পুত্রসন্তানের মুখ দেখতে চলেছিলেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাস! ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেল অনাগত একরত্তি। এত বড় যন্ত্রণা বুকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন কোডি গাকপো। বুকের উপরে থাকা নেদারল্যান্ডসের পতাকার ভারটাও বইলেন সমানতালে। কিন্তু ফুটবল দেবতাও প্রসন্ন হলেন না ডাচ তারকার উপর। দুরন্ত গোল করেও বিশ্বকাপ স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল গাকপোর।
কাপযুদ্ধ শুরুর আগেই গাকপো এবং তাঁর বান্ধবী জানিয়েছিলেন, আগামী অক্টোবরে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান পৃথিবীর জন্মগ্রহণ করবে। কিন্তু জন্মের আগেই গর্ভাবস্থায় মারা গিয়েছে সেই সন্তান। জানা গিয়েছে, গাকপোর বান্ধবী নোয়া ভ্যান ডার বিজের গর্ভে পুত্রসন্তান ছিল। তবে অনাগত সন্তানের মৃত্যু হলেও বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চ ছেড়ে যেতে চাননি ডাচ তারকা। তাঁর জন্য ছুটিও মঞ্জুর করেছিল নেদারল্যান্ডসের টিম ম্যানেজমেন্ট।
সন্তানশোক সামলে উঠতে না উঠতেই বিশ্বকাপের মরণবাঁচন ম্যাচ। শনিবার মৃত্যু হয়েছে গাকপোর অনাগত পুত্রের। মঙ্গলবার ভোরেই জাতীয় কর্তব্যের টানে মাঠে নেমে পড়েন লিভারপুল তারকা। সম্ভবত সন্তানশোকে বিহ্বল থাকার কারণেই ম্যাচের অধিকাংশ সময়টা জ্বলে উঠতে পারেননি। তবে মরক্কোর বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ৩২র ম্যাচে নেদারল্যান্ডস একেবারেই দাঁড়াতে পারেনি। আগাগোড়া দাপট ছিল আশরাফ হাকিমিদের।৬৫ মিনিটের পর থেকে খানিকটা আক্রমণ দেখা যায় নেদারল্যান্ডসের। তখনই নেদারল্যান্ডসের উদ্ধারকর্তা হয়ে উঠলেন কোডি গাকপো। ৭২ মিনিটে তাঁর গোলে এগিয়ে যায় দল। গোল করেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন। সতীর্থরাও জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন গাকপোকে।
ডাচভক্তরা তখন ধরেই নিয়েছেন, পরের রাউন্ডে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস (Netherlands)। কিন্তু ফুটবল দেবতা অন্যরকম ভেবেছিলেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচের ফলাফল দাঁড়ায় ১-১। একস্ট্রা টাইম পেরিয়ে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। বিশ্বকাপ ডাচদের পেনাল্টিভাগ্য সাম্প্রতিক অতীতে একেবারেই ভালো নয়। গত তিনটে বিশ্বকাপের দু’টিতে খেলেছিল নেদারল্যান্ডস। প্রত্যেকবারই পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নেয় কমলা জার্সিধারীরা। এদিন মরক্কোর (Morocco) বিরুদ্ধেও বজায় থাকল সেই ব্যর্থতা। প্রথম শটটা গোলে ঠেলেও ডাচদের শেষরক্ষা হল না।
