ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিয়ে বিতর্ক থামার লক্ষণই নেই। বিশ্বকাপ-সহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলির বাণিজ্যিক স্বত্বের একাংশ বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এবার ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলি বিন হুসেইন। তাঁর দাবি, ফিফা সভাপতি বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার প্রাপ্য প্রাইজমানি আটকে রেখে চাপ সৃষ্টি করেছেন। এমনকী ভোটে জিততে 'ব্ল্যাকমেল'-ও করেছেন। এক বিবৃতিতে প্রিন্স আলি এই অভিযোগ করেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে সভাপতির পদ আঁকড়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমসে'র এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সভাপতির পদ ধরে রাখতে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠরা ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার কাছে তাঁর পক্ষে সমর্থনের আবেদন জানাচ্ছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি দেশই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনকী দীর্ঘদিনের বন্ধু সৌদি আরবও এ বিষয়ে কোনও অবস্থান স্পষ্ট করেনি। এরই মধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি জানান, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন জানালে জর্ডনের ফুটবল-সংক্রান্ত নানা সমস্যার সমাধানে ফিফা সাহায্য করবে বলে বিশ্বকাপ চলাকালীন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফাইল ছবি।
প্রিন্স আলির কটাক্ষ, "আগেও আমরা তাঁকে সমর্থন করিনি, এখনও করব না। পুরো বিষয়টি ব্ল্যাকমেলের শামিল। আমরা কোনও চাপের কাছে মাথা নত করব না।" কেবল তা-ই নয়, জর্ডনের ফুটবলপ্রধানের অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে কাতারে আয়োজিত ফিফা আরব কাপে রানার্সআপ হওয়ার পরও প্রাপ্য অর্থ এখনও মেলেনি। পাশাপাশি, বিশ্বকাপের টিকিট থাকা সত্ত্বেও জর্ডনের বহু সমর্থক আমেরিকার ভিসা পাননি। এমনকী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জর্ডনের প্রাইজমানির উপরও মার্কিন কর আরোপ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
বিষয়টা জানাজানি হতে ফিফার অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার জানিয়েছেন, বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করাটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, ওই পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকে কোনও ধারণাই ছিল না। অন্যদিকে, ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক ইমেলে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিকে 'দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়' বলেন। এদিকে ওয়েলস, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সার্বিয়া-সহ উয়েফার একাধিক সদস্য দেশ ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর প্রতি দেওয়া সমর্থনপত্র প্রত্যাহার করেছে। জোর গুঞ্জন, ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও শীঘ্রই এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে। আগামী বছরের মার্চে রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন। তার আগে এই বিতর্ক ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল বলেই মনে করছে ফুটবলমহলের একাংশ।
