আইএসএলে চার্চিল ব্রাদার্সের অন্তর্ভুক্তির আবেদন নাকচ করল ফেডারেশনের কার্যকরী সমিতি। ফলে আইএসএলে দেখা যাবে চার্চিল ব্রাদার্সকে। ক্লাবগুলির গভর্নিং কাউন্সিলের চ্যাটারে সই করা-সহ চার্চিল ব্রাদার্সের এই মরশুমের আইএসএলে যোগদান নিয়ে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী কমিটির মিটিং ছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনে। চার্চিল না থাকায় সূচিতে যে অদলবদলের মারাত্মক প্রভাব পড়ত, তা হল না।
ক্লাবগুলি না চাইলেও চার্চিল ব্রাদার্সকে এই মরশুমে আইএসএলে ঢোকার জন্য কার্যকরী কমিটির মিটিং ডেকেছে ফেডারেশন। কিন্তু এমন সময় মিটিংটা ডাকা হয়েছিল, যার ঠিক দু’দিন পরে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরু হওয়ার কথা। ক্রীড়াসূচিও সম্পূর্ণ। এই অবস্থায় আইএসএল শুরুর দু’দিন আগে চার্চিল ব্রাদার্সের নাম প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত হলে পুরো ক্রীড়াসূচিটাই তো ঘেঁটে ‘ঘ’ হয়ে যেত।
চার্চিলকে শেষ মুহূর্তে আইএসএলে ঢোকানোর পিছনে ফেডারেশনের অসমর্থিত সূত্রে খবর হল, অনেক আগেই ফেডারেশন যেহেতু গত মরশুমের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে চার্চিল ব্রাদার্সের নাম ঘোষণা করে দিয়েছিল, তাই ক্যাসের নির্দেশে ইন্টার কাশীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে বাধ্য হলেও আইএসএলে চার্চিলকে ঢুকিয়ে পাপস্খলন করতে চাইছে ফেডারেশন। আগেরদিন কোরামের অভাবে ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির মিটিং না হলেও তিনজন সদস্য লিখিত আকারে জানিয়ে দেন, আইএসএলে চার্চিলকে সুযোগ দেওয়ার কথা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ফের ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছিল এই ইস্যুতে। সেখানে যদি চার্চিলকে এই মরশুমের আইএসএলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে যায়, তাহলে যে আইএসএলের কী হবে কেউ জানে না। প্রথমত পুরো ক্রীড়াসূচিটা ফের বদলাতে হবে। তাছাড়া আইএসএলের অন্য ক্লাবগুলিও চাইছে না, চার্চিল এভাবে পিছনের দরজা দিয়ে আইএসএলে ঢুকে পড়ুক। কারণ, এরকমটা হলে ফেডারেশন যে কোনওদিন যে কোনও দলকে আইএসএলে ঢুকিয়ে দেবে, আবার বাদও দিয়ে দিতে পারে। ক্লাবগুলি চার্চিলের যোগদান কিছুতেই মেনে নিতে চাইছে না।
তার উপর চার্চিলের আইএসএল নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ইন্টার কাশী গোয়াতে হোম গ্রাউন্ডও ঠিক করতে পারছে না। কারণ, ওড়িশায় মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না। ইন্টার কাশী তাই চেষ্টা করছে গোয়ার মাটিতে খেলার। কিন্তু গোয়া ফুটবল সংস্থা যতক্ষণ না, চার্চিলের আইএসএল খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইন্টার কাশীকে মাঠ দিতে পারছিল না। এখন আশা করা যাচ্ছে, এই সমস্যা মিটবে। তাছাড়াও মাঠের সমস্যায় ১৬ ফেব্রুয়ারি ভুবনেশ্বরে ওড়িশা এফসি এবং পাঞ্জাবের মধ্যে ম্যাচটি হচ্ছে না। পরে কবে, কখন ম্যাচটি হবে তা নিয়ে এখনই অবশ্য নতুন করে কিছু বলা হয়নি। অন্যদিকে, তার উপর ক্লাবগুলি আবার গভর্নিং কাউন্সিলের চ্যাটারে এখনও সই করেনি। যতক্ষণ না ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটিতে গভর্নিং কাউন্সিলের চ্যাটারের প্রস্তাব পাশ হয়, ততক্ষণ ক্লাবগুলি সই করছে না। সব মিলিয়ে আইএসএল শুরুর মুখেও নানা সমস্যা তৈরি হয়ে আছে।
