ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে একটা কথা বলা হয়- এক বান্দা থা জো উইকেটকে পিছে সে ম্যাচ বদল দেতা থা। খেলাটা ব্যাট বনাম বলের। কিন্তু দু'টোর কোনওটাই না করে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে বোতলবন্দি করে ফেলতেন ক্যাপ্টেন কুল। ভারতীয় ফুটবলে সেই একই কথা বলা যেতে পারে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে (Antonio López Habas) নিয়েও। 'বুড়ো' হয়েছেন, তবু মগজাস্ত্রের ধার এতটুকু কমেনি। ঠিক সময়ে ঠিক চালটা দিয়ে এখনও বাজিমাত করতে ভোলেননি হেডস্যর।
দুই দফায় মোহনবাগানকে কোচিং করিয়েছেন স্প্যানিশ চাণক্য। পরিসংখ্যান বলছে, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে কখনও হারেননি মোহনবাগান কোচ হাবাস। ২০২০ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত পাঁচবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে খেলেছে হাবাসের সবুজ মেরুন শিবির। একবারও হার নেই। চারটে ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে ধুলোয় মিশিয়েছিল হাবাসের 'বোরিং' ফুটবল। শিল্পের ধার না ধেরে কার্যকরী ফুটবল খেলা, আর ম্যাচ জিতে আসা-এই দর্শনে আগাগোড়া আস্থা রেখেছেন হাবাস। মোহনবাগান কোচ থাকাকালীন ইস্টবেঙ্গলের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন।
মোহনবাগান ঘুরে এবার ইস্টবেঙ্গলে এসেছেন। আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। মোহনবাগানের মতো 'সেরা' ভারতীয় ফুটবলার নেই লাল-হলুদে। বিদেশিও প্রায় নেই বললেই চলে। তার উপর আবার কোচ হিসাবে প্রথমবার কলকাতা ডার্বি হার। ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচেই সবুজ-মেরুনের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে 'আত্মনির্ভর' ইস্টবেঙ্গল গড়ার দিকে মন দিয়েছেন হাবাস। ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ভরসা রেখেছেন 'অচেনা' এডমুন্ড লালরিনডিকার উপর। একের পর এক ম্যাচে গোল মিস হলেও দলের প্রতি আস্থা হারাননি হেডস্যর। সেই স্ট্র্যাটেজিই ফুল ফোটাল ডুরান্ড ফাইনালে। ২২ বছর পর লাল-হলুদ শিবিরে ঢুকল ডুরান্ডের ট্রফি, তার অন্যতম কারণ অবশ্যই স্প্যানিশ চাণক্যর মগজাস্ত্র।
মাঠে না থেকেও মাঠের প্রতিটা মুভমেন্ট যেন চলল হাবাসেরই ইশারায়। সবশেষে বলা যায়, ডার্বি আসে-ডার্বি যায়, জেতে শুধু একজন-হাবাসের মগজাস্ত্র।
রবিবারের যুবভারতীতে ধারেভারে মোহনবাগানকে এগিয়ে রেখেছিলেন হোসে ব্যারেটোর মতো প্রাক্তনীরা। তার প্রধান কারণ, সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের মান। মাঠের লড়াইয়েও অধিকাংশ সময় বল ছিল মনবীর সিং-আপুইয়াদের দখলে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে গেল সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। গোটা ডুরান্ডজুড়ে গোল নষ্টের প্রদর্শনী দেখিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ফাইনালে এসে বিপিং সিংরা ফিনিশ করতে ভুল করলেন না। গোল করার পাশাপাশি ক্লান্ত মোহনবাগানকে দৌড় করিয়ে একেবারে অকেজো করে দিলেন। মাঠে না থেকেও মাঠের প্রতিটা মুভমেন্ট যেন চলল হাবাসেরই ইশারায়। সবশেষে বলা যায়, ডার্বি আসে-ডার্বি যায়, জেতে শুধু একজন-হাবাসের মগজাস্ত্র।
