত্র দৌড়ে যাওয়ার গতিশীলতা, এটা এসেছে টোটাল ফুটবল থেকেই।
ফাইল ছবি।
আধুনিক ফুটবল সেই অর্থে টোটাল ফুটবলকে অনুসরণ করে না। কিন্তু একথাও সত্যি, সেই ঘরানার প্রভাব আজও রয়ে গিয়েছে। ক্রুয়েফ ভুল কিছু বলেননি।
তিন-তিনবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ক্রুয়েফ। ১৯৭১, ১৯৭৩ আর ১৯৭৪। এর মধ্যে শেষতমটা এসেছিল বিশ্বকাপের বছরেই। ৩৬ বছর পর সেবার নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে পেরেছিল। ক্রুয়েফ তাঁর পায়ের জাদু দেখিয়ে দিতে নিয়েছিলেন 'গোল্ডেন বল'। আর এই বিষয়ে বলতে গেলে বলতেই হবে 'ক্রুয়েফ টার্ন'-এর কথা। প্রতিপক্ষকে আচমকা ধ্বস্ত করে বল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার যে জাদুকরী কৌশল, তা কিন্তু আগে থেকে তৈরি করা কোনও রণকৌশল নয়। খোদ ক্রুয়েফই সেকথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই অবিশ্বাস্য টার্ন নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, এটা একেবারেই মাঠে খেলতে খেলতেই তিনি উদ্ভাবন করেছিলেন।
কিন্তু ১৯৭৮ বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তাঁর। সেবার তাঁর দল উয়েফা ইউরোয় তৃতীয় হয়েছিল। এরপর বার্সেলোনায় ত্রুয়েফ ও তাঁর পরিবারকে অপহরণ করার চেষ্টা করে। এই ঘটনার পর ফুটবল খেলা থেকে সরে দাঁড়ান ক্রুয়েফ। কিন্তু ওই একটি বিশ্বকাপেই তিনি ও তাঁর দল যে ফুটবলটা খেলেছিল পরবর্তী বহু বছর ধরেই তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। আজও যে গল্প আমরা নাড়াচাড়া করছি। করব আগামিদিনেও।
