তিলোত্তমার বুকে আরও এক সাংস্কৃতিক মহোৎসবের পদধ্বনি। শহরের ব্যস্ত রাজপথ এবার সাক্ষী থাকবে এক অনন্য বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক যাত্রার। মানবতার চিরায়ত বার্তা নিয়ে কলকাতায় শুরু হতে চলেছে ‘ইন্ডিকা ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। এই উৎসবের মূল ভাবনা— ‘দ্য ভিশন ইন কন্টিনিউম: এ সাগা অফ বর্ডারলেস হিউম্যানিটি’। ভারতীয় সভ্যতার সুপ্রাচীন জ্ঞান ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়াই এর লক্ষ্য।
ইন্ডাস ব্যান্ড ফাউন্ডেশন ও ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আগামী ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি কলকাতা প্রেস ক্লাবে হয়ে গেল উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা। ওই অনুষ্ঠানেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্যকে ‘মানবতা সম্মান গ্লোবাল ২০২৬’ এবং ‘এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করা হয়। একইভাবে সম্মানিত করা হয়েছে বিশিষ্ট তবলা শিল্পী পণ্ডিত তন্ময় বসুকেও।
ইন্ডিকা ফেস্টিভ্যালের কর্ণধার সোমালী পান্ডা জানান, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতীয় জ্ঞানপ্রথা ও আধ্যাত্মিকতার দীর্ঘমেয়াদি এক যাত্রা। নতুন প্রজন্মের কাছে ভারতের ঐতিহ্যকে আধুনিক আঙ্গিকে পরিবেশন করাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের তরফে সুমন্ত রুদ্র বলেন, অ্যাকাডেমিক চর্চা ও শিল্পকলার সমন্বয় ঘটিয়ে ভারতীয় জ্ঞানকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চান তাঁরা।
দু’দিনের এই বর্ণিল সূচিতে থাকছে ঠাসা আয়োজন। শাস্ত্রীয় ও লোকগীতি থেকে শুরু করে সমকালীন সঙ্গীত, নৃত্য এবং পারফরম্যান্স আর্ট— সবেরই স্বাদ পাবেন দর্শকরা। থাকছে কবিতা পাঠ ও মনোলগ। শুধু গান-নাচ নয়, গভীর ভাবনার প্যানেল আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়াও ফটোগ্রাফি, হস্তশিল্প এবং কারুশিল্পের প্রদর্শনীও থাকবে উৎসব প্রাঙ্গণে। আয়োজকদের আশা, সুর আর সংস্কৃতির টানে মানুষের মধ্যে গড়ে উঠবে সহমর্মিতা ও ঐক্যের সেতুবন্ধন।
